শুক্রবার ১৮ জুন ২০২১



রিজভীর শূন্যস্থানে ফখরুল


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
12.06.2021

নিউজ ডেস্ক: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রুহুল কবির রিজভীকে বলা হয় একালের গোয়েবলস। তিনি সবসময় কথায় মুখোর থাকেন। যখন বিএনপি`র কোন রাজনীতি নেই, বিএনপিতে যখন হতাশা, বিভক্তি এবং গন্তব্য নিশ্চয়তা তখন রুহুল কবির রিজভী এমন শব্দ বোমা ছারতেন যাতে মনে হতো যে বিএনপি বোধহয় কালকেই ক্ষমতা দখল করবে বা খুব শিগ্রই বোধহয় বিএনপি বড় ধরনের সরকারবিরোধী আন্দোলন করে দেশকে অচল করে দেবে। কিন্তু অসুস্থ হয়ে রুহুল কবির রিজভী এখন শয্যাশায়ী।

দীর্ঘদিন ধরে তার অমিত বচন মানুষ শুনছে না। আর এই শূন্যস্থান পূরণ করতে মাঠে নেমেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে একজন সজ্জন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সবাই জানত। বিশেষ করে পরিমিত কথা, দায়িত্বশীল বক্তব্যের জন্য তিনি প্রশংসিত হয়েছিলেন, আলোচিত হয়েছিলেন। অনেক সময় বলা হতো যে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্বশীল আচরণের জন্যই বিএনপি এখনও টিকে আছে।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে রুহুল কবির রিজভীর অনুপস্থিতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই যেন রুহুল কবির রিজভী হয়ে গেছেন। এখন তিনি যে সমস্ত কথাবার্তা বলছেন, তা লাগামছাড়াই শুধু নয়, অনেক ক্ষেত্রে হাস্যকরও বটে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিনি রুহুল কবির রিজভীকেও হার মানিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি`র অধিকাংশ নেতা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। বিএনপির নেতারা কেউই কোনো কথা বলছেন না। কিন্তু এই সময় বিএনপি মহাসচিবই যেনো দলের একমাত্র মুখপাত্র। আর তিনি নিয়মিত কথা বলতে গিয়ে কথার খেই হারিয়ে ফেলছেন। কোন প্রসঙ্গে কি বলতে হবে সেটিও যেন তিনি আর বুঝতে পারছেন না। এক রকমের বাচাল প্রবণতা তাকে পেয়ে বসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি একের পর এক লাগামহীন কথাবার্তা বলে আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছেন।

গত কিছুদিন ধরে তিনি জিয়া কেন্দ্রিক কথাবার্তা বলছেন এবং সেই কথাবার্তাগুলো একটি সঙ্গে আরেকটি সামঞ্জস্যহীন খাপছাড়া। প্রথমে তিনি বললেন যে, জিয়ার আদর্শের চর্চা বিএনপিতে হচ্ছে না। বিএনপি জিয়ার আদর্শ থেকে দূরে সরে গেছে। আবার দু`দিন পরেই তিনি বললেন, জিয়াকে নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার ইতিহাস বিকৃতি করছে। জিয়াকে তো এখন স্বাধীনতার ঘোষক বা শহীদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে আওয়ামী লীগ স্বীকারই করে না। বরং তাকে পাকিস্তানের এজেন্ট বানিয়ে ফেলা হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই বক্তব্য রেখে নিজেই যে ইতিহাসবিকৃতি করলেন, সেটি কে বলবে। কারণ জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসেছিলেন সংবিধান লংঘন করে অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। তিনি প্রথম সেনাপ্রধান ছিলেন যিনি সামরিক পোশাকে নির্বাচন করেছেন, যা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। জিয়াউর রহমানই প্রথম ব্যক্তি যিনি ভোট কারচুপি, ভোট ডাকাতির এক সীমাহীন নজির স্থাপন করেছিলেন। জিয়াউর রহমান যে রাষ্ট্রপতি ছিলেন না সেটি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে মীমাংসিত। ওই রায়ে পঞ্চম সংশোধনীকে অবৈধ বলা হয়েছে এবং ঐ সময়কার সমস্ত কর্মকাণ্ডকে বেআইনি বলে ঘোষণা করা হয়েছে। আর সেই জিয়াউর রহমানের জয়গান তিনি কীভাবে করেন সেটি বড় বিষয়।

সাম্প্রতিক সময়ে মানুষের সামনে অনেক অনিশ্চয়তা, অনেক ইস্যু। করোনার প্রকোপ বেড়ে যাচ্ছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সামাজিক অপরাধ বাড়ছে, তরুণরা মাদকাসক্তিতে আক্রান্ত হচ্ছে এ সমস্ত ইস্যু নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কথা নেই। তিনি এখন ইতিহাস নিয়ে ঘাটাঘাটি করছেন। অপ্রাসঙ্গিক বিষয় এনে কার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছেন মির্জা ফখরুল সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। নাকি বিএনপিতে লাগামহীন কথাবার্তা বললেই ভালো পদ পদবী পাওয়া যায়।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি