বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » প্রমাণ হলো নজরদারির জন্য কোনো ইসরায়েলি প্রযুক্তি কেনেনি বাংলাদেশ



প্রমাণ হলো নজরদারির জন্য কোনো ইসরায়েলি প্রযুক্তি কেনেনি বাংলাদেশ


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
26.07.2021

নিউজ ডেস্ক: সরকারের বিরুদ্ধে ফোনে আড়িপাতার জন্য ইসরায়েল থেকে পেগাসাস নামের স্পাইওয়্যার কেনার যে অভিযোগ তুলেছিল আল জাজিরা, নেত্রনিউজরে তাসনিম খলিল এবং সামি। তা মিথ্যা প্রামাণ করলো বিশ্বের ১৭টি প্রথম সারির গণমাধ্যম,প্যারিসভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘ফরবিডেন স্টোরিজ’ এবং সেই সঙ্গে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের যৌথ অনুসন্ধান।

এ বছরের গোড়ার দিকে কাতারের আল জাজিরা টিভি তাদের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলেছিল- নজরদারির জন্য বাংলাদেশ গোপনে ইসরায়েলি প্রযুক্তি কিনেছে। সেই খবর নিয়ে সেসময় ব্যাপক হৈচৈ সৃষ্টি হয়েছিল। তবে এই অনুসন্ধানে আল জাজিরার সেই প্রতিবেদনের তথ্য মিথ্যা বলে প্রমাণ হয়। এবং প্রমাণ হিসাবে আল জাজিরা যে নথিপত্র-ছবি-ফুটেজ প্রচার করে তাও বানোয়াট বলে প্রমাণ হয়।

সম্প্রতি সুইডেনপ্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিক তাসনিম খলিল বিবিসি বাংলাকে বলেন, তার জানা মতে পেগাসাসের ব্যবহার নিয়ে সর্ব-সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে বাংলাদেশে এটির সরাসরি ব্যবহারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এতেই স্পষ্টভাবে প্রমাণ হয়- আল জাজিরার প্রতিবেদনে এটি ছিল সরকারকে বিশ্বমঞ্চে হেয় কারার জন্য মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য। যা বিবিসির কাছে নিজেই স্বীকার করেন তাসনিম খলিল।

নেত্র নিউজ ওয়েব পোর্টালের সম্পাদক বিবিসিকে আরও বলেন, যে ১৭টি মিডিয়া এই অনুসন্ধানী প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের একটির সম্পাদক তাদেরকে জানিয়েছেন পেগাসাস ঢোকানো হয়েছে এমন কোনো বাংলাদেশি মোবাইল ফোনের সন্ধান তারা পাননি। ‘ঐ সম্পাদক নিশ্চিত করেছেন ০০-৮৮ দিয়ে শুরু কোনো নম্বরের মোবাইল ফোন তার পাননি।’ তবে এই অনুসন্ধানে যে ৫০ হাজারের মতো টেলিফোন নম্বরে পেগাসাস ঢোকানোর আলামত পাওয়া গেছে সেগুলো কোন কোন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে বা হয়েছে তার পুরো তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

অনুসন্ধানে যেসব দেশে ব্যাপকহারে এই নজরদারি চালানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে, তেমন দেশের তালিকায় বাংলাদেশ নেই। বিশ্বের প্রায় যে প্রায় ৫০টি দেশে ৫০ হাজারেরও বেশি মোবাইল ফোনে ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান এনএসওর তৈরি পেগাসাস নামের সফটওয়ারটি ঢুকিয়ে নজরদারির নজির এই অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে তাতে বাংলাদেশের কোনো টেলিফোন নম্বর নেই।

এ বিষয়ে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, যুদ্ধাপরাধ, নিরাপদ সড়ক, কোটা আন্দোলন, রোহিঙ্গার মতো ইস্যুতে খবর প্রচারের ক্ষেত্রেই আল-জাজিরার বস্তুনিষ্ঠতা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। বাংলাদেশকে হেয় করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে গণমাধ্যমটির বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে যে এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নেমেছিল তা ভেস্তে গেল এই অনুসন্ধানে।

তিনি আরও বলেন, সরকারকে আরও সতর্ক হতে হবে। আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়েও তারা যে অপপ্রচার চালিয়েছে, তা জঘন্য।

নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র থেকে জানা যায়, ১৭ বছর যাবত তাসনিম খলিল বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার যোগসাজশে টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। আল জাজিরায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে ঔ প্রতিবেদনটি প্রচারের পেছনেও ছিল মোটা অংকের টাকার খেলা। যার মূল মাস্টারমাইন্ড ছিল তারকে রহমান। জানা যায়, বর্তমানে ফেসবুক ইউটিউবে যারা এক জোট হয়ে শেখ হাসিনা ও দেশবিরোধী কার্যক্রম চালাচ্ছেন, তারা সকলেই তারেক রহমানের নির্দেশে বিভিন্ন দেশ থেকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে একযোগে কাজ করেন। ফান্ড যোগাচ্ছেন জামায়াত-বিএনপি।

উল্লেখ্য, হেফাজতের পক্ষেও তাদের সমর্থন ব্যক্ত করে সংবাদ প্রচার করে আসছে। আল জাজিরা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষেও তাদের অবস্থান ব্যক্ত করে ধারাবাহিক প্রতিবেদন করেছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি