বুধবার ২৮ জুলাই ২০২১



বিএনপিতেও হাইব্রিড নিয়ে উত্তেজনা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
25.06.2021

নিউজ ডেস্ক: জাতীয় সংসদে বিএনপির আসন আঙ্গুলে গোনা যায়। সেই বিএনপি জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত কোটায় নির্বাচিত এমপি রুমিন ফারহানাকে হুইপের দায়িত্ব দেয়ার জন্য প্রস্তাব করেছে। বিএনপির মধ্যে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমত, রুমিন ফারহানা বিএনপিতে নবাগত এবং অনুপ্রবেশকারী হিসেবেই চিহ্নিত। দ্বিতীয়ত, তিনি সরাসরি ভোটে নির্বাচিত নন।

তৃতীয়ত, তিনি এত তরুণ এবং নবীন রাজনীতিবিদ যে হুইপ পদের জন্য তিনি যোগ্য নন বলে মনে করেন বিএনপির অধিকাংশ নেতারা। আর রুমিন ফারহানাকে ঘিরেই বিএনপিতে হাইব্রিড বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।

বিএনপি নেতারা বলছেন যে, এখন উড়ে এসে জুড়ে বসা নেতারাই বিএনপি দখল করছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করছে, ত্যাগ স্বীকার করেছে। যারা মাটি কামড়ে বিএনপিকে আগলে রেখেছে তাদেরকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। বরং বাইরে থেকে আগত কিছু গ্যালারী শো করা আদর্শহীন ব্যক্তিদেরকে রাজনীতির সিংহাসনে বসানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাবিথ আউয়াল, রুমিন ফারহানার মত ব্যক্তিদেরকে গুরুত্ব বেড়েছে। আর এই গুরুত্ব বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে যে লন্ডন থেকে নির্দেশনা। তারেক জিয়া যাদেরকে পছন্দ করেন বা তারেক জিয়ার সঙ্গে যাদের ভালো সমঝোতা তারাই বিএনপির নেতৃত্বে আসছেন। অথচ এই সময়ে বিএনপিতে যারা কষ্ট করছেন, আন্দোলন করছেন, জেল-জুলুম নির্যাতন ভোগ করছেন তাদেরকে মূল্যায়ন করা হচ্ছেনা। আগে এই বিষয়টি ছিল নীরবে-নিভৃতে, এখন বিষয়টি প্রকাশ হতে শুরু করেছে।

বিএনপির একজন নেতা বলছেন যে, মহিলা আসনে কেন রুমিন ফারহানাকে দেওয়া হলো। তার অবদান কতোটুকু। বরং রুমিন ফারহানার চেয়েও বিএনপিতে অনেক ত্যাগী নারী নেতা আছেন যারা জনপ্রিয় এবং দলের জন্য অবদান রেখেছেন। তাদেরকে বাদ দিয়ে রুমিন ফারহানাকে এমপি করার রহস্য কি এই নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে তাবিথ আউয়ালকে নিয়েও বিএনপির মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে। তাবিথ আউয়ালকেও বিএনপিতে হাইব্রিড নেতা হিসেবে মনে করা হয়। তাবিথ আউয়ালের অতীত রাজনীতির কোনো ভূমিকা না থাকার পরও তাকে মেয়র পদে দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব তাকে দেয়া হচ্ছে। এরকমভাবে বিএনপিতে যারা তারক জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন, তারাই গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবী বাগিয়ে নিচ্ছেন এরকম অভিযোগ এখন বিএনপিতে প্রকাশ্যে উঠছে। বিশেষ করে বিএনপিতে যারা ত্যাগী, নিঃস্বার্থভাবে কঠিন সময়ে দলে কাজ করছেন তাদেরকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না বলেও কথা উঠেছে।

বিএনপি নেতারা মনে করছেন যে, বিএনপি এমন একটি দল যেখানে কোন সময়ে ত্যাগী পরীক্ষিত ব্যক্তিদেরকে মূল্যায়ন করা হয় না। ওয়ান ইলেভেনের সময় সবচেয়ে কঠিন অবদান রেখেছিলেন খন্দকার দেলোয়ার হোসেন। কিন্তু তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবেই মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। তাকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করা হয়নি। অথচ সেই ওয়ান-ইলেভেনের সময় যারা খালেদা জিয়াকে মাইনাস করতে চেয়েছিলেন তাদেরকেই এখন ডেকে ডেকে নেতৃত্বে বসানো হচ্ছে।

রুহুল কবীর রিজভী অসুস্থ হওয়ার পর বিএনপির দাফতরিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এমরান সালেহ প্রিন্সকে। এমরান সালেহ প্রিন্সকেও একজন অনুপ্রবেশকারী হাইব্রিড এবং মতলববাজ নেতা বলে মনে করেন বিএনপির অনেকেই। তারা বলছেন যে, এরা দুঃসময়ের ছিল না। এখন উড়ে এসে জুড়ে বসে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে তারা নানারকম সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছে।

তবে বিএনপি নেতারা মনে করছেন যে, আসলে যারা তৃণমূল থেকে উঠে আসছেন, যারা দলের জন্য অবদান রাখছেন তাদেরকে নজরে রাখা হয়েছে। কিন্তু যেহেতু সংসদ কথা বলার জায়গা এবং বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারি দলকে সমালোচনা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম, সেইজন্যই রুমিন ফারহানাকে এমপি করা হয়েছে। কারণ তিনি ভাল কথা বলেন। তবে এই ব্যাখ্যা বিএনপির খুব কম নেতার কাছেই গ্রহণযোগ্য। যেমন গ্রহণযোগ্য নয় তাবিথ আউয়াল কেন বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি