মঙ্গলবার ২৭ জুলাই ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 4 » তারেক নয় জাইমাকে নেতা হিসেবে চায় বিএনপি



তারেক নয় জাইমাকে নেতা হিসেবে চায় বিএনপি


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
13.07.2021

নিউজ ডেস্ক: তারেককে নিয়ে বিএনপিতে বিতর্ক কমছে না। কিছু কার একান্ত অনুচর এবং তারেককে নিয়মিত অর্থকরী দিয়ে বিভিন্ন পদ বাগিয়ে নিয়েছেন এরকম কয়েকজন ব্যক্তি ছাড়া কেউই এখন তারেককে নেতৃত্বে নিতে চান না। বরং বিএনপি নেতারা ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় মনে করেন যে তারেক যতদিন বিএনপি`র নেতৃত্বে থাকবে ততদিন বিএনপি`র কোনো ভবিষ্যত নেই।

ইতিমধ্যে তারেকের বিরুদ্ধে বিএনপি`র নেতৃবৃন্দ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। অনেকে পদত্যাগও করছেন। এরকম পরিস্থিতিতে তারেকের বিকল্প কে এ নিয়ে বিএনপির মধ্যেই আলোচনা হচ্ছে। বিএনপি নেতারা মনে করেন যে, তিনটি কারণে তারেক জিয়ার নেতৃত্বে ভবিষ্যৎ নেই এবং তার নেতৃত্ব থেকে সরে যাওয়া উচিৎ।

প্রথমত, জনগণের কাছে তার ইমেজ ভালো নয়। বিএনপি নেতারা মনে করছেন যে, বাস্তবে যাই হোক না কেনো সাধারণ মানুষ তারেককে একজন দুর্নীতিবাজ মনে করেন এবং তার বিভিন্ন দুর্নীতি, অপকর্মের সম্পর্কে যে সমস্ত সত্য মিথ্যা তথ্য বিভিন্ন সময় প্রকাশিত হয়েছে সেই তথ্যগুলো অধিকাংশ মানুষই বিশ্বাস করে। ফলে একজন নেতা হিসেবে যে ইমেজ নিয়ে তারেক জিয়ার থাকা উচিত ছিল সেই ইমেজ নেই। তাই সাধারণ মানুষের এরকম নেতিবাচক ধারণার মধ্যে তারেক জিয়া নেতা হিসেবে কতদূর টিকে থাকতে পারবে সেটি একটি বড় প্রশ্ন বলে মনে করছেন বিএনপি নেতারা।

দ্বিতীয়ত, তারা মনে করছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তারেক জিয়া গ্রহণযোগ্য নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত সরাসরি বিএনপি নেতৃবৃন্দকে বলে দিয়েছেন যে তারেক জিয়া যদি বিএনপি`র নেতা থাকেন তাহলে তারা বিএনপিকে কোন ধরনের সহযোগিতা দেবে না। শুধু এটি নয় বাস্তবে দেখা যাচ্ছে যে ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের একাধিক বৈঠকে তারা তারেক জিয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এর প্রতিবেদনে তারেক জিয়াকে দুর্নীতিবাজ এবং জঙ্গিদের সাথে যোগাযোগ আছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারত মনে করে তারেক জিয়ার সঙ্গে জঙ্গিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে।

বিশেষ করে ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ১০ ট্রাক অস্ত্রের ঘটনা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সহায়তা দেয়ার ব্যাপারে তারেক জিয়ার ভূমিকা ছিল বলে ভারত বিশ্বাস করে। আর এ কারণেই ভারত কখনোই তারেককে বিএনপি`র নেতৃত্বে রাখতে চায় না।

তৃতীয়ত, দলের মধ্যেই টানাপড়েন। তারেক জিয়া গত ৫ বছর একক কর্তৃত্বে দল পরিচালনা করেছেন। এই দল পরিচালনা করতে গিয়ে তারেক বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন। তিনি মনোনয়ন বাণিজ্য, কমিটি বাণিজ্য, পদ বাণিজ্য করেছেন এমন কথা বিএনপিতে ওপেন সিক্রেট। এই জন্যই বিএনপি নেতৃবৃন্দ মনে করেন যে, আর যাই হোক না কেন তারেক জিয়া খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি হতে পারে না। কিন্তু বিএনপি`র অধিকাংশ নেতা এটাও বিশ্বাস করেন যে, জিয়া পরিবারের বাইরে কেউ যদি বিএনপি`র হাল ধরেন তাহলে বিএনপি টিকবে না। বিএনপি বিভক্ত হবে।

বিএনপি`র একজন নেতা বলেছেন যে, বিএনপিকে টিকিয়ে রাখার একটাই কৌশল তা হলো জিয়া পরিবারের মধ্যে থেকে কাউকে নেতৃত্বে রাখা। সেটি যদি না করা সম্ভব হয় তাহলে বিএনপি কয়েক টুকরা ভেঙে যাবে। আর এ কারণেই তারা মনে করেন যে, তারেক জিয়া না থাকলেও বিএনপি`র কাউকে নেতৃত্বে রাখা উচিত এবং সেক্ষেত্রে কে নেতৃত্বে থাকবেন সেটি নিয়ে বিএনপি`র মধ্যে নানামুখী আলোচনা চলছে। একটা সময় বিএনপিতে মনে করা হতো যে তারেক জিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে তার স্ত্রী ডা. জোবায়দাই উত্তম এবং জোবায়দাকে নিয়ে অনেকে ভাবছিলেন। কেউ কেউ আবার তারেক জিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে কোকোর স্ত্রী সিঁথি`র কথাও বলছিলেন। কিন্তু জোবায়দা এবং সিঁথি দুইজনেরই এ ব্যাপারে এখন নেতিবাচক মনোভাব দেখা যাচ্ছে।

প্রথমত জোবায়দা নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন না এবং রাজনীতিতে তার খুব উৎসাহ আছে বলেও কেই মনে করেন না। আর সিঁথি`র সেরকম কোনো ইমেজ নেই বলে বিএনপি নেতারা মনে করেন। এরকম পরিস্থিতিতে তারেক জিয়ার মেয়ে জাইমা রহমান যিনি কিছু দিন আগে ব্যারিস্টারি পাশ করেছেন তার ব্যাপারেই বিএনপি নেতা এবং কর্মীদের আগ্রহ বেশি। তারা মনে করছেন যে, বিএনপিকে বাঁচাতে হলে যেমন তারেক জিয়াকে বাদ দিতে হবে তেমনি জিয়া পরিবারের কাউকে রাখতে হবে এবং সেখানে জাইমাই তাদের প্রথম পছন্দ।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি