বুধবার ২৮ জুলাই ২০২১
  • প্রচ্ছদ » other important » আদম ব্যবসার খপ্পরে বিএনপি কর্মীরা, লন্ডন গিয়ে প্রতারিত



আদম ব্যবসার খপ্পরে বিএনপি কর্মীরা, লন্ডন গিয়ে প্রতারিত


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
13.06.2021

নিউজ ডেস্ক : বিগত ১৪ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থা মোটেও ভালো যাচ্ছে না। এমতাবস্থায় অধিকাংশ নেতা রাজনীতি ছেড়ে ব্যবসা বাণিজ্যে মন দিলেও কিছু নেতা কাজের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিচ্ছেন প্রবাসে। এদিকে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের আশায় লন্ডনভিত্তিক বিএনপির একটি চক্রের প্রতারণার শিকার হয়েছেন খোদ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে ইংল্যান্ডে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভে ব্যর্থ হয়ে দেশটিতে পলাতক অবস্থায় জীবনযাপন করছেন তারা। নিজ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের হাতে প্রতারণার শিকার এসব তৃণমূল নেতা ও তাদের পরিবার হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনানিপাত করছে। দেশ ও বিদেশে বিএনপির প্রতারণা চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে সর্বশান্ত হওয়া নেতাকর্মীরা প্রতারকদের কাছ থেকে দূরে থাকতে অন্যদের সতর্ক করেছেন বলে জানা গেছে।

লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের আশায় প্রতারিত বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের তথ্যের ভিত্তিতে বঞ্চনা ও প্রতারণার বিষয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বিভিন্ন তথ্যসূত্রের বরাতে জানা যায়, এ বছরের ১০ জুন লন্ডনে আবুল হোসেন নামে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ এলাকার এক যুবককে গ্রেফতার করেছিল যুক্তরাজ্য পুলিশ। এসময় আবুল নিজেকে বিএনপির কর্মী ঘোষণা করে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় চেয়ে বসেন। আবেদনে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে তিনি বিএনপি করতেন। সিলেট অঞ্চলের একটি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতিও ছিলেন। এর আগে লন্ডন পুলিশে কাছে তথ্য ছিলো যে, স্থানীয় বিএনপির প্রভাবশালী একজন নেতা যিনি রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে গত এক দশক ধরে লন্ডনের কিংস্টন এলাকায় বসবাস করছেন, তিনি একটি ট্রাভেল এজেন্সির আড়ালে বিপুল অর্থের বিনিময়ে মানব পাচার চক্রের সাথে জড়িত।

পরবর্তীতে আবুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে লন্ডন পুলিশ জানতে পারে, ভুয়া রাজনৈতিক আশ্রয়ের নামে লন্ডনভিত্তিক বিএনপির একটি শক্তিশালী চক্র অন্তত ৭০ জন তৃণমূল নেতার কাছ থেকে জনপ্রতি ১৫ লাখ টাকা নিয়ে মিথ্যা রাজনৈতিক হয়রানির খবর ছাপিয়ে আশ্রয় চায়। কিন্তু লন্ডন পুলিশ কর্তৃপক্ষ গণ-আশ্রয়ের বিষয়টিকে সিন্ডিকেট হিসেবে চিহ্নিত করে বৃহত্তর তদন্ত করলে বেরিয়ে আসে আসল ঘটনা। জানতে পারে, বিএনপির একজন নির্বাসিত নেতা এই মানব পাচার চক্রের মূল হোতা। নিরাপত্তার খাতিরে নাম প্রকাশ না করা হলেও অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করছেন যে, বিএনপির নির্বাসিত নেতা তারেক রহমান এমন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তবে লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় আইনি পদক্ষেপ নিতে পারছে না দেশটির পুলিশ।

যেহেতু বিষয়টি নিয়ে লন্ডন পুলিশ তদন্ত করছে সুতরাং অচিরেই এই চক্রের সদস্যদের খুঁজে বের করা হবে বলে প্রতারিত বিএনপি নেতারা বিশ্বাস করেন। পাশাপাশি দল ও রাজনীতির নামে লন্ডনে প্রতারণার শিকার হওয়া বিএনপি নেতারা সুবিচার পাবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি