মঙ্গলবার ২৭ জুলাই ২০২১



খালেদার শাসনামল: জিয়ার মতো দায়মুক্তি তিনিও দিয়েছিলেন


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
13.07.2021

নিউজ ডেস্ক: জিয়াউর রহমান এবং তার স্ত্রী বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া দেশে খুনের রাজনীতি এবং খুনিদের মদদ দেওয়ার ঘৃণ্য অপরাধ শুরু করেন। জিয়া ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ দিয়ে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের যেমন রক্ষাকবচ দিয়েছিল তেমনি খালেদা জিয়াও অপারেশন ক্লিনহার্টের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ শত শত মানুষ হত্যাকারীদের দায়মুক্তি দিয়েছেন।

রাজনৈতিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, খালেদা জিয়া ২০০১ সালে প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে র‍্যাব গঠন করে অপারেশন ক্লিনহার্টের নামে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মীসহ বহু মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

নির্বাচনের পর পরই শুরু হয় দেশজুড়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী, সমর্থক আর সংখ্যালঘুদের উপর বর্বরোচিত হামলা, নির্যাতন। হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনে আত্মহারা হয়ে যায় সমগ্র জাতি। শিশু, মহিলা, বৃদ্ধ কেউ বাদ যায়নি বিএনপি-জামায়াতের অত্যাচার, নির্যাতন থেকে। ২০০১ থেকে ২০০৬ এই পাঁচ বছরে ২১ হাজার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে হত্যা করে বিএনপি জামায়াতের ক্যাডাররা।

ইতিহাসবিদরা বলছেন, চারদলীয় জোটের আমল যেন জঙ্গিবাদের উর্বর সময় ছিল। ব্যাঙের ছাতার মত সারা দেশে গজিয়েছিল ধার্মিকদের দল, ইসলাম কায়েমের নামে অলিগলিতে উম্মেশ ঘটেছিল বাংলা ভাই, শায়খ আব্দুর রহমান, সানি, মুফতি হান্নানসহ নানান বক-ধার্মিকদের। ৬৩ জেলায় তাণ্ডব চালিয়েছে তারা। আক্রমণ চালিয়েছে প্রগতিশীলদের উপর। তাদের আক্রমণে ছিল জোট সরকারের পূর্ণ সমর্থন। বস্তুত জোট সরকারের সময় জামাতের ছত্রছায়া এবং আশকারা পেয়ে সারা দেশে জেএমবি তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছিল।

খালেদার সেই জঙ্গি বাহিনী ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় নিহত হন আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকা আইভি রহমানসহ ২২ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী। অল্পের জন্য রক্ষা পান আজকের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। সিলেটে গ্রেনেড হামলা চালানো হয় তৎকালীন ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর।

গাজীপুরের টঙ্গীর এক জনসভায় আহসানউল্লাহ মাস্টারকে গুলি করে হত্যা করে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা। এমনকি এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান সাক্ষী সুমন আহমেদ মজুমদারকে হত্যা করা হয় র‍্যাব হেফাজতে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০০১-০৬ শাসনামলে তারেক রহমানের মতো অনেক মন্ত্রী-এমপি দুর্নীতি, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে মেতে উঠেছিল। জনগণের সেবার নামে নিজেদের পকেট ভরতে ব্যস্ত হয়ে ওঠে তারা। দুর্নীতির কারণে সে সময় বাংলাদেশ পরপর ৫ বার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি জামায়াত জোট চক্রের অত্যাচার, নির্যাতন, লুটপাট, দুর্নীতি, হত্যা, রাহাজানী, ধর্ষণ, শিক্ষা ব্যবস্থার বিপর্যয়, কৃষি বিপর্যয়, বিদ্যুৎ বিপর্যয় ইত্যাদি বিষয়গুলো প্রতিদিনই সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ আজো ভুলেনি সেই দিনগুলোর কথা। ভয়াবহতার কথা।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি