রবিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » ফখরুল ও রিজভীর দ্বন্দ্বের অবসান চায় বিএনপি



ফখরুল ও রিজভীর দ্বন্দ্বের অবসান চায় বিএনপি


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
25.07.2021

নিউজ ডেস্ক : বিএনপির মহাসচিব বনাম যুগ্মমহাসচিবের মধ্যকার লড়াই মৌন থাকলেও করোনা কালীন সময়ে তা সম্মুখে এসেছে। মূলত মতামত ও আদর্শ প্রতিষ্ঠার দ্বন্দ্বে গুলশান কার্যালয় এবং নয়াপল্টন কার্যালয়কে ঘিরে দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বিএনপি। গুলশানে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও পল্টনে রিজভীর প্রাধান্য বিস্তারে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন দলটির নেতৃবৃন্দ। দুই নেতার দুই নীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য থেকে ছিটকে পড়ছে দলটি বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নেতারা।

এমন প্রেক্ষাপটে দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, করণীয় নির্ধারণ ও দলের কার্যক্রমে স্থবিরতা বিরাজ করছে বলে গুঞ্জন চাউর হয়েছে। দুই নেতার স্বেচ্ছাচারিতা অনতিবিলম্বে বন্ধ করা সম্ভব না হলে দলের সাংগঠনিক বিপর্যয় ঘটবে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

দুই নেতার দ্বন্দ্বে বিএনপির নাজেহাল অবস্থা সম্পর্কে জানতে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল ও রিজভী দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধানের মতামত নিয়েই প্রেস ব্রিফিং করেন। দু’জন দুই জায়গা থেকে বক্তব্য দেন, এজন্য অনেক সময় তাদের বক্তব্যে কিছু কিছু অমিল তৈরি হয়। অবশ্য এটার কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। দুই নেতার দু’রকম বক্তব্যের কারণে দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়ে অন্ধকারে থাকেন বাকি নেতারা। এ নিয়ে দলের নেতাদের মধ্যে অসন্তোষের বিষয়টি আমি জেনেছি। সেজন্য এর প্রতিকার চেয়ে লন্ডনে চিঠিও দিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো সদুত্তর পাইনি।

তিনি আরো বলেন, এক দল তো দুই নেতার নেতৃত্বে চলতে পারে না। সমস্যা হলো- দু’জন দুই পন্থী। সেজন্যই তারা একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছেন। যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দল। সেক্ষেত্রে আমি রিজভীকে পরামর্শ দিতে চাই, সিনিয়রদের সম্মান করতে শিখুন। কথা বললেই নেতা হওয়া যায় না। নেতৃত্ব দিতে মেধা ও প্রজ্ঞা লাগে।

বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, সংকটকালীন সময়ে এই ধরণের বিভেদ কাম্য নয়। রিজভী আহমেদের মধ্যে এক ধরণের সুপিরিয়রটি কমপ্লেক্স কাজ করে। কক্ষে বদ্ধ থাকতে থাকতে তার বুদ্ধি-বিবেচনা বোধও বদ্ধ হয়ে গিয়েছে। জাতীয় ইস্যুতে মির্জা ফখরুলের কথা বলার দায়িত্ব থাকলেও রিজভী বরাবরই অতি-উৎসাহী হয়ে প্রেস ব্রিফিং করে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটান।

তিনি আরো বলেন, ফখরুল-রিজভী দ্বন্দ্বে দলের বিভেদ স্পষ্ট হওয়ায় অনেক সিনিয়র নেতাই সম্মান বাঁচাতে দলে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। দলকে পুনর্গঠন করার আগে দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে। দলকে শক্তিশালী করতে হলে বিভেদ ও বিভক্তি দূর করতে হবে। বিশেষ করে রিজভীর নিয়ম ভাঙার বিষয়ে দলকে কঠোর হতে হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি