মঙ্গলবার ২৭ জুলাই ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » খালেদার করোনার টিকা নিবন্ধন, বহিষ্কৃত হচ্ছেন ফখরুল!



খালেদার করোনার টিকা নিবন্ধন, বহিষ্কৃত হচ্ছেন ফখরুল!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
13.07.2021

নিউজ ডেস্ক: নিষেধ ছিল তারেকের। কিন্তু তার তোয়াক্কা না করেই করোনার টিকা নিতে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আর এ কাজে তাকে উৎসাহিত করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। খবরটি লন্ডনে তারেকের কানে পৌঁছাতেই তিনি বেজায় চটেছেন। বলছেন, তার (মির্জা ফখরুলের) এত বড় সাহস কোথা থেকে হয়? মাকে কেন তিনি ভুল পরামর্শ দিয়ে টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করলেন? কি ভেবেছেন ফখরুল, পার পেয়ে যাবেন? অত সহজ নয়, এর কঠিন শাস্তি তাকে ভোগ করতেই হবে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যমতে, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির শুরু থেকেই সরকার জনমানুষের সুরক্ষায় বিরামহীনভাবে কাজ করছে। এমনকি বিশ্বের অনেক দেশও যখন টিকার দেখা পায়নি, তখন সরকারি প্রচেষ্টায় দেশে বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এসব দেখে আর নিজেদের সংবরণ করতে পারেননি অন্ধভাবে সরকারের সমালোচনা করা বিএনপি নেতৃবৃন্দ। গাত্রদাহের অংশ হিসেবে তারা টিকা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে শুরু করে মিথ্যাচার। কিন্তু তা কাজে আসেনি। পরে বাধ্য হয়ে তারেকের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তাদের অনেকেই গোপনে আবার সেই টিকা গ্রহণ করেন এবং দলের অন্যদেরকে সরকার প্রদত্ত টিকা নিতে বলেন। কিন্তু গোপন এই বিষয়টি আর বেশিদিন গোপন রইলো না। তারেকের কানে পৌঁছাতেই শুরু হয়ে যায় জবাবদিহিতা পর্ব। কেন তারা এই টিকা নিলেন?

ঠিক এমনই পরিস্থিতিতে ৫ জুলাই (সোমবার) দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে করোনার ভ্যাকসিন নেন তারেক রহমানের শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু। এ দেখে উদ্বুদ্ধ হন বিএনপি নেত্রী। পরে বিষয়টি নিয়ে তিনি নিজের ‘আস্থাভাজন’ মির্জা ফখরুলের সঙ্গে আলাপ করেন। এসময় ফখরুল দলীয় চেয়ারপারসনকে বলেন নির্দ্বিধায় সরকারি টিকা নিতে। কারণ, বিষয়টি তিনি গোপন রাখবেন। তারেকের কান পর্যন্ত পৌঁছাবে না। এরপরই মূলত টিকার জন্য নিবন্ধন করেন খালেদা।

বিষয়টি গোপনে জানতে পেরে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী লন্ডনে খবরটি পৌঁছে দেন। বিষয়টি শোনামাত্রই তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন তারেক। শুরু করেন ফখরুলকে ফোন দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ। বলেন, দিন দিন আপনার (ফখরুলের) সাহসের যে ঊর্ধ্বগতি, তা অচিরেই কমানো হবে। ভয়াবহ শাস্তি ভোগ করতে হবে আপনাকে, দেখি কে ঠেকায় আপনাকে। প্রস্তুত থাকুন।

লন্ডনের কিংস্টনভিত্তিক একটি সূত্র জানায়, দলীয় চেয়ারপারসনকে টিকা নেওয়ার প্ররোচনা দিয়ে ফখরুল যে বিএনপির কত বড় ক্ষতি করলেন, তা তিনি নিজেও জানেন না। কারণ, এরপর আমাদের আর কোন ইস্যু বাকি রইলো না অপপ্রচার কিংবা আন্দোলনের। তাই এ কারণে ফখরুল কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হবে, যা তিনি কল্পনাও করেননি।

বিষয়টি জানতে বাংলানিউজ ব্যাংকের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, কি ঘটেছে তা ইতোমধ্যে সবাই জেনে গেছেন। তাই নতুন করে আর বলার কিছু নেই। যা বলার তা তারেক রহমানই বলবেন এবং যথাসময়ে বলবেন। ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। দেখবেন থলের বিড়াল ঠিকই বেরিয়ে এসেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে খালেদা জিয়া সরকার প্রদত্ত করোনার টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন। বয়োজ্যেষ্ঠ হওয়ায় এ কাজে তাকে সহায়তা করেছেন দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল। এখন বিষয়টিকে রাজনীতিকরণ করে যদি তারেক রহমান দল থেকে মির্জা ফখরুলকে অব্যাহতি দেন, তবে সেটা ক্ষমতার অপব্যবহার বৈ অন্যকিছু হবে না। অবশ্য তিনি এটাই করবেন। কারণ, তিনি এমনই। খেয়ালখুশি মেনেই সব কিছু করেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি