রবিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১



বিএনপিতে নেই, তবুও আলোচনায় ফালু


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
30.07.2021

নিউজ ডেস্ক: মোসাদ্দেক আলী ফালু বেগম খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠজন। বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ছিলেন, ছিলেন বেগম জিয়ার একান্ত সচিব। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া তাকে সংসদ সদস্য করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে বিএনপিতে অনেক প্রভাবশালী এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন ফালু। কিন্তু বিএনপির গত সম্মেলনের পর যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল সেই কমিটি থেকে তিনি নিজেই পদত্যাগ করেছিলেন। পদত্যাগের পর রাজনীতির বাইরে থাকার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একাধিক মামলা করে। এ সমস্ত মামলার প্রেক্ষিতে মোসাদ্দেক আলী ফালু পালিয়ে সৌদি আরব চলে যান। এখন সেখানে বসবাস করছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে তার তেমন সম্পর্ক নেই। রাজনীতিও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে করেন না বলেই তিনি জানিয়েছেন। কিন্তু তারপরও বিএনপিতে এখনো প্রভাবশালী এবং ক্ষমতাবান ব্যক্তি হিসেবেই মোসাদ্দেক আলী ফালু পরিচিত। বেগম খালেদা জিয়ার সাম্প্রতিক অসুস্থতা, তার বিদেশে যাওয়া এবং তার সম্পদের ভাগ বাটোয়ারা ইত্যাদি ইস্যুতে আবার মোসাদ্দেক আলী ফালুর নাম সামনে এসেছে।

মোসাদ্দেক আলী ফালু এখন বিএনপির বিভিন্ন নেতার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিচ্ছেন এমন তথ্য দিচ্ছেন বিএনপির অনেক নেতারাই। বিএনপি নেতারা বলছেন যে, বেগম খালেদা জিয়া মোসাদ্দেক আলী ফালুর উপরই বেশি আস্থাশীল। সেজন্য অনেক বিষয়ে ফালুর ওপর তিনি নির্ভর করছেন। দুটি দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে বেগম খালেদা জিয়া ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন।

গত বছরের ২৫ মার্চ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২১ ধারায় সরকারের বিশেষ অনুকম্পায় জামিন পেয়েছেন। সেই জামিনে এখন তিনি রয়েছেন। এরমধ্যে বেগম জিয়া অসুস্থ হয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতালে ছিলেন, করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেই সময় বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার আবেদন করেছিলেন সরকারের কাছে, সেই আবেদন নাকচ হয়ে যায়। কিন্তু ওই আবেদনের পরপরই ফালু পাদপ্রদীপে চলে আসেন। বেগম খালেদা জিয়াকে শেষপর্যন্ত লন্ডনে যেতে দেওয়া হবে না এরকম গুঞ্জন যখন শোনা যায় তখন ফালুর গুরুত্ব বাড়ে বিএনপিতে। শুধু বিএনপি নয় বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরাও মোসাদ্দেক আলী ফালুর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন।

বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দুটি ভাগ রয়েছে। একটি ভাগ চিকিৎসা রয়েছে লন্ডন এবং যুক্তরাষ্ট্রে। তবে বেশির ভাগই হচ্ছে সৌদি আরবে। সৌদি আরবে মোসাদ্দেক আলী ফালুর অনেকগুলো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে জানা যায়। মোসাদ্দেক আলী ফালুর এই সমস্ত সম্পদের মালিক আসলে তিনি নিজে না খালেদা জিয়া এ নিয়ে বিএনপি`র মধ্যেই বিতর্ক রয়েছে। তবে সেই বিতর্ককে পাশ কাটিয়ে খালেদা জিয়ার অসুস্থতার প্রেক্ষিতে ফালু বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বেগম জিয়াকে যদি লন্ডনে যেতে না দেওয়া হয় সেজন্য সৌদি আরবে বিকল্প ব্যবস্থা ফালু করেছিলেন বলেও জানা যায়। বিএনপি`র অনেকেই মনে করেন যে, বিএনপিতে যে দুটি ধারা সেই দুটি ধারার একটি ধারায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেন মোসাদ্দেক আলী ফালু।

ফালুর সঙ্গে একদিকে যেমন তারেক জিয়ার বৈরিতা রয়েছে অন্যদিকে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর পরিবারের সঙ্গে সখ্যতা রয়েছে। ফালুর প্রায় প্রতিটি ব্যবসায় কোকো পার্টনার হিসেবে ছিলেন। কোকোর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী এইসব ব্যবসায় অংশীদার বলে জানা গেছে। আর খালেদা জিয়াকে বিভিন্নভাবে আর্থিক সহায়তা করার ক্ষেত্রেও ফালুর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি`র অনেকেই মনে করেন যে, খালেদা জিয়ার বিপুল সম্পত্তির পুরোটাই ফালু রক্ষণাবেক্ষণ এবং দেখভাল করে। আর এ কারণেই বেগম জিয়া যখনই অসুস্থ হয়ে যান তখনই ফালুর গুরুত্ব বাড়ে। আর তাই রাজনীতির না করলেও ফালু সবসময় বিএনপিতে একটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি