শুক্রবার ২৫ জুন ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » ‘ঈদের পরে আন্দোলন’ শেষ, ‘যে কোন সময় আন্দোলন’ শুরু!



‘ঈদের পরে আন্দোলন’ শেষ, ‘যে কোন সময় আন্দোলন’ শুরু!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
08.06.2021

নিউজ ডেস্ক: ফেসবুক থেকে শুরু করে বন্ধুদের আড্ডা–সব জায়গায় একসময় তুমুল ব্যবহৃত বাক্য ছিল ‘ঈদের পরে আন্দোলন’। বিএনপি নেতারা সরকার পতনের আল্টিমেটাম দিতে গিয়ে এই বাক্যটি একসময় বিভিন্ন বক্তব্যে নিয়মিত বলতেন। এরপর অনেক ঈদ গেলেও বিএনপির সেই আন্দোলনের দেখা পাওয়া যায়নি। ফলে একসময় বিএনপির নেতাদের আল্টিমেটাম হিসেবে ব্যবহৃত এই বাক্য জনগণের কাছে হাসির খোরাকে পরিণত হয়। জনগণের কাছে হাসির পাত্রে পরিণত হওয়ার পর বিএনপি নেতারা এই বহুল আলোচিত বাক্যটি ইদানীং আর ব্যবহার করেন না। এখন নতুন করে আরেকটি কথা বলা শুরু করেছেন বিএনপির নেতারা। গত কয়েক মাস ধরে প্রায় সভা-সমাবেশে বিএনপির নেতারা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলছেন, আপনারা প্রস্তুত থাকুন, যে কোনো সময় আন্দোলনের ডাক আসবে। কিন্তু সেই সময় কবে সেটি নির্দিষ্ট করে কেউ বলছেন না। ফলে বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি সম্ভবত অনন্তকালের কথাই বলছে, বাস্তবে যেটা কোনদিনই আসবে না।

জানা গেছে, ঈদের পরে আন্দোলনের ডাক আসবে এই কথা বলতে বলতে একসময় বিএনপি নেতারা ক্লান্ত হয়ে পড়েন। সেই সাথে জনগণের কাছে হাসির পাত্রে পরিণত হওয়ায় দলের ভেতরে ভেতরে এই কথার বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়। কিন্তু খালেদা জিয়া কিংবা তারেক রহমানের অনুমতি ছাড়া এই কথাটি বাদ দিতেও পারছিলেন না নেতারা। তাই অনেকটা ইচ্ছার বিরুদ্ধে কয়েক বছর ধরে ঈদের পরে আন্দোলনের কথা বলেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। একপর্যায়ে বিএনপির বুদ্ধিজীবী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিষয়টি নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের সাথে কথা বলেন। তারপর ডা. জাফরুল্লাহ মির্জা ফখরুলকে বলেন, ‘ঈদের পরে আন্দোলন’ — এই স্লোগানটি বাদ না দিলে বিএনপির পক্ষে জনসম্মুখে কথা বলাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে, সবাই হাসি-ঠাট্টা করে। তিনি মির্জা ফখরুলকে নতুন একটা নতুন স্লোগানের পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শ অনুয়ায়ীই এখন বিএনপি নেতারা ‘যে কোন সময়’ আন্দোলনের ডাক আসার কথা বলে কর্মীদের চাঙ্গা করছেন।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিএনপির ২০১৩-১৪ সালের আন্দোলন ব্যর্থ হয়ে যাওয়ায় ওই সময়ের স্লোগানের আসলে এখন কার্যকারিতা নেই। আর আমরা মাঠে বিএনপির পক্ষে কথা বলতে গিয়ে দেখেছি ‘ঈদের পরে আন্দোলন’ — এই কথা নিয়ে অনেকেই হাসাহাসি করে। তাই ভাবলাম বিএনপির এই স্লোগানটা পরিবর্তন করা জরুরি। এই ভেবে তাদের মহাসচিবকে পরামর্শ দিলাম। ফখরুল সাহেব মনে হয় পরে তারেক রহমানের সাথে কথা বলে, নতুন রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ‘যে কোন সময় আন্দোলন’ শুরুর কথা বলছেন। বিষয়টি একদিক দিয়ে ঠিক মনে করি আমি। আন্দোলনে একবার ব্যর্থ হলে পরেরবার যে সফল হবে না তা তো না। আর আন্দোলন তো আসলে সময় বেধে দিয়ে হয় না, সেটা এক বছর, পাঁচ বছর কিংবা দশ বছরেও হতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির উচিত কর্মীদের সবসময় প্রস্তুত রাখা।

মির্জা ফখরুল বলেন,জাফরুল্লাহ ভাই আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী। তিনি প্রায়ই বিএনপির সমালোচনা করেন, তবে ভালো পরামর্শও দেন। আমরা এক সময় রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ঈদের পরে আন্দোলনের কথা বলতাম। স্লোগানটাও পুরনো হয়ে যাওয়ায় অনেকেই পরিবর্তনের কথা বলছিলেন। আর আন্দোলন তো সময় বেঁধে দিয়ে হয় না। যে কোন সময় আন্দোলনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। জনগণ বিক্ষুব্ধ। তাই কর্মীদের সবসময় প্রস্তুত রাখতে আমরা আন্দোলনের কৌশল হিসেব নতুন স্লোগান ঠিক করেছি।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি