বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » আরও ৪৬ হেফাজত নেতার ব্যাংক হিসাব তলব, আতঙ্কে বিএনপি!



আরও ৪৬ হেফাজত নেতার ব্যাংক হিসাব তলব, আতঙ্কে বিএনপি!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
09.06.2021

ডেস্ক রিপোর্ট: মাদ্রাসাছাত্রদের জন্য সাহায্য চেয়ে দেশ-বিদেশ থেকে আনা টাকা দিয়ে দেশে সহিংসতা চালানো হেফাজতে ইসলামের নেতাদের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে হেফাজতের আরও ৪৬ জন নেতার ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এর আগে গত এপ্রিলে হেফাজতের আমির জুনায়েদ বাবুনগরীসহ সংগঠনটির শীর্ষ পর্যায়ের ৫৪ নেতার ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছিল সন্ত্রাসে অর্থায়ন ও অর্থ পাচার প্রতিরোধে কাজ করা বিএফআইইউ। এদিকে নতুন করে হেফাজত নেতাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়ায় বিএনপির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা আতঙ্কে ভুগছেন বলে জানা গেছে।

বিএফআইইউয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, গোয়েন্দা সংস্থা এই হেফাজত নেতাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে। কোথা থেকে কী উদ্দেশ্যে টাকা এসেছে এবং কোথায় খরচ হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। তাদের নামে ব্যাংক হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি, লেনদেন বিবরণী, কার্ড লেনদেনসহ যাবতীয় তথ্য চাওয়া হয়েছে। একইসাথে হেফাজত নেতাদের সাথে বিএনপির কয়েকজন নেতার ব্যাংক লেনদেনের বিষয়েও তদন্ত করবে গোয়েন্দারা।

জানা গেছে, ২০১৩ সালে হেফাজতের আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে বিএনপি-জামায়াত সরকার পতনের যে চেষ্টা করেছিল এবারও ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকে কেন্দ্র করে একই কৌশল নেয় স্বাধীনতাবিরোধী জোটটি। যদিও এবার প্রকাশ্যে সমর্থন না দিয়ে গোপনে হেফাজতের ব্যানারে মাঠে নেমে সহিংসতা চালায় বিএনপি-জামায়াত। সেসময় লন্ডন এবং পাকিস্তান থেকে হেফাজত নেতাদের নামে বিশাল অংকের টাকা আসে। যার বেশিরভাগই অবৈধ উপায়ে আসলেও, কিছু টাকা হেফাজত নেতাদের ব্যাংক একাউন্টে যোগ হয়। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, লন্ডন থেকে হেফাজতের নেতাদের একাউন্টে আসা এসব টাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পাঠিয়েছেন। আর দেশ থেকেও বিএনপির কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতাও টাকা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এবং বিএনপি নেতা প্রভাবশালী ব্যবসায়ী আবদুল আউয়াল মিন্টু। বিএফআইইউ নতুন করে হেফাজতের ৪৬ নেতার ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়ার পর থেকেই আতঙ্কে আছেন বিএনপির এসব নেতা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, হেফাজত নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের কথা শুনেছি। কারও একাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেন হলে বিএফআইইউ সেটার তদন্ত করে। কিন্তু বিএনপির কয়েকজন নেতার একাউন্টও এর আওতায় আসার খবরে আমি বিস্মিত হইনি। আমরা বলি বিএনপি মুক্তিযোদ্ধাদের দল, কিন্তু কার্যত রাজাকারদের দল জামায়াতের সাথে আমাদের রাজনৈতিক জোট আছে, ২০১৩ সালেও বিতর্কিত হেফাজতকে সমর্থন দেওয়া হয়েছিল। এসব ঘটনায় বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। বিএনপি একটি বড় দল, ধর্মীয় এসব ছোটখাটো দলের সমর্থন ছাড়াই আমাদের ক্ষমতায় যাওয়ার মত শক্তি আছে। কিন্তু দলের একটা অংশ স্বাধীনতাবিরোধীদের সমর্থনে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। তারাই হয়ত হেফাজত নেতাদের সাথে লেনদেন করে থাকতে পারেন। জঙ্গিবাদী এসব দলের সাথে সম্পর্কের কারণে বিএনপি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, আমরা যাই বলি না কেন স্বাধীন দেশের তরুণসমাজ এসব স্বাধীনতাবিরোধীদের বর্জন করেছে। আমাদের উচিত নিজেদের শক্তিতে আন্দোলন করা, জনগণের কাছে যাওয়া। এছাড়া বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন আরও দূরে সরে যাবে।

হেফাজত নেতাদের সাথে টাকা লেনদেনের বিষয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, আমি রাজনীতি করলেও ব্যবসায়ী হিসেবে বিভিন্ন সময় মাদ্রাসায় দান-খয়রাত করি। কিন্তু সরাসরি হেফাজতের নেতাদের টাকা দেইনি। দলের চাঁদা হিসেবে লন্ডনে তারেক সাহেবকে প্রায় সময়ই টাকা পাঠাই। সেসব টাকা কিভাবে খরচ হয়, সে বিষয়ে আমার কোন ধারণা নেই। আমার পাঠানো টাকা বিএনপির কাজে বাদে হেফাজতের নেতাদের দেওয়া হলে সেটা দুঃখজনক।

 



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি