শুক্রবার ২৫ জুন ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 4 » মায়ের অসুখ নিয়ে মাথাব্যাথা নেই তারেকের



মায়ের অসুখ নিয়ে মাথাব্যাথা নেই তারেকের


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
09.06.2021

নিউজ ডেস্ক: গত এক সপ্তাহে তারেক জিয়া বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলের সঙ্গে বৈঠক করছেন। এসব বৈঠকে হেফাজত সামনে আন্দোলন এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন বলে বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন। কিন্তু এসব কোনো বৈঠকেই বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে তারেক জিয়া কোনো মন্তব্য করেননি।

শুধু তৃণমূলের সঙ্গে বৈঠকও নয়, এই কয়েকদিনে তারেক জিয়া বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেছেন, কথাবার্তা বলেছেন। কিন্তু এই সমস্ত কোনো আলাপ-আলোচনা কথাবার্তাতেই তিনি বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে কোনো কথা বলেননি। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে যে, তারেক জিয়া তার মামা শামীম ইস্কান্দারের সঙ্গে গত এক সপ্তাহ ধরে কথা বলেননি।

তবে বেগম খালেদা জিয়ার পারিবারিক সূত্রগুলো বলছে যে, তারেক জিয়ার স্ত্রী জুবাইদা হাসপাতালে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন, চিকিৎসকদের সাথে কথাবার্তা বলেন এবং খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিভিন্ন দিক নিয়ে অনলাইনে বৈঠক করছেন। তবে তারেক জিয়া খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে কোনোরকম তৎপরতা দেখাচ্ছেন না। এটি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তারেক জিয়ার যে স্নায়ু ঠান্ডার লড়াই তার একটি ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন।

গত কিছুদিন ধরেই বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তারেক জিয়ার সম্পর্কের টানাপোড়েনের খবর শোনা যায় বিএনপির বিভিন্ন মহল থেকে। আরে টানাপোড়নের চূড়ান্ত রূপ পাওয়া যাচ্ছে এখন খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সময়। বেগম খালেদা জিয়া এক মাসের বেশি সময় ধরে এভারকেয়ার হাসপাতালে রয়েছেন।

অতি সম্প্রতি তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে সিসিইউ থেকে কেবিনে নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু এই সময় সন্তান হিসেবে যে মায়ের নিয়মিত খোঁজখবর নেয়া এবং করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা প্রদান করা ইত্যাদি কোন কিছুই তারেক জিয়া করছেন না। এমনকি যখন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার গুঞ্জন উঠেছিল, তার ভাই শামীম ইস্কান্দার যখন বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছিলেন সেই সময়ও তারেক জিয়া তৎপরতা চোখে পড়েনি।

শুধু বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, বেগম খালেদা জিয়া যদি লন্ডনে যান তবে তার চিকিৎসার বিষয়গুলো তারেক জিয়ার দেখভাল করবে। কিন্তু লন্ডনে একাধিক সূত্র বলছে যে, এ সময় তারেক জিয়া উদাসীন ছিলেন। তার স্ত্রী জোবায়দা যিদি পেশায় একজন চিকিৎসক, তিনি নিজেই হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের সাথে কিছুটা যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানা গেছে।

বিএনপির একাধিক নেতা বলছেন যে, জােবায়দা যোগযোগ করেন একজন চিকিৎসক হিসেবে। যেহেতু তিনি বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থ্যতার বিষয়গুলো সম্পর্কে ঠিকঠাক মত জানেন, সে জন্যই তিনি এই যোগাযোগটা করেন এবং চিকিৎসকদেরকে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেন।

কিছু কিছু চিকিৎসা ক্ষেত্রে একাধিক সুযোগ আছে, কোন সুযোগটা ব্যবহার করা হবে বা কোন ধরনের ওষুধ দিলে কি প্রতিক্রিয়া হবে সেসব নিয়ে চিকিৎসকরাও চান একজন চিকিৎসক আত্মীয়`র সাথে পরামর্শ করতে। সেই কাজটি জোবায়দা করছেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া বড় পুত্র হিসেবে তার কি অবস্থা, তার চিকিৎসার পরিণতি কী হবে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কথা বার্তা বলার ক্ষেত্রেও তারেক জিয়া এক ধরনের অনীহা দেখান এবং তিনি এ ব্যাপারে কোনো রকম দায়িত্ব পালন করছেন বলে মনে করেন না বিএনপি নেতৃবৃন্দ।

একাধিক সূত্র বলছে যে, বেগম খালেদা জিয়ার যে সম্পত্তি সেই সম্পত্তির ভাগ বাটোয়ারা এবং বিএনপি`র নেতৃত্বে নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব এ দুটি বিষয় নিয়ে মা ছেলের মধ্যে বহুদিনের দ্বন্দ্ব। সেই দ্বন্দ্ব এখন আরও চূড়ান্ত রূপ গ্রহণ করেছে। আর সে কারণেই হয়তো তারেক জিয়া খোঁজ খবর নিচ্ছে না। তবে বিএনপিতে তারেকপন্থীরা এসব অভিযোগ নাকচ করে দেন।

তারা বলেন যে, ডা. জোবায়দা খোঁজ-খবর নিচ্ছেন, এটিই তারেক জিয়ার খোঁজ-খবর এবং প্রতি মুহূর্তে তারা বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আপডেট নিচ্ছেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি