বুধবার ২৮ জুলাই ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » খালেদার চরিত্রে পরীমনিকে অভিনয় করাতে চান পাকিস্তানি পরিচালক



খালেদার চরিত্রে পরীমনিকে অভিনয় করাতে চান পাকিস্তানি পরিচালক


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
17.06.2021

নিউজ ডেস্ক : ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের কথা। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করতে লন্ডনে গিয়েছিলেন। সে সময় তার সঙ্গে দেখা করলেন পাকিস্তানি সিনেমার পরিচালক বিলোয়াল হোসাইন। বেগম খালেদা জিয়া এবং মোসাদ্দেক আলী ফালুকে নিয়ে একটা রোমান্টিক সিনেমা বানানোর প্রস্তাব নিয়ে সেদিন বিলোয়াল দেখা করেছিলেন। সে সিনেমায় খালেদা জিয়ার চরিত্রে বাংলাদেশের নায়িকা পরীমনির নাম উল্লেখ করলেও মোসাদ্দেক আলী ফালুর চরিত্রের জন্য এখনো নায়ক খুঁজে পাননি বলে জানান বিলোয়াল।

সে সময় পাকিস্তানি একটি চলচ্চিত্র সংস্থার পক্ষ থেকে সিনেমাটির চিত্রনাট্য লেখার কাজ শেষ করেই খালেদা জিয়ার সামনে উপস্থাপন করেছিলেন পরিচালক। কিন্তু প্রায় ৬ বছর হয়ে গেছে। এখনো আলোর মুখ দেখেনি খালেদা জিয়া এবং মোসাদ্দেক হোসেন ফালুকে নিয়ে রোমান্টিক সিনেমা। কারণ হিসাবে খালেদা জিয়ার কারাবরণ এবং অসুস্থতা থাকলেও মূল যে জায়গাটিতে আটকে গেছে, সেটি হলো অর্থলগ্নিকারী সেই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটির পিছিয়ে যাওয়া।

লন্ডনে খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করার পর আশাবাদী হয়ে পরিচালক বিলোয়াল বলেছিলেন, আমরা রোমান্টিক ছবির কাহিনীর জন্য কত জায়গায় ঘোরাঘুরি করি, রাধা-কৃঞ্চ, শিরি-ফরহাদ, চন্ডিদাস-রজকিনি, দেবদাস-পার্বতী। অথচ চোখের সামনেই কত চমৎকার একটা উজ্জ্বল প্রেমকাহিনী। এটা কারো চোখে পড়লোনা, বড়ই আফসোস! খালি কি প্রেম কাহিনী? এ কাহিনী আরব্য উপন্যাসের রয়্যাল প্রেম কাহিনীগুলোকেও হার মানায়। রাজনীতি ও ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও, প্রায় ছেলের বয়সী খুবই সাধারণ ঘরের ছেলের সাথে প্রেম, এ কাহিনী বাঘা বাঘা চলচ্চিত্রকারদের কলম দিয়েও বের হবে না। আমি গ্যারান্টি দিয়া বলতে পারি, খালেদা-ফালুর এই প্রেম কাহিনী হাজার বছর ধরে অমর হয়ে বেঁচে থাকবে। আর তাই আমিই প্রথম এই অমর কাহিনী নিয়ে সিনেমা বানানোয় হাত দিয়েছি।

তিনি তখন আরো বলেন, আমরা এখন ছবির চিত্রনাট্য অনুযায়ী বিভিন্ন লোকেশন ঘুরে ঘুরে দেখছি এবং যায়গা সিলেক্ট করার চেষ্টা করছি। আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে এই রোমান্টিক সিনেমাটিকে ঘিরে, যেন এমনভাবে বানাতে পারি যে যুগযুগ ধরে এই প্রেম কাহিনী অমর হয়ে থাকে।

ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে কাকে দেখা যাবে এমন প্রশ্নের জবাবে বিলোয়াল হোসাইন তখন বলেছিলেন, এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খালেদা জিয়া এমন একটি চরিত্র যে চাইলেই এই চরিত্রে যে কাউকে দেয়া যায় না। সে চরিত্রের জন্য পরীমনি পারফেক্ট। আর ফালুর চরিত্রের জন্য প্রাথমিকভাবে দুইজনকে সিলেক্ট করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় চরিত্র ফাইনাল হলেই তাদের কাস্ট করা হবে।

সিনেমাটির বিষয়ে খালেদার সঙ্গে কোন যোগাযোগ করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি তখন গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, “খালেদা জিয়ার সঙ্গে এই বিষয়ে অনেক আগেই যোগাযোগ করা হয়েছিল। উনি সিনেমাটির বিষয়ে বেশ আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। সেই জন্যই উনি আমাকে লন্ডনের হোটেলে উনার সঙ্গে দেখা করতে বলেন।”

দেখা হয়েছে কিনা জানতে চাওয়া হলে বিলোয়াল হোসাইন বলেন, হ্যাঁ দেখা হয়েছে। ম্যাডামকে ছবির চিত্রনাট্য পড়ে শুনানোর পর তিনি তা পছন্দ করেছেন। শুধু তাইনা, উনি আমাদের সিনেমার স্বার্থে ফালু সাহেবের সঙ্গে উনার রিয়েল লাইফের কিছু রোম্যান্টিক ঘটনাও শেয়ার করেন।

তবে তিনি ফালু সাহেবের চরিত্রে কাকে ফাইনাল করা হচ্ছে সেই বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। এখনো ফাইনাল করা হয়নি শুনে খালেদা জিয়া বলেন, ফাইনাল করার আগে অবশ্যই যেন তাকে জানানো হয়। তিনি নিজেই দেখে ফাইনাল করতে চান ফালুর ক্যারেক্টারটি। আর সিনেমায় খালেদা জিয়া ব্যাবহার না করে খালেদা মোসাদ্দেক নামটি ব্যাবহারের কথা বলেন। আমি সেই অনুযায়ী খালেদা জিয়ার চরিত্রের নাম বদলিয়ে খালেদা মোসাদ্দেক রেখেছি।

ছবিটি কবে নাগাদ মুক্তি পাবে জানতে চাওয়া হলে পরিচালক বিলোয়াল হোসাইন বলেছিলেন, যতদ্রুত সম্ভব সিনেমার কাজ শুরু করতে চাচ্ছি। আশা করছি, ম্যাডামের মুক্তির দিন ম্যাডামকে তার প্রেম কাহিনী উপহার দিতে পারব।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি