বুধবার ২৮ জুলাই ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » দলের পক্ষ থেকে খালেদাকে বিদেশে পাঠানোর দাবি, তারেকের ‘চওড়া হাসি’!



দলের পক্ষ থেকে খালেদাকে বিদেশে পাঠানোর দাবি, তারেকের ‘চওড়া হাসি’!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
23.06.2021

আগে থেকেই সব ঠিক করে রেখেছেন তারেক রহমান। আর সে মতই চলছে বিএনপি। তারই ধারাবাহিকতায় এবার উন্নত চিকিৎসার জন্য দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি। ২২ জুন (মঙ্গলবার) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবির কথা বলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিশিষ্টজনরা বলছেন, এটা তারেকের প্রি-প্ল্যান। চতুরতার সঙ্গে তিনি নেপথ্যে বসে সামনে থেকে দলকে দিয়ে এটি করিয়ে নিচ্ছেন, যাতে সবার ধারণা হয় দলীয় নেত্রী তথা গর্ভধারিণী মাকে নিয়ে তিনি খুব কনসার্ন। কিন্তু আদতে তা নয়। মানুষের সিম্প্যাথি কুড়ানোর জন্যই তিনি লন্ডনে বসে এমনটা করছেন। তার উদ্দেশ্য ভিন্ন। আর সে কারণে ‘চওড়া হাসি’ হেসে, মির্জা ফখরুলকে পরবর্তী কাউন্সিলে পুনরায় মহাসচিব পদের লোভ দেখিয়ে তার মুখ দিয়েই বলাচ্ছেন, নেত্রীকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ নিতে হবে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যমতে, লন্ডনে পলাতক ফেরারি আসামি তারেক রহমান অত্যন্ত ধুরন্ধর ও সুবিধাবাদী স্বভাবের। নিজের স্বার্থ ছাড়া তিনি কিছুই করেন না। সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে বলতে গেলে, খালেদা যখন কারান্তরীণ অবস্থায় ছিলেন, তখন তার কারামুক্তির নামে তিনি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন দাতা থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। বিপরীতে দলকে ‘লক্ষণীয়’ কোন আন্দোলন বা সিদ্ধান্তে উপনীত হতে দেননি। সব সময় রেখেছেন ঝুলন্ত অবস্থায়। বিদেশ যাত্রার বিষয়টিও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বাংলানিউজ ব্যাংককে বলেন, তারেক রহমান নিজের পরিকল্পনার বাইরে একচুলও নড়েন না। তিনি জানেন কাকে দিয়ে কোন কাজ করালে তার স্বার্থসিদ্ধি হবে। সেভাবেই তিনি প্রত্যেকটা কাজ করেন এবং লক্ষ্যে পৌঁছান। তারই অংশ হিসেবে যে তিনি মির্জা ফখরুলকে দিয়ে নেত্রীর বিদেশ যাত্রার কথা তোলেননি, তার কী গ্যারান্টি!

তবে বিষয়টি এড়িয়ে দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল বললেন, কারো ইশারা বা কথায় নয়, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) উন্নত চিকিৎসার দাবি এ দেশের মানুষের। আর তারেকই বা কেন চাইবেন না, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) তো তার গর্ভধারিণী মা। তাই সবার সম্মিলিত সিদ্ধান্তে পার্টির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রেজ্যুলেশন নিচ্ছি, নেত্রীর বিদেশে চিকিৎসা দরকার। এজন্য যা কিছু আবশ্যক, সরকারের করা উচিত ইমিডিয়েটলি। তারপর যে স্টেপগুলো আছে, পরে আলাপ-আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।

এ বিষয়ে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দলের পক্ষ থেকে খালেদাকে বিদেশে পাঠানোর দাবি তারেকের একটি স্ট্যান্টবাজি। তিনি মানুষের সিম্প্যাথি কুড়িয়ে আবারও অর্থ বাণিজ্যের ফন্দি আঁটছেন দলীয় দাতাদের থেকে। এর আগে খালেদার কারামুক্তির নামেও তিনি একই কাজ করেছিলেন, দেশবাসী ইতোমধ্যে সে ব্যাপারে অবহিত। তাই এমতাবস্থায় সরকারসহ আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে যাতে, তিনি কোনভাবেই নিজের স্বার্থে এমন কোন পরিস্থিতির সৃষ্টি না করেন, যা দেশের জন্য অকল্যাণকর।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি