বুধবার ২৮ জুলাই ২০২১
  • প্রচ্ছদ » other important » খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা তারেক রহমানের ষড়যন্ত্র ফাঁস



খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা তারেক রহমানের ষড়যন্ত্র ফাঁস


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
23.06.2021

নিউজ ডেস্ক : করোনাভাইরাসের আগমনের পর থেকে বিএনপির ঝিমিয়ে পড়া, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বাকি সকল নির্বাচনে বিএনপির শোচনীয় পরাজয়ের কারণে বিভক্তি স্পষ্ট হয়েছে বিএনপির রাজনীতিতে। এসব কারণে ২০ দল থেকে বের হয়ে গেছেন ব্যারিস্টার আন্দালিব পার্থ এবং ঐক্যফ্রন্ট থেকে বের হয়েছে কাদের সিদ্দিকীর মতো নেতারা। সব মিলিয়ে রাজনীতিতে বিব্রতকর অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। বেগম জিয়ার ঘনিষ্ঠদের কেউই পাত্তা পাচ্ছে না বিএনপিতে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাগারে যাবার পর বিভিন্ন সভা সেমিনার ও ইফতার মাহফিলে বিএনপি খালেদা জিয়ার স্মরণে একটি চেয়ার ফাঁকা রাখতো। কিন্তু চেয়ার ফাঁকা থাকা তো দূরের কথা, বিএনপির কোনো নেতাই একে অপরের সঙ্গে করোনার অজুহাতে দেখাও দেয় না।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিএনপিতে বেগম জিয়ার অস্তিত্ব মুছে দেয়ার চক্রান্ত শুরু হয়েছে। তারেক রহমান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে বিএনপির রাজনীতিতে নানা পরিবর্তন লক্ষ্য করছি। হঠাৎ করেই বেগম জিয়ার বিশ্বস্তরা দলের অভ্যন্তরে অবস্থান হারাচ্ছেন। তাদের কৌশলে অবহেলা করা হচ্ছে। তাই দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, বিএনপিতে ম্যাডাম জিয়ার প্রভাব কমতে শুরু করেছে। এক ধরণের বিদায় ঘণ্টা বেজেছে, বলতে পারেন। পদ বাঁচাতে ও নতুন করে পদ পেতে দলের অভ্যন্তরে চলছে তারেক বন্দনা। বেগম জিয়ার পক্ষের লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর বলা চলে।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরো বলেন, বেগম জিয়ার সবচেয়ে বিশ্বস্ত ছিলেন ফালু। ৮৩ থেকে আস্তে আস্তে ফালু বেগম জিয়ার সবচেয়ে কাছের, আস্থা ভাজন এবং বিশ্বস্ত অনুচরে পরিণত হন। ৯১-তে বেগম জিয়া ক্ষমতায় এলে ফালু তার একান্ত সচিব হন। মন্ত্রী এমপিদের সব নির্দেশনা দিতেন ফালুই। ২০০১ সাল থেকে বিএনপিতে ফালুর কর্তৃত্ব খর্ব হতে থাকে। এখন তো ফালু বিএনপির কেউ নন। ২০১৬ সালের কমিটিতে তাকে রাখা হলেও তিনি পদত্যাগ করেন। বর্তমানে দুর্নীতির মামলা এড়াতে দুবাইয়ে আছেন খালেদার ঘনিষ্ঠ এই নেতা।

বেগম জিয়া রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি যার উপর নির্ভর করতেন তিনি হলেন সাদেক হোসেন খোকা। তিনি চলে গেলেন পরকালে। এছাড়া কঠিন সময়ে বেগম জিয়ার সহযোগী ছিলেন আবদুল্লাহ আল নোমান। বেগম জিয়া দুবারই তাকে মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপিতে তারেক রহমানের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবার পরপরই নোমানের কর্তৃত্ব খর্ব হতে থাকে। দলের স্থায়ী কমিটিতে জায়গা না পেয়ে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে তাকে কোনো সভা সেমিনারে দেখাই যায় না।

খালেদা জিয়ার বিশ্বস্ত নেতাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বলতে গিয়ে একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, ফালু, খোকা কিংবা নোমান তো বিএনপিতে এখন উপেক্ষিত। বেগম জিয়ার ঘনিষ্ঠদের মধ্যে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেও অসুস্থতার জন্য খালেদা জিয়া বা দলের জন্য কোন অবদান রাখতে পারছেন না। বেগম জিয়ার আরেক বিশ্বস্ত নেতা তরিকুল ইসলাম মারা গেছেন। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে খালেদাপন্থী বলা হলেও বিশ্বস্ততার প্রশ্নে দূরেই ছিলেন। তারপরও মোশাররফও দলে এখন মূল্যহীন। বোঝাই যাচ্ছে এটা তারেকের সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা। অদূর ভবিষ্যতে খালেদা জিয়া কারাগার থেকে বের হলেও যাতে পুনরায় দলের কর্তৃত্ব ফিরে না পেতে পারেন সেজন্য এমন মাস্টার প্ল্যান করেছেন তারেক রহমান।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি