রবিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » তারেকই থাকছেন, দলের নেতৃত্বে আসছেন না পরিবারের বাইরের কেউ!



তারেকই থাকছেন, দলের নেতৃত্বে আসছেন না পরিবারের বাইরের কেউ!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
29.07.2021

নিউজ ডেস্ক: ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি একটি দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার কারাগারে যাওয়ার দিনই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ‘তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ ঘোষণা করে বিএনপি। তবে কারামুক্ত হয়ে খালেদা জিয়ার বাসায় প্রত্যাবর্তনের পরও ওই অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়ে বিএনপি কিছু স্পষ্ট জানায়নি। এখন একই সঙ্গে চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকায় দলের ভেতরে ও বাইরে সমালোচনার গুঞ্জন থামানো যাচ্ছে না।

এ গুঞ্জন আরও বেশি চাউড় হয়েছে তারেকের বিতর্কিত নেতৃত্বের কারণে। তার নেতৃত্বে দলের ‘দুরবস্থা’ নিয়ে এখন প্রকাশ্যে কথা বলেছেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা। এমনকি খালেদা-তারেককে বাদ দিয়ে বিএনপির হাল ধরতে সক্রিয় হচ্ছে একটি গ্রুপ।

বিএনপির একটি গোপন সূত্র বাংলা নিউজ ব্যাংককে জানায়, তারেক নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় দল গোছানোর জন্য তৎপরতা শুরু করেছেন। তিনি চাইছেন, স্থায়ী কমিটিসহ সবাই তার পক্ষে কথা বলুক। এ জন্য পছন্দের লোকদের তিনি ধীরে ধীরে পদায়নের চেষ্টাও চালাচ্ছেন, যা দলের সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি সব স্তরে দৃশ্যমান হচ্ছে।

সুত্রটি আরো জানায়, সাম্প্রতিককালে তারেক অনুসারী বলে পরিচিত নেতারা বড় পদে যাওয়ার জন্য বেশ তৎপরতা শুরু করেছেন। অতি উৎসাহী দুয়েকজন নেতা মহাসচিব হওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপও শুরু করেছেন।

অন্যদিকে দলের বড় একটি অংশ এ কারণে শঙ্কিত। তারা ভাবছেন তারেক পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারলে বিএনপিতে তাদের ভবিষ্যৎ নেই এবং দল হিসেবে বিএনপি বিলীন হয়ে যাবে। তাই বড় এই অংশটি চাইছেন, সর্ব মহলে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব দ্বারা দলের হাল ধরতে।

এদিকে ২০১৮ সালের নির্বাচনে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বাইরে বিএনপির দু’একজন সিনিয়র নেতাকে দলের হাল ধরার পরামর্শ দিয়েছিল বলে জানায় দলটির নির্ভরযোগ্য সূত্র। এমন সমঝোতা বা প্রস্তাবে ক্ষমতায় যাওয়া অথবা শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে সংসদে যাওয়ার মতো আসন দেওয়ার প্রস্তাব ছিল বলে জানায় সূত্রটি।

কিন্তু এক-এগারোর কথা বিবেচনায় রেখে সিনিয়র নেতারা খালেদা ও তারেকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে রাজি না হওয়ায় নির্বাচনী ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে বিএনপির।

সেই ভুল পুনরায় না করতে ইতোমধ্যেই বিএনপির এই অংশটি আন্তর্জাতিক যোগাযোগ শুরু করেছে বলে সূত্রে প্রকাশ। জানা যায়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে এই কাজটি করছেন। এখন অপেক্ষা শুধু সবুজ সংকেতের।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান- এই পরিবারবৃত্তের মধ্যে আবদ্ধ থাকলে রাজনীতি বা ক্ষমতার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে বিএনপি ভবিষ্যতে নাও পৌঁছতে পারে।

তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকতে তারেক সমর্থকদের ভূমিকায় সেনাবাহিনী ক্ষুব্ধ ছিল। সেই অবস্থার আজও পরিবর্তন হয়নি। তা ছাড়া এই পরিবারতন্ত্র চলতে থাকলে একসময় বিএনপির সিনিয়র নেতারাও রাজনীতির প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। সুধীসমাজও বিএনপিকে গ্রহণ করবে বলে মনে হয় না। পরিবারতন্ত্রের বাইরে গিয়ে ভারতে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় এসেছেন। তাই পরিবারতন্ত্র পাকাপোক্ত না করে খালেদা জিয়ারও দলের মধ্যে গণতন্ত্র চর্চা শুরু করা উচিত বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এই অধ্যাপক।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি