বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » তারেকই বিএনপির প্রধান, নিরুপায় হয়ে পড়েছেন খালেদা



তারেকই বিএনপির প্রধান, নিরুপায় হয়ে পড়েছেন খালেদা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
12.06.2021

নিউজ ডেস্ক: ছেলে তারেক রহমানের সীমাহীন দুর্নীতি ও বেপরোয়া চলাফেরার কারণে জীবনের অন্তিম মুহূর্তে এসে নিরুপায় হয়ে পড়েছেন এক সময়ের বিএনপির কাণ্ডারি খালেদা জিয়া। তিনি এখন শুধুমাত্র নামেই বিএনপি চেয়ারপার্সন, আর তারেক রহমান এখন বিএনপির প্রধান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিএনপিতে যারা তারেকপন্থী হিসেবে পরিচিত, তারেকের একান্ত অনুগত এবং বিশ্বস্ত তাদেরই জয়জয়কার। তারাই মূলত বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। যারা তারেকপন্থী হিসেবে বিবেচিত নন এবং তারেকের আস্থাভাজন ব্যক্তি নন তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ভূমিকাহীন। তাই এখন স্থায়ী কমিটি বা কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ে যারা তারেকপন্থী তারাই দলের প্রাণ।

সূত্র জানায়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব এবং বাংলাদেশে তারেকের মুখপাত্র। তারেক যা বলেন যেভাবে নির্দেশ দেন সেভাবে তিনি দল পরিচালনা করেন। আর এটি করতে গিয়ে দলে তিনি এখন ব্যাপক সমালোচিত। তাতে কিছুই আসে যায় না। দলে সমালোচিত হলেও তারেকের আস্থাভাজন হওয়ার কারণে তিনি ক্ষমতাবান এবং দলের স্থায়ী কমিটি বা কেন্দ্রীয় কমিটির বাইরে তিনি সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।

নজরুল ইসলাম খান বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেকজন সদস্য। বিএনপিতে তার ভূমিকা কি? বা তার অবদান কি? এ নিয়ে দলের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে, তবে তিনিও তারেকের একান্ত অনুগত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত হাওয়ায় বিএনপিতে তার অবস্থান চিরসবুজ। মূলত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং নজরুল ইসলাম খানই স্থায়ী কমিটিতে তারেক জিয়ার দুই প্রতিনিধি, যারা বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখেন।

তারেকপন্থী রুমিন ফারহানা বিএনপিতে হঠাৎ আলোর ঝলকানির মতো। মূলত তারেক জিয়ার পৃষ্ঠপোষকতায় এবং আশীর্বাদের রুমিন ফারহানা মহিলা কোটায় এমপি হয়েছেন। এখন তিনি বিএনপির হুইপও হয়েছেন। বিএনপির অঘোষিত নীতিনির্ধারক হিসেবে রুমিন ফারহানাকে মনে করা হয়। এটি মনে করার পেছনে প্রধান হলো তারেক জিয়ার আনুকূল্যে এবং তারেকের কারণেই তিনি এখন বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা।

খোকাপুত্র ইশরাক হোসেন। তিনি রাজনীতিতে আলোচনায় এসেছেন গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে। এখন ঢাকা মহানগরীর রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র ইশরাক হোসেন এবং এটি সম্ভব হয়েছে তারেক জিয়ার কারণে। সাদেক হোসেন খোকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার পর ঢাকা মহানগরীর রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতেন মির্জা আব্বাস। কিন্তু মির্জা আব্বাসের কর্তৃত্ব আধিপত্য এখন লুপ্তপ্রায়। তার এখানে পুরো কর্তৃত্ব নিয়েছেন তারেক জিয়া ও তার অনুগ্রহপুষ্ট ইশরাক হোসেন। এরই মধ্যে নেতাকর্মীদের মধ্যেও ইশরাকের জনপ্রিয়তা বেড়েছে।

বার বার পরাজিত তাবিথ আউয়াল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুর পুত্র। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচনে দুইবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। দুইবারই তিনি পরাজিত হয়েছেন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচনেও তিনি পরাজিত হয়েছেন। কিন্তু তারেকের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের তিনি অন্যতম। এজন্য তিনি বিএনপিতে প্রভাবশালী।

মূলত তারেকপন্থীরাই এখন বিএনপিতে ক্ষমতাবান এবং বিএনপিতে কি হচ্ছে না হচ্ছে তা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বরা না জানলেও তারেকপন্থীরা সবই জানেন। সবকিছু জানার পরও ছেলের সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে নিরুপায় হয়ে পড়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি