শুক্রবার ১৮ জুন ২০২১



হেফাজতের কমিটি: নতুন বোতলে পুরনো মদ


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
07.06.2021

নিউজ ডেস্ক: দেশব্যাপী তাণ্ডবের পর নানামুখী চাপে কমিটি ভেঙে দিলেও পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হয়ে আসার পর আবারও কমিটি ঘোষণা করেছে বিতর্কিত সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। সোমবার বেলা ১১টায় রাজধানীর খিলগাঁওয়ের মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় সংবাদ সম্মেলন করে কেন্দ্রীয় হেফাজতের ৩৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটিতে জুনাইদ বাবুনগরীকে আমির এবং নুরুল ইসলাম জিহাদীকে মহাসচিব করা হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে দেশে নারকীয় তাণ্ডবে নেতৃত্বদানকারী এবং নারী কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত সংগঠনের গত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মামুলুল হক, আজিজুল হক ইসলামাবাদী, জুনায়েদ আল হাবিব ও মুনির হোসেন কাসেমীকে বাদ দিয়ে কমিটি করা হলেও নতুন কমিটিতে স্থান পেয়েছেন তাণ্ডবকারী অনেক নেতা। তাদের মধ্যে আছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তান্ডবকারী দুই নেতা জেলা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মাওলানা সাজিদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মুফতি মোবারক উল্লাহ। জানা গেছে, সাংগঠনিক কৌশলের অংশ হিসেবে মামুনুল হকদের বাদ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূলে আসলে এসব নেতাকে আবারও হেফাজতের নেতৃত্বে আনা হবে।

নরেন্দ্র মোদির ঢাকা আগমনকে কেন্দ্র করে গত ২৬ মার্চ ও পরবর্তী সময়ে হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের প্রেক্ষিতে দেশব্যাপী হেফাজতের নেতাদের গ্রেপ্তার ও নানামুখী চাপে গত ২৫ এপ্রিল হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর সরকারের সাথে দর কষাকষির চেষ্টা চালায় হেফাজতের নেতারা। কিন্তু রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের দায়ে হেফাজত নেতাদের বিচারে সরকার অটল থাকায় ভিন্ন কৌশল নেট হেফাজতে ইসলাম। তারা প্রচার করতে থাকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সংগঠনের নেতৃত্বে আনা হবে না। তারই অংশ হিসেবে আজ নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করল সংগঠনটি। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা যা আশঙ্কা করেছিলেন তাই ঘটেছে। ঢাকার তাণ্ডবে নেতৃত্ব দেওয়া নেতাদের কমিটিতে না রাখলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহিংসতার ঘটনায় আলোচিত দুই নেতা জেলা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মাওলানা সাজিদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মুফতি মোবারক উল্লাহ কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেয়েছেন।

জানা গেছে, ঘোষিত ৩৩ সদস্যের কমিটিতে মাওলানা সাজিদুর রহমান যুগ্ম মহাসচিব ও মুফতি মোবারক উল্লাহ প্রথম সদস্য পদে স্থান পেয়েছেন। এর মধ্যে সাজিদুর রহমান হেফাজতের আগের কমিটিতে কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ছিলেন। এই দুইজনের নেতৃত্বে মার্চ মাসের তিন দিন (২৬-২৮ মার্চ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরজুড়ে তাণ্ডব চালানো হয়। ডিসি অফিস, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, বিভিন্ন সরকারি অফিস, আওয়ামী লীগের কার্যালয়, নেতাদের বাড়িঘর, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, প্রেসক্লাবের হামলা এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়। ওই তাণ্ডবে জেলায় ১৫ জন নিহত হন। এখন পর্যন্ত এসব ঘটনায় ৫৬টি মামলা হয়েছে।

হেফাজতের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মঈনুদ্দীন রুহী বলেন, এই কমিটি অনেকটা নতুন বোতলে পুরনো মদ ভরার মতই। আল্লামা শফিকে হত্যার নির্দেশদাতা জুনাইদ বাবুনগরী আগের মতই আমির হিসেবে রয়েছেন কমিটিতে। আল্লামা শফিকে হত্যার আরেক নির্দেশদাতা মামুনুল হককে বাদ রাখা হয়েছে কৌশলের অংশ হিসেবে। সময়মত তাকেও অন্তর্ভুক্ত করবে এই খুনীরা। আল্লামা শফির অনুসারীদের বাদ দিয়ে জুনাইদ বাবুনগরী এবং মামুনুল হকের অনুসারীদের দিয়েই আবারও কমিটি গঠন করা হল। এর আগে কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল কৌশলের অংশ হিসেবে। হেফাজত নামে দাবি করলেও এটা মূলত জুনাইদ বাবুনগরী এবং মামুনুল হকের পকেট কমিটিই গঠন করা হয়েছে। সারা দেশের আলেমরা এই কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এদিকে নতুন কমিটিতে হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমির শাহ আহমদ শফীর বড় ছেলে ইউসুফ মাদানীকে সহকারী মহাসচিব হিসেবে ঘোষণা করা হলেও তিনি এই পদ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। গণমাধ্যমে পাঠানো ইউসুফ মাদানীর হাতে লেখা বিবৃতিতে হেফাজতের নতুন কমিটিকে ‘তথাকথিত’বলে উল্লেখ করা হয়। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটিতে আমার নাম দেখে আমি মর্মাহত। অতএব যে বা যাহারা আমার পিতাকে কষ্ট দিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় দিয়েছেন তাদের সঙ্গে আমি কখনও এক হতে পারি না। শফীপুত্র বলেন, আজকের ঘোষিত তথাকথিত হেফাজতের কমিটি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি