বুধবার ২৮ জুলাই ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » বহিষ্কারের হুমকি, খালেদাকে বিদেশে পাঠাতে ফখরুলদের তোড়জোড়!



বহিষ্কারের হুমকি, খালেদাকে বিদেশে পাঠাতে ফখরুলদের তোড়জোড়!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
22.06.2021

নিউজ ডেস্ক: করোনামুক্ত হয়ে গুলশানের ভাড়া বাসা ফিরোজায় ফিরেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গত ১৯ জুন রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরেন তিনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ৫৩ দিন চিকিৎসার পর পুরোপুরি সুস্থ হওয়ায় খালেদা জিয়াকে বাসায় পাঠানো হয়েছে।

এদিকে বাসায় ফিরেই সরকারবিরোধী আন্দোলনে ব্যর্থতার জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের একহাত নিয়েছে খালেদা জিয়া, কয়েকজনকে বহিষ্কারের হুমকিও দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এর প্রেক্ষিতে খালেদা জিয়াকে আবারও বিদেশে পাঠাতে তোড়জোড় শুরু করেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

জানা গেছে, দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া সরকারের দয়ায় জামিন পেয়ে কারাগার থেকে গুলশানের বাসায় ফিরলেও প্রায় দিনই নেতাদের সাথে বৈঠক করতেন। এর ফলে গত ১৪ এপ্রিল করোনা সংক্রমিত হন খালেদা। প্রথমে সেখানেই তার চিকিৎসা চলে। পরে গত ২৭ এপ্রিল তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তির পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র কয়েকজন নেতা বিএনপির সকল সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু করেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে, খালেদা হাসপাতালে ভর্তি– এটাকেই বিএনপির দখল নেওয়ার মোক্ষম সুযোগ হিসেবে নির্ধারণ করেন স্থায়ী কমিটির কয়েক সদস্য। সেই অনুযায়ী গত কিছুদিন দলের সকল সিদ্ধান্তও নেন তারা। এমনকি তারেক রহমানের অনেক নির্দেশও স্থায়ী কমিটি অমান্য করেছে বলে জানান বিএনপির মধ্যম সারির কয়েকজন নেতা।

সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া বাসায় ফিরেই এসব কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত হয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের ডাকেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, মিটিংয়ে ম্যাডাম খুবই রাগান্বিত ছিলেন। মির্জা ফখরুল এবং মির্জা আব্বাস সাহেবকে ব্যাপক বকাঝকা দিয়েছেন। খাল কেটে কুমির এনেছেন বলেও মন্তব্য করেন ম্যাডাম।

গয়েশ্বর জানান, আন্দোলনে ব্যর্থতা এবং বিএনপি দখলের চক্রান্তের জন্য মির্জা ফখরুল এবং মির্জা আব্বাসকে বহিষ্কারের হুমকি দেন খালেদা জিয়া।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা আগে বলিনি। ওনার (খালেদা জিয়া) পরিবার বিদেশে প্রেরণের কথা বলেছিল। আমরা এবার পার্টির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রেজুলেশন নিচ্ছি যে, তাঁর বিদেশে চিকিৎসা দরকার। তার জন্য যা কিছু করা দরকার, সরকারের তা করা উচিত ইমিডিয়েটলি। তারপরের যে স্টেপগুলো আছে, পরবর্তীতে আলাপ-আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ম্যাডাম পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বাসায় গেছেন। এখন তাকে চিকিৎসার নামে বিদেশে পাঠানোর তৎপরতা কেন? বিএনপিকে ধ্বংস করতে কিছু নেতা উঠেপড়ে লেগেছেন। তারেক রহমান এবং ম্যাডামের প্রতি আহ্বান জানাবো, এসব ধান্দাবাজ এবং সুযোগসন্ধানী নেতাদের সরিয়ে শহিদ জিয়ার আদর্শের কর্মীদের নেতৃত্বে আনার জন্য।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি