মঙ্গলবার ২৭ জুলাই ২০২১



বিএনপি এখন কী করবে?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
16.06.2021

চিকিৎসার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আদৌ বিদেশ যেতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। মূলত একটি রিটের প্রেক্ষিতে গত ১৩ জুন হাইকোর্টের তরফ থেকে আদেশ জারি করা হয়। ওই আদেশে তার জন্মদিনসংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র চেয়ে পাঠানো হয়। আর তার পর থেকেই দলীয় নেতৃবৃন্দের মাঝে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে, তাদের নেত্রী বিদেশ যেতে পারবেন তো!

নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যমতে, খালেদা জিয়ার বিদেশযাত্রার এই আলোচনা নতুন দিকে মোড় নিতো না, যদি হাইকোর্টে এই রিটটা না হতো। কারণ, রিটের ফলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি এই মুহূর্তে কোনভাবেই দেশত্যাগ করতে পারবেন না। তাছাড়া সরকারের অনুমতির বিষয়টি তো রয়েছেই। তাছাড়া,বিদেশে যেতে হলে খালেদার পাসপোর্টের প্রয়োজন হবে। যেটি গত প্রায় দেড় মাস যাবত পড়ে আছে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে। সরকার তথা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পেলেই তবে সেটি তার হাতে পৌঁছাবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গত ৬ মে নবায়নের জন্য জমা দেওয়া খালেদার পাসপোর্টে জন্ম তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট। একই জন্ম তারিখের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তার জাতীয় পরিচয়পত্রেও। সে ব্যাপারেও আদালত কি সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটিও খুব তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, উল্লিখিত তারিখটি তার সঠিক জন্মতারিখ নয়। শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তিনি এই জন্মদিন পালন করেন। তাছাড়া এ কথা কারও অজানা নয় যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করা হয়। সেই সূত্রে ওই দিন জন্মদিন পালন নিয়ে সব মহলে ক্ষোভ রয়েছে। এমনকি বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতার বেশির ভাগ নেতাও ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালনের পক্ষে নন। আর তাদেরই চাপে ২০১৫ সালের পর থেকে ১৫ আগস্ট কেক কাটার আনুষ্ঠানিকতা থেকে সরে আসে বিএনপি।

এ ব্যাপারে বাংলা নিউজ ব্যাংকের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে। তাদের মধ্য থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নেতা এই প্রতিবেদককে বলেন, ম্যাডামের (খালেদা জিয়ার) কোনো জন্মদিন বা কোনো তথ্যই তার নিজের দেওয়া নয়। সবই তার পাশে থাকা ভিন্ন ভিন্ন লোকদের পরামর্শে করা। আর সেটা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে তার পাসপোর্ট, এনআইডিসহ সংশ্লিষ্ট সব কিছুতেই। সম্মিলিতভাবে তারা আলোচনা কিংবা সমন্বয় করেননি বলেই আজকের এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এর দায় তারা কোনভাবেই এড়াতে পারেন না।

বিষয়টি নিয়ে দল এখনও কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, আমরা কী করব সেটি এখনো ঠিক করিনি। তবে যা-ই করিনা কেন, সেটা ভেবেচিন্তেই করতে হবে।

গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মতে, আমাদের দেশের ষাট বা সত্তরোর্ধ্ব বেশির ভাগ মানুষেরই জন্মদিনের ঠিক নেই। কারণ ওই আমলের মা-বাবারা সন্তানের জন্মদিন লিখে রাখতেন না। তবে এটাও ঠিক, ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন করা বিএনপির ঠিক হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আমরা সবাই কমবেশি বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পাঁচটি জন্ম তারিখ ব্যবহারের কথা জানি। একজন মানুষের কিভাবে এবং কী কারণে এতগুলো জন্মদিবস হয়, তা কোনভাবেই বোধগম্য নয়। তার চেয়ে বড় ব্যাপার তিনি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যেদিন জাতীয় শোক দিবস, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার দিন, তিনি সেদিন কিভাবে উল্লাস করে কেক কেটে জন্মদিন পালন করেন? এটা কোন ধরণের নীতি-নৈতিকতা?

রাজনৈতিক এই বিজ্ঞজনরা আরও বলেন, সব কিছুতেই খালেদার কারসাজি। এ কারণেই আজ তার এই অবস্থা। তাছাড়া তিনি হয়তো ভুলে গিয়েছিলেন, অতি চালাকের সব সময় গলাতেই দড়ি পড়ে। যেটা তার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি। এ থেকে আবারও প্রমাণিত হলো, পাপ বাপকেও ছাড়ে না।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি