মঙ্গলবার ২৭ জুলাই ২০২১



জোট নিয়ে দিশেহারা বিএনপি


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
15.07.2021

নিউজ ডেস্ক: দুই রাজনৈতিক জোট—২০ দল এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে দিশেহারা বিএনপি। ইতিমধ্যে ২০–দলীয় জোট ছেড়ে গেছে পাঁচটি দল। ভেঙে গেছে জোটের সাতটি শরিক দল। তবে সব দলেরই ভাঙা একটি অংশ জোটে আছে। এমনও হয়েছে, এক দলের দুই অংশের শীর্ষস্থানীয় নেতাই জোটের বৈঠকে উপস্থিত হয়েছেন। তখন এক অংশের নেতাকে দেখে আরেক অংশের নেতা বৈঠক ছেড়ে চলে গেছেন। শরীক দলগুলোর সঙ্গে কোনো রকম স্বাভাবিক যোগাযোগ নেই বিএনপির; এমনকি বিভ্রান্তি রয়েছে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বেও।

জোটের শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ পরিস্থিতির কথা জানা গেছে।

জোট সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি বহু আগে থেকেই বন্ধ। প্রায় আড়াই বছর ধরে বিএনপির দুই জোটের শরিক দলগুলো যে যার মতো করে চলছে, কথা বলছে। দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নভাবে এ পথচলা জোটের সম্পর্ক অনেকটা কাগুজে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে জোটে এবং কোনো কোনো শরিক দলের অভ্যন্তরে চলছে ভাঙা–গড়া।

এদিকে বুধবার (১৪ জুলাই) সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ শরিক দলের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না।

আরও অভিযোগ- শরিকদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই তিনটি আসনের উপনির্বাচন এককভাবে বর্জন করা, বিএনপির মহাসচিবের শরিয়াহ আইনে বিশ্বাসী না হওয়ার বক্তব্য দেওয়া, আলেম-ওলামাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ না করা, জোটের যৌথ কোনো কার্যক্রম না থাকা, জমিয়তের মহাসচিব নূর হোসেন কাসেমীর মৃত্যুতে বিএনপির পক্ষ থেকে সমবেদনা না জানানোয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভসহ বিভিন্ন কারণে ২০ দলীয় জোট ছেড়েছে ইসলামিক এই দলটি।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে বিএনপি, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য, জেএসডি ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ মিলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়। নির্বাচনের পর এ জোটের শরিকদের মধ্যে প্রথমে মনোমালিন্য, এরপর বিভক্তি দেখা দেয়। জোট থেকে বেরিয়ে যায় কাদের সিদ্দিকীর দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। ভাঙনে পড়ে আ স ম আবদুর রবের জেএসডি ও ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হওয়ার পর শুরুর দিকে সংগঠনের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামসহ অন্য নেতারা অংশ নিতেন। একপর্যায়ে বিএনপির নেতারা বৈঠকে অংশ নেওয়া বন্ধ করে দেন। করোনা মহামারির পর থেকে ঐক্যফ্রন্ট নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।

এ জন্য ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বিএনপিকেই দোষারোপ করেন। তাদের অভিযোগ, বিএনপি একলাই পথ চলতে চাইছে। জোটবদ্ধ আন্দোলনের ব্যাপারে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে বিভ্রান্তি আছে। তাদের পর্যবেক্ষণ- ভয়ে হোক, অন্য কোনো আশঙ্কা থেকে হোক, রাজপথের আন্দোলনে বিএনপি এখনো অনাগ্রহী।

এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জোটকে অ্যাকটিভ করার জন্য আমরা গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করছি। সবাইকে নিয়ে আরও বৃহত্তর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার উদ্যোগ নিচ্ছি।

অবশ্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন- বিএনপির সাংগঠনিক ব্যর্থতায় জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাই জোটের রাজনীতিতে ভর করে টিকে থকাতে চায়। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দু’জনই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তারেক বিদেশে পলাতক। খালেদা দলীয় কোন্দল ও শারীরিক অসুস্থতায় ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছেন রাজনীতি থেকে। এমনাবস্থায় বিএনপির রাজনীতি শরিকনির্ভর হয়ে পড়েছে। সমন্বয় আর সিদ্ধান্তহীনতায় সেখানও ব্যর্থ বিএনপি।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি