বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » খালেদার চিকিৎসা : মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি!



খালেদার চিকিৎসা : মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
11.06.2021

ডেস্ক রিপোর্ট: দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত ১১ এপ্রিল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। কোভিড পরবর্তী জটিলতা নিয়ে খালেদা জিয়া ২৭ এপ্রিল রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। শ্বাসকষ্ট অনুভব করায় গত ৩ মে থেকে হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করানো হয়। এরপর অবস্থার উন্নতি হলে গত ৪ জুন থেকে তাকে হাসপাতালের কেবিনে নিয়ে আসা হয়। তখন থেকেই চিকিৎসকরা বলছেন, বেগম জিয়া বিপদমুক্ত, দেশের হাসপাতালেই তার সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার সকল সুযোগ আছে। এদিকে খালেদা জিয়ার অবস্থার উন্নতি হলেও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাকে বিদেশ পাঠাতে তোড়জোড় শুরু করেছেন। যেখানে ছেলে হয়েও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য কিছু বলছেন না, সেখানে মির্জা ফখরুলের এত উদ্বেগের কারণ কী? বিষয়টি নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে নানা আলোচনা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার বলেন, আপার করোনা ধরা পড়লে যখন পরিবারের পক্ষ থেকে বিদেশ নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তখন মির্জা ফখরুল সাহেবকে বলেছিলাম, দলের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আবেদন করতে। তখন তিনি মামলার অজুহাত দেখিয়ে কোন উদ্যোগ নেননি। এখন যখন আপার অবস্থার উন্নতি হয়েছে, তখন তাকে বিদেশে পাঠাতে ফখরুল সাহেবের এত তোরজোড়ের কারণ বুঝতে পারছি না। বিষয়টি রহস্যজনক লাগছে।

সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই মির্জা ফখরুলের কর্মকাণ্ড রহস্যজনক। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতেও তিনি তেমন জোরালো ভূমিকা রাখেননি। দলের সিনিয়র নেতাদের অনেকেরই আশঙ্কা, মির্জা ফখরুল খালেদা জিয়া এবং তারেকের অনুপস্থিতিতে বিএনপির চেয়ারম্যান হওয়ার চেষ্টা করছেন। সেই লক্ষ্যেই প্রথমে খালেদাকে বিদেশে নিতে তিনি দলের পক্ষ থেকে কোন উদ্যোগ নেননি। তারেক রহমান লন্ডনে, করোনায় খালেদার মৃত্যু হলে বিএনপিতে ছড়ি ঘুরাতে পারবেন, এই চিন্তা থেকেই তখন বিদেশযাত্রায় কোন উদ্যোগ নেননি মির্জা ফখরুল। এখন দেশের হাসপাতালেই খালেদার স্বাস্থ্যের উন্নতি হওয়ায় চিন্তায় পড়ে গেছেন ফখরুল। তাই আবার খালেদাকে বিদেশে পাঠাতে উদগ্রীব হয়ে উঠেছেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ম্যাডামকে জেলে নিয়ে গেলে আমি রাতদিন রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু মির্জা ফখরুল এসিতে বসে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তখন থেকেই তার ভূমিকা রহস্যজনক। এখন ম্যাডামের চিকিৎসা নিয়ে তার তৎপরতায় মনে হচ্ছে, মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি। যেখানে আমাদের নেতা তারেক রহমান তার মাকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার কথা বলছেন না, সেখানে মির্জা ফখরুল সাহেবের এত তোড়জোড় কেন? তিনি কি বিএনপিকে কব্জা করতে চান? বিষয়টি নিয়ে তারেক রহমানের সিরিয়াস চিন্তা করা উচিত উল্লেখ করে রিজভী বলেন, মির্জা ফখরুলের মত রহস্যজনক লোককে বিএনপির এত বড় পদে রাখা উচিত নয়। দলের ক্ষতি এড়াতে ত্যাগী একজন নেতাকে বিএনপির মহাসচিব করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।

 

 

 



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি