মঙ্গলবার ২৭ জুলাই ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » ফখরুলের জন্যই নয়া পল্টনে ফিরতে পারছেন না রিজভী!



ফখরুলের জন্যই নয়া পল্টনে ফিরতে পারছেন না রিজভী!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
13.07.2021

ডেস্ক রিপোর্ট: রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রচলিত আছে বিএনপি পরিচালিত হয় দুই জায়গা থেকে। গুলশানে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয় থেকে বিবৃতি দেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিবৃতি দেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। একই দিনে এক বিষয়ে ফখরুল-রিজভীকে কথা বলতেও দেখা গেছে অনেক বার। বিএনপিতে প্রভাব বিস্তার নিয়ে এই দুই নেতার মধ্যে প্রতিযোগিতা অনেকটা ওপেন সিক্রেট। কিন্তু করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে রিজভীকে আর নয়াপল্টনে দেখা যাচ্ছে না। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়িতেও ফিরেছেন। কিন্তু আর নয়াপল্টনে ফিরতে পারছেন না। বরং সেখানে রিজভীর জায়গায় সংবাদ মাধ্যমে এখন নিয়মিত কথা বলছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। রিজভী সুস্থ হলেও কেন নয়াপল্টনে ফিরছেন না, বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিতে গেলে বেড়িয়ে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। মূলত মির্জা ফখরুলের জন্যই দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ফিরতে পারছেন না রিজভী।

সূত্র জানায়, করোনার শুরু থেকেই নিজেকে সুরক্ষিত রেখে নিয়মিত অনলাইন সংবাদ সম্মেলন করে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল। এদিকে মাঠে নেমে করোনায় আক্রান্ত হন রিজভী। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মাত্র সুযোগ লুফে নেন মির্জা ফখরুল। লন্ডনে থাকা তারেক রহমানকে বুঝিয়ে নয়া পল্টনে নিজের অনুসারী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সকে দায়িত্বে নিয়ে আসেন। এখন রিজভী সুস্থ হয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসতে চাইলেও মির্জা ফখরুল নানাভাবে তা প্রতিহত করছেন। তারেক রহমানকে নানাভাবে প্রভাবিত করে প্রিন্স সম্পর্কে আস্থাবান করেও তুলেছেন মির্জা ফখরুল। এতে অনেকটা সফলও তিনি। ফলে ফুরফুরে মেজাজে আছেন ফখরুল। এদিকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দায়িত্ব হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় আতঙ্কে পড়েছেন রিজভী। ভাবছেন বিএনপিতে তার কর্তৃত্ব বুঝি শেষ হয়ে গেল। তাই আগের দায়িত্বে ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

জানতে চাইলে রিজভী বলেন, দলের অনেক নেতা ঘরে বসে মিডিয়ায় কথা বলে কাজ শেষ করছেন। আমি করোনার মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলের জন্য কাজ করেছি। আক্রান্ত হয়েও দমে যাইনি। এখন সুস্থ হলেও আমাকে আগের দায়িত্বে ফিরতে দিচ্ছে না, বাসায় বসে রেস্ট নিতে বলতেছে। কিন্তু আমি পুরো সুস্থ, মিডিয়ায় কথা বলতে না পেরে এভাবে ঘরে বসে থেকে দিন দিন মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। যদি তারেক রহমান কারও কথায় ভুল বুঝে থাকেন, তাহলে সেটা দলেরই ক্ষতি। এত ত্যাগ করেও যদি আমাকে ভুলভাবে মূল্যায়ন করে তবে হয়ত একপর্যায়ে চরম সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, রিজভী সাহেব তো এখন সুস্থ। তাকে নয়া পল্টনে আসতে দিচ্ছে না কেন বিষয়টি বোধগম্য নয়। তবে আমিও শুনেছি, তাকে আসতে না দেওয়ার পেছনে ফখরুল সাহেবের হাত আছে। খারাপ সময়ে নিজেদের আধিপত্যের জন্য যদি দলের ক্ষতি করে কেউ তাহলে কিছু বলার থাকে না। এসব নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ তারেক রহমানের। নয়ত এই রেষারেষির জেরে দল ভেঙ্গে গেলে তখন সেই ক্ষতি সামলান কঠিন হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি