বুধবার ২৮ জুলাই ২০২১



জামায়াতে ঢুকছে হেফাজতের বাদপরারা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
24.06.2021

নিউজ ডেস্ক: হেফাজতের আমীর জুনায়েদ বাবুনগরী সম্প্রতি ৮১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করেছেন। তীব্র বিতর্ক এবং চাপের মুখে আগের কমিটি তিনি বাতিল করেছিলেন এবং একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছিলেন। সেই আহ্বায়ক কমিটি থেকে নতুন কমিটি গঠন করেছেন কিন্তু নতুন কমিটি নিয়েও বিপত্তি কাটিয়ে জুনায়েদ বাবুনগরীর।

নতুন কমিটির অনেকেই এই কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা নতুন কমিটির সঙ্গে থাকতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাছাড়া আহমদ শফীর পুত্র আনাস মাদানীও এই কমিটিকে দুরভিসন্ধিমূলক বলে এই কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হল যে, এর আগে যে জুনায়েদ বাবুনগরী মামুনুল হক-আজিজুলদের নিয়ে কমিটি গঠন করেছিলেন সেই কমিটিতে বাদপরা অনেকেই এখন জামায়াতে ইসলামে ঢুকে পড়ছে।

আহমদ শফীর মৃত্যুর পর জুনায়েদ বাবুনগরী সম্মেলন করে হেফাজতের আমীর নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর তিনি একটি কমিটি গঠন করেছিলেন যে কমিটিতে চারদলীয় জোটের অনেকেই ছিল। রাজনৈতিক পরিচয় ছিল তাদের প্রধান। তারা হেফাজতকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে চেয়েছিল। এদের মধ্যে মামুনুল হক ছিলেন অন্যতম। এছাড়া আরও কয়েকজন ছিল যারা খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কিন্তু এখন অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে যে, এদের সঙ্গে আসলে জামায়াতের গোপন সম্পর্ক ছিল এবং জামায়াতই হেফাজতকে নতুনভাবে গড়ে তোলা এবং সরকারবিরোধী অবস্থানে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করেছিল। আর সেই চেষ্টার অংশ হিসেবেই নতুন কমিটি গঠন করার পরপরই জুনায়েদ বাবুনগরী সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থানে যান। প্রথমে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য, তারপর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী নিয়ে আন্দোলনে নামে হেফাজতে ইসলাম।

এই আন্দোলনের পিছনে বিএনপি-জামায়াতের যে হাত ছিল সে সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ সরকারের হাতে আছে। আর এরপরই বিভিন্ন অপরাধে হেফাজতের বেশ কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই গ্রেপ্তারের প্রেক্ষিতেই জুনায়েদ বাবুনগরী কমিটি বাতিল করেন। নতুন কমিটির আগে তিনি বলেছেন যে, যাদের রাজনৈতিক পরিচয় নেই তাদেরকে এই কমিটিতে রাখা হয়েছে। কিন্তু যাদের আগে রাজনৈতিক পরিচয় ছিল তাদের কি অবস্থা, এটি খোঁজ নিতে গিয়ে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

দেখা যাচ্ছে যে, যারা কমিটিতে নেই তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়ে আছেন। আর যারা গ্রেপ্তার হননি তারা জামায়াতের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ করছেন এবং জামায়াতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আছে। আনুষ্ঠানিকভাবে তারা জামায়াতে যোগ না দিলেও জামায়াত দ্বারা যে তারা নিয়ন্ত্রিত, এই যোগাযোগের মাধ্যমে সেটি প্রমাণিত হয়েছে। এই হেফাজতের উগ্রবাদী অংশটি জামায়াতের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বলে বহুবার বলা হচ্ছিল এবং অনেক বোদ্ধা বলছিলেন যে হেফাজত এবং জামায়াতের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। বাদপরারা যখন জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তখন এই বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে।

জামায়াতে ইসলাম যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কারণে কোণঠাসা অবস্থায় গেছে এবং সেখানে গিয়ে তারা রাজনৈতিক কৌশল পরিবর্তন করেছে। এখন অন্য দলের উপর ভর করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলা এবং দেশের বাইরে থেকে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র করা জামায়াতের রাজনীতির মূল কৌশল যেটি জামায়াত ১৯৭১ সালের পরে নিয়েছিল।

এখন যে সমস্ত ইসলামী উগ্রবাদী সংগঠনগুলো রয়েছে সেগুলো সবই জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিপুল অর্থ-সম্পদ থাকার কারণে জামায়াত হেফাজতের যে সমস্ত নেতারা বাদ পড়েছেন তাদেরকে এখন পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করছেন। এমনকি হেফাজত যদি শেষ পর্যন্ত নমনীয় অবস্থানে যায় তাহলে নতুন সংগঠনের কথা চিন্তা ভাবনা করছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি