মঙ্গলবার ২৭ জুলাই ২০২১
  • প্রচ্ছদ » other important » এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে বার্তা পাঠিয়ে বিপদে মির্জা ফখরুল



এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে বার্তা পাঠিয়ে বিপদে মির্জা ফখরুল


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
13.07.2021

নিউজ ডেস্ক : ১৪ই জুলাই হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। এরশাদ হোসেন বাংলাদেশের সাবেক সেনাপ্রধান ও রাজনীতিবিদ যিনি ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার দেশ পরিচালনাকে অনেকেই সামরিক একনায়কতন্ত্রের সাথে তুলনা করেন। তিনি জাতীয় পার্টি নামক রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন যা পরবর্তীতে বেশ কিছু উপদলে বিভক্ত হয়।

সাবেক এই সেনাপ্রধানের মৃত্যুবার্ষিকীতে দেশের সকল রাজনীতিবিদ শোকবার্তা পাঠালেও বাদ ছিলো শুধু বিএনপি। এসময় অনেকে ধারণা করছিলেন, পূর্ব শত্রুতার কারণেই কোনো শোকবার্তা পাঠাবে না বিএনপি। ধারণার সত্যতা পাওয়া যায়, শোকবার্তা পাঠানোর বিপক্ষে অবস্থান নেয়া বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর সিদ্ধান্তে। যদিও পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হস্তক্ষেপে এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকীর শোকবার্তা প্রকাশ করে বিএনপি।

এ প্রসঙ্গে রুহুল কবীর রিজভী বলেন, এরশাদ বিএনপির চিরশত্রু । আর শত্রুতা থেকেই ১৯৯১ সালে বিএনপির শাসনামলে এরশাদ তার অপরাধের জন্য পাঁচ বছর জেল খাটেন। গঠনতন্ত্র অনুসারে বিএনপি শত্রুদের মৃত্যুবার্ষিকীতে কখনোই শোক পাঠায় না। যেমন বিএনপির প্রভাবশালী মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভুঁইয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে বিএনপি কোনো শোক জানায়নি। বিএনপির নিযুক্ত রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের মৃত্যুবার্ষিকীতেও আমরা কোনো শোক জানাইনি। আর এ কারণেই আমি এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে শোকবার্তা পাঠাতে অসম্মত ছিলাম। কিন্তু আমার নিষেধ অমান্য করে মির্জা ফখরুল শোক জানিয়েছেন। যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এরশাদ ৯ বছর সেনাপ্রধান ছিলেন, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা ছিলেন, সংসদ সদস্য থাকাকালীনই তিনি মারা গেছেন। অতীতে তাকে নিয়ে যতই সমালোচনা আর বিতর্ক থাকুক না কেন, একজন সংসদ সদস্য, সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং সাবেক সেনাপ্রধান- যিনি কিনা বিএনপির আমলেই সেনাপ্রধান হয়েছিলেন। তার মৃত্যুবার্ষিকীতে যদি শোকবার্তা না পাঠানো হতো, তবে পুনরায় সাধারণ মানুষের সমালোচনায় পড়তে হতো বিএনপিকে। আর এ কারণেই শত বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও আমি বিএনপির পক্ষ থেকে শোকবার্তা পাঠিয়েছি। যদিও এই কারণে রিজভী আমার প্রতি অখুশি। তিনি এ নিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। কিন্তু তারপরও তার জানা উচিত- সমালোচনা থেকে বাঁচতেই আমি শোকবার্তা পাঠিয়েছি।

এদিকে শোকবার্তা পাঠানোর পর থেকে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে রিজভীপন্থী নেতারা কোনো কথাই বলছেন না। গুঞ্জন উঠেছে, যেহেতু গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কাজ করেছেন মির্জা ফখরুল ফলে, এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে মির্জা ফখরুলকে মহাসচিব পদ থেকে সরিয়ে দেয়াও হতে পারে। কেননা, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান তার কাজকর্মে সন্তুষ্ট নন। অনেকদিন থেকে তিনি একটি ছুতো খুঁজছিলেন। এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে শোকবার্তা পাঠানোর মাধ্যমে তা পাওয়া গেলো।

উল্লেখ্য, নব্বইয়ের এরশাদ-বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদলের নেতা থাকাকালীন অবস্থায় মিছিলে চালানো গুলিতে আহত হন রিজভী। সেই থেকে এ পর্যন্ত রিজভীকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে হয়। আর সে কারণেই রিজভী ব্যক্তিগতভাবে এরশাদকে পছন্দ করতেন না।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি