মঙ্গলবার ২৭ জুলাই ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » তারেক-ফখরুলের বিরুদ্ধে বিএনপিতে নতুন মোর্চা



তারেক-ফখরুলের বিরুদ্ধে বিএনপিতে নতুন মোর্চা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
13.07.2021

নিউজ ডেস্ক: গত কিছুদিন ধরেই অশান্ত হয়ে উঠেছে বিএনপি`র রাজনীতি। তারেক জিয়া এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে বিএনপি`র অধিকাংশ নেতারা এবং এই ধারাবাহিকতায় বিএনপি`র দুজন নেতা গত সপ্তাহে পদত্যাগ করেছেন।

সম্প্রতি বিএনপির অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান মেজর অবসরপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন বোমা ফাটিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে, বিএনপিতে তিনি কোনো রকমে টিকে আছেন। তার এই বক্তব্যে সুস্পষ্ট একটি ইঙ্গিত রয়েছে। তারেক বিরোধী হিসেবে পরিচিত এই নেতা কিছুদিন আগেও শোকজের মুখোমুখি হয়েছিলেন। বিএনপি`র আরেক নেতা মির্জা আব্বাস মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তিনি কোনো কথা বলছেন না।

অসুস্থতা থেকে সুস্থ হয়ে বাসায় নীরবে-নিভৃতে রয়েছেন বিএনপি`র আরেক নেতা রুহুল কবির রিজভী। ডঃ খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিএনপি`র কোনো সিদ্ধান্তের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। নিজের মতো করে তিনি বিভিন্ন ইস্যুতে কথাবার্তা বলছেন। বিএনপি`র কেন্দ্রীয় অধিকাংশ নেতাই এখন হাত পা গুটিয়ে বসে আছেন। রাজনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডে নিজেদেরকে রাখছেন না।

বিএনপি`র একজন নেতা বলেছেন যে, মেজর হাফিজ ঠিকই বলেছেন। বিএনপিতে এখন মান সম্মান নিয়ে টিকে থাকা সবচেয়ে বড় কারণ। বিএনপি`র একাধিক নেতা বলছেন যে, বিএনপি এখন চালাচ্ছে দুজন। লন্ডন থেকে বিএনপি`র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া যে বার্তা পাঠাচ্ছেন সেটা প্রতিপালন করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের যে একটি স্থায়ী কমিটি আছে বা কেন্দ্রীয় কমিটি আছে, সিনিয়র নেতারা আছে তাদের কারো সাথে কোন কথা না বলেই তারেকের ওহি বাস্তবায়নের কাজ করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এমনকি তারেক জিয়া যখন যা বক্তব্য রাখতে বলছেন, সেই বক্তব্য রাখাই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একমাত্র কাজ। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেছেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার আমলেও দল পরিচালিত হতো একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম নীতির মধ্যে। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বেগম জিয়া বিভিন্ন বিষয়ে সিনিয়র নেতাদের মতামত নিতেন। সব মতামতই তিনি গ্রহণ করতেন তা নয়। সকলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হতেন। কিন্তু এখন বিএনপিতে কি হচ্ছে, কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে সেটি কেউই জানেন না।

বিএনপিতে এখন বিভিন্ন কমিটিগুলো যে হচ্ছে সেই কমিটিগুলোর ব্যাপারেও বিএনপি`র নেতৃবৃন্দ অন্ধকারে রয়েছেন। ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে লন্ডন থেকে তারেক জিয়া যে বার্তা দিয়েছেন সেই বার্তাই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাস্তবায়ন করছেন। রুহুল কবির রিজভী গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ছিলেন। তারপরে তিনি বাড়িতে যান। কিন্তু এই কঠিন সময়ে রুহুল কবির রিজভী`র একবারও খোঁজ নেননি তারেক জিয়া। বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা, তার বিদেশ যাওয়া নিয়ে কি হবে এ নিয়েও তারেক জিয়া ভাবলেশহীন। বরং বেগম খালেদা জিয়া`র সম্পদগুলো কিভাবে ভাগ বাটােয়ারা হবে সেটি নিয়ে তারেকের উৎসাহ বেশি। বিএনপি`র অনেক নেতা জেলে রয়েছেন। অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে বিএনপি`র একাধিক নেতা জানিয়েছেন।

তাদের খোঁজখবর নেয়া বা তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তারেক জিয়া`র এসবের দিকে কোনো মনোযোগ নেই। কিছুদিন আগে বিএনপি`র নেতা নিপুণ রায় চৌধুরী কারাগারে গিয়েছিলেন। সেই সময় তারেক জিয়া`র কাছে নিপুণ রায়ের বাবা এবং তার নিকটাত্মীয়রা যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল। তারেক জিয়া তাদের পাত্তা দেননি। এভাবে দেখা যাচ্ছে যে, তারেক জিয়া দলের জন্য যারা ত্যাগ স্বীকার করছেন, যারা নির্যাতিত হচ্ছে তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। বরং দলের ভেতর যারা টাকাওয়ালা, যারা তাকে নিয়মিত মাসহরা দিতে পারবেন তাদেরকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। আর এই সমস্ত কার্যক্রমের কারণেই এখন বিএনপি`র মধ্যে হতাশা তীব্র হয়েছে। এই হতাশা থেকে বিএনপি`র রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ হচ্ছে। বিএনপি`র অন্তত ৫ জন নেতা তারেক এবং ফখরুলের বিরুদ্ধে শলাপরামর্শ করছেন কথাবার্তা বলছেন এবং মুখ খুলতে শুরু করেছেন। সামনে নিশ্চয়ই তারেক-ফখরুল মোর্চার প্রকাশ্য রূপ দেখা যাবে বলছেন বিএনপি`র একাধিক নেতা।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি