মঙ্গলবার ২৭ জুলাই ২০২১
  • প্রচ্ছদ » other important » লোহাগড়ায় মাদ্রাসাছাত্রীকে গণধর্ষণ করলো তিন বিএনপি কর্মী



লোহাগড়ায় মাদ্রাসাছাত্রীকে গণধর্ষণ করলো তিন বিএনপি কর্মী


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
16.06.2021

নিউজ ডেস্ক : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কামারগ্রামের সপ্তম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে মঙ্গলবার ১৫ই জুন দুপুরে লোহাগড়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ এজাহারভূক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে। জানা যায়, উক্ত তিন আসামি লোহাগড়া বিএনপির সভাপতি শহীদ আহমদের সমর্থক।

পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের কামারগ্রামের এক কৃষকের কিশোরী কন্যা ও স্থানীয় দাখিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীর (১৩) সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী কাশিপুর গ্রামের বিএনপি কর্মী আমিনুর শেখের ছেলে অন্তর শেখের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এর জের ধরে গত ৫ জুন অন্তর শেখ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মোবাইল ফোনে ওই কিশোরীকে সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ইজিবাইকে করে লাহুড়িয়া- কল্যাণপুরের দিকে নিয়ে যায়।

বাবা বিএনপি কর্মী হওয়ার সুবাদে এলাকায় তার প্রভাব ছিলো। পথিমধ্যে প্রেমিক অন্তর তার দুই বন্ধু লিকু ফকির ও জামিরুল শেখকে ইজিবাইকে তুলে নিয়ে নেয়। তারা রাত নয়টার দিকে ভদ্রডাঙ্গা বাতাশি গ্রামের জোড়া ব্রিজ এলাকায় পৌঁছে কিশোরীকে নামিয়ে তিনজনে মিলে একটি পাটক্ষেতের মধ্যে নিয়ে মুখ বেঁধে ধর্ষণ করে। এ সময় ধর্ষণের দৃশ্য ফোনে ভিডিও ধারণ করে রাখে।

ধর্ষণের ঘটনাটি কাউকে জানালে ওই ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল করে দেওয়া হবে বলে কিশোরীকে ভয় দেখায় তারা। পরে তারা ওই কিশোরীকে অন্তরের ফুফাতো ভাই সরশুনা গ্রামের আজিজুল মুন্সীর বাড়িতে নিয়ে রেখে চলে যায়।

খবর পেয়ে গভীর রাতে কিশোরীর পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে ওই কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে পরিবারের লোকজনকে জানায়।

এদিকে ঘটনার পর নড়াইল জেলা বিএনপির সদস্য সরশুনা গ্রামের মিশাম শেখ ও কামার গ্রামের আশরাফুল শেখ ধর্ষণের বিষয়টি থানা পুলিশকে না জানিয়ে ৬০ হাজার টাকায় বিনিময়ে মীমাংসা করে ফেলতে ওই কিশোরীর বাবাকে চাপ সৃষ্টি করেন।

এক পর্যায়ে ভয়ে কিশোরীর পরিবার চুপচাপ থাকে। পরে ঘটনা জানাজানি হলে ১০ দিন পর পুলিশের সহযোগিতায় কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে মঙ্গলবার দুপুরে লোহাগড়া থানায় ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেন (মামলা নং- ১৪ তারিখ ১৫.৬.২১)।

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সদস্য মিশাম শেখ বলেন, ‘ধর্ষণের বিষয়ে আমি মীমাংসা করতে কাউকে চাপ প্রয়োগ করিনি। যার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তিনি আমার ভাতিজা। খুব ভালো ছেলে। ধর্ষণ তো দূরের কথা কোনো মেয়েদের ভুলেও তাকায় না। এ কারণে আমরা তাকে চিকিৎসাও করিয়েছি। আমরা আসলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি