মঙ্গলবার ২৭ জুলাই ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » ‘ড. কামাল-তারেক রহমানরা জনভিত্তিহীন হয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে’



‘ড. কামাল-তারেক রহমানরা জনভিত্তিহীন হয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে’


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
14.07.2021

নিউজ ডেস্ক: বিএনপি ও গণফোরামের মতো দলগুলোর যাদের জনভিত্তি নেই, তারাই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক। তবে সব ষড়যন্ত্রের জবাব আওয়ামী লীগ দিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

নানক বলেন, দেশ যখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যায়, তখন দেশে কিছু জনভিত্তিহীন-গণভিত্তিহীন মানুষেরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ড. কামাল হোসেন সাহেব-বার্গম্যান-তারেক রহমানরা দেশে জনগণের কাছে সব গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। কিন্তু আমরা এর দাঁতভাঙা জবাব দেবো। সফল রাষ্ট্রনায়ক জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই দেশকে এগিয়ে যাওয়ার পথে যেকোনো প্রতিবন্ধকতা এলে তাকে ভেঙে চুরমার করে দিয়ে এই বাঙালি জাতিকে অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাব।

মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ছাত্রলীগের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের এক জরুরি বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

করোনাকালে ছাত্রলীগের মানবিক কার্যক্রমের প্রশংসা করে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ সব সহযোগী সংগঠন এই করোনাকালে আর্ত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। দেশে বন্যা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতির মধ্যেই পবিত্র ঈদুল আজহা সমাগত। ঈদুল আজহার প্রাক্কালে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হচ্ছে এই উৎসব পালনের জন্য। কিন্তু ঈদের সময়ও মানুষকে সচেতন থাকতে হবে। মানুষকে সচেতন রাখতে করণীয় নিয়েই ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে।

‘ড. কামাল-তারেক রহমানরা জনভিত্তিহীন হয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে’

পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে ড. কামাল হোসেনের ভূমিকার সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট যখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়, আমাদের বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকার কারণে প্রাণে বেঁচে যান। খুনি মোশতাক-জিয়ারা তখন বঙ্গবন্ধুর লাশের ওপর দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করল। সেই মুহূর্তে ড. কামাল হোসেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি একটি নিন্দাও জানাননি অথবা সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানাবার মতো সৎসাহসও দেখাতে পারেননি।

সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধেও ছাত্রলীগকে সতর্ক করা হয়েছে জানিয়ে নানক বলেন, ড. কামাল হোসেন সাহেবরা যখন বড় বড় কথা বলেন, ছবক দেন; তখন তারা ভুলে যেতে চান— তারাও কালো টাকাকে সাদা করেছেন। এই নির্লজ্জ কাজটিও তার দ্বারাই সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে আমরা সতর্ক করতে চাই, যারা ওঁৎ পেতে আছেন, যারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছেন, যারা আবার ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চান, বিরাজনীতিকরণ করতে চান, তাদের বলতে চাই— আমরা অত্যন্ত সতর্ক। বাংলাদেশ ছাত্রলীগও সতর্ক থাকভে। আমরা যেকোনো ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল। অন্যান্য নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাস, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, শাহাবুদ্দিন ফরাজি, সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম।

ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি