বুধবার ২৮ জুলাই ২০২১



মির্জা আব্বাস নিয়ে বিভক্ত বিএনপি


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
25.06.2021

নিউজ ডেস্ক: মির্জা আব্বাসের কারণ দর্শানোর নোটিশের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ। যদিও মির্জা আব্বাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তিনি একদিন পরে কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছেন। কিন্তু বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন যে, যেদিন নোটিশ দেওয়া হয়েছে সেদিন থেকেই তিন দিন। মির্জা আবব্বাস এই কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিবেন এখনো নিশ্চিত নয়। মির্জা আব্বাসের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো দুই রকম ভাবনার কথা বলেছেন।

প্রথমত যে, তিনি এই বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করবেন এবং তার বক্তব্য ভুলভাবে, বিভ্রান্তি মূলকভাবে গণমাধ্যমে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করবেন। দ্বিতীয়ত, তিনি এই কারণ দর্শানোর নোটিশের কোনাে জবাব দেবেন না। তবে দ্বিতীয় সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন মির্জা আব্বাসের ঘনিষ্ঠরা। তারা মনে করছেন যে, মির্জা আব্বাসের এই বিষয়টি মিটমাট করে নেয়া দরকার দলের স্বার্থেই। যদিও মির্জা আব্বাস কারণ দর্শানো নোটিশের কথা শুনে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। তাঁর ঘনিষ্ঠদের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ করেননি।

তবে মির্জা আব্বাসের মতো প্রতিষ্ঠাকালীন একজন বিএনপি নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়াটিকে এক ধরনের ঔদ্ধত্য এবং দলের জন্য নেতিবাচক বলে মনে করছেন বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মীরা। তারা মনে করছেন যে, এরকম কারণ দর্শানো একটি ভুল বার্তা দেবে। এটি সঠিক হয়নি। এ নিয়ে বিএনপি`র মধ্যে সুস্পষ্ট বিভক্তি দেখা যাচ্ছে। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অনেকেই মনে করেন যে, মির্জা আব্বাস বিএনপি`র প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দলের সঙ্গে জড়িত এবং দলের দুঃসময়ে চড়াই উৎরাই, বিপদে দলের সঙ্গে ছিলেন এবং বিএনপিকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে তার এবং তার পরিবারের অবদান অনেক বেশি। তিনি যদি এরকম কোনো মন্তব্য করে থাকেন সেটিকে এড়িয়ে যাওয়াই উচিত ছিলো বিএনপির নেতৃত্বের কাজ। কারণ তিনি এই বক্তব্যটি পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং গণমাধ্যমে যে তার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছে সেটিও তিনি বলেছেন। কাজেই এরপরে বিষটি এড়িয়ে যেতে পারতো।

বিএনপি`র কেন্দ্রীয় অনেক নেতাই মনে করেন যে, বিএনপি`র উচিত ছিলো বিষয়টিকে সেখানেই শেষ করে ফেলা। এই বিষয়টিকে যতো জিইয়ে রাখা হবে, বিষয়টিকে নিয়ে যত চর্চা করা হবে তত সরকার এবং আওয়ামী লীগ সুযোগ পাবে বলে বিএনপির অনেক নেতা মনে করেন।

তারা মনে করছেন যে, এখন এই চিঠি চালাচালি এবং কারণ দর্শানোর ফলে ইলিয়াস আলীর গুম নিয়ে নুতন প্রেক্ষাপট তৈরি হবে এবং সরকার এখান থেকে ফায়দা লোটার চেষ্টা করবে। এজন্যই তারা মনে করছেন যে, মির্জা আব্বাসকে এভাবে কারণ দর্শানো ঠিক হয়নি। যারা এইভাবে কারণ দর্শিয়েছে তারা বিএনপি`র শুভাকাঙ্ক্ষী নয়। অন্যদিকে এর বিপরীত মতামতও আছে। লন্ডন থেকে তারেক জিয়াই মূলত এই কারণ দর্শানোর নোটিশের পক্ষপাতী। এর আগেও তারেকের নির্দেশে মেজর হাফিজ এবং শওকত মাহমুদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছিলো। এবার একই ধারায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হলো।

যারা এই কারণ দর্শানোর নোটিশের পক্ষে তারা মনে করছেন যে, এই রকম কারণ দর্শানোর নোটিশের মূল কারণ হলো দলের ভেতরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। একজন ব্যক্তি যত বড় নেতাই হোন না কেনো, দলের জন্য তার যতো অবদানই থাকুক না কেনো তিনি দলের শৃঙ্খলা পরিপন্থী এবং দলের নীতি আদর্শের বিরুদ্ধে যেয়ে কোনো কথা বলতে পারেন না।

এই মতবাদ দিয়েই আসলে মির্জা আব্বাসকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তারা বলছেন যে মির্জা আব্বাস যে কথাটা বলেছেন তা বিব্রতকর এবং দলের জন্য ক্ষতিকর। কাজেই এরকম বক্তব্য দিয়ে তিনি দলকেই একটি প্রশ্নের মুখোমুখি করেছেন। কাজেই এতে যদি চুপচাপ থাকা হয় তাহলে মির্জা আব্বাসের বক্তব্যকেই মেনে নেওয়া হবে। বরং মির্জা আব্বাস যদি তার বক্তব্য থেকে সরে আসেন, এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তাহলে বিএনপি`র সবার জন্য সেটি একটি শিক্ষা হবে।

ভবিষ্যতে কেউ দলের শৃঙ্খলা পরিপন্থী এবং দলের জন্য ক্ষতিকর কোনো বক্তব্য রাখবেন না। তবে এই দুই বিভক্ত মতামতের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কোন মতামত জয়ী হবে সেটি যেমন প্রশ্ন তেমনি বিভিন্ন ইস্যুতে বিভক্ত এবং দ্বিধাবিভক্ত বিএনপি নতুন করে এই মির্জা আব্বাস ইস্যুতে বিভক্ত হবে কিনা সেটাও দেখার বিষয়।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি