রবিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১



ফখরুলকে সড়াতে হঠাৎ বিএনপিতে মাহি!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
31.07.2021

নিউজ ডেস্ক: মাহি বি চৌধুরী। তার মূল পরিচয় তিনি প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পুত্র। অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী শুধু প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির নয়, বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তার বাবা কফিল উদ্দিন চৌধুরী যদিও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল কিন্তু অধ্যাপক বি চৌধুরী জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বিএনপির রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ এবং আস্থাভাজন ব্যক্তি ছিলেন। বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। জিয়ার মৃত্যুর সময় তার ভূমিকা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছিল এবং এই প্রশ্নের কারণে জিয়ার মৃত্যুর পর তিনি দলের মধ্যে সমালোচিত হয়েছিলেন কিন্তু তারপরও বিএনপি আঁকড়ে ধরে থাকেন।

২০০১ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে বি চৌধুরী তাঁর পুত্র মাহি বি চৌধুরীকে লাইমলাইটে নিয়ে আসেন। সেই সময়ে বি চৌধুরী এবং মাহি বি চৌধুরীর যৌথ প্রযোজনা সাবাস বাংলাদেশ সারাদেশে চমক সৃষ্টি করেছিল। অসত্য, অর্ধসত্য তথ্য দিয়ে সাবাস বাংলাদেশ নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপিকে জেতানোর ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা রেখেছিল বলে অনেকে মনে করেন। এরপরই মাহি বিএনপির রাজনীতির আলোচনায় আসেন। তার সঙ্গে তারেক জিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও শোনা যায়।

হাওয়া ভবনের কল্যাণে ২০০১ সালের পর টেলিভিশন দখল করেন মাহি বি চৌধুরী এবং টেলিভিশনের সব কর্তৃত্ব তার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচনে সাবাস বাংলাদেশের ভূমিকার কারণেই মাহি বি চৌধুরী এবং বি চৌধুরী বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিতে পরিণত হন। তার পুরস্কারও পান অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তিনি বিএনপির মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতি হবার পরেই অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে নিয়ে বিএনপি`র মধ্যে নানারকম সমালোচনা হতে থাকে। বিশেষ করে জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত না করা নিয়ে তোপের মুখেও পড়েন তিনি। এক পর্যায়ে অভিশংসনের মুখে অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী সংসদে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য হন। এরপরই বিএনপিতে বি চৌধুরী এবং মাহি বি চৌধুরী অধ্যায়ের সমাপ্ত হয়। তারা নতুন রাজনৈতিক দল করেন বিকল্পধারা নামে।

বিকল্পধারার রাজনীতিতে বিএনপি বিরোধী অবস্থান যতটা না ছিল তার চেয়েও ছিল অপ্রাপ্তির যন্ত্রণা, দুঃখ হতাশা। এই বিকল্পধারার বিরুদ্ধে আবার বিএনপিও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। সেজন্য অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে আবার রেললাইন দিয়ে দৌড়ে পালাতে হয়েছিল। যাই হোক সেগুলো পুরনো কথা কিন্তু নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে পিতা-পুত্র বারবার রং বদলের খেলায় মেতে ওঠেন। কখনো বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, কখনো আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা। যখন যেদিকে সুযোগ বেশি সেই সুযোগটি গ্রহণ করেন তারা। বিকল্প ধারা রাজনৈতিক দল হিসেবে বিকশিত হতে পারেনি। না পারলে কি হবে, এই রাজনৈতিক দলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও মাহি বি চৌধুরী দুজনেই লাভবান হয়েছেন। তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কিছু নাটকীয় মেরুকরণ ঘটে।

সেই সময়ে জাতীয় ঐক্যফন্ট গঠনের একটি প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে সামনে রেখেই এই ঐক্য প্রক্রিয়ায় কাজ শুরু হয়েছিল। কথা ছিল যে অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং কামাল হোসেন যৌথভাবে নেতৃত্ব দিবেন। কিন্তু তারেকের অনীহার কারণে শেষ পর্যন্ত অধ্যাপক চৌধুরী এবং মাহি বি চৌধুরীকে জাতীয় ঐক্যফন্টে নেওয়া হয়নি। বি চৌধুরী ড. কামাল হোসেনের বাসা পর্যন্ত গিয়েও ফেরত আসেন। এরপর মাহি বি চৌধুরী গণমাধ্যমকে বিএনপির বিরুদ্ধে এবং জাতীয় ঐক্যফন্টের বিশ্বাসঘাতকতা নিয়ে কথা বলেন। তার পুরস্কারও পান বি চৌধুরীর দল বিকল্পধারা। মহাজোটের অংশ হয় এবং সেখান থেকে মাহি বি চৌধুরী এবং অবসরপ্রাপ্ত আব্দুল মান্নান মনোনয়ন পান এবং তারা এমপিও নির্বাচিত হন। কিন্তু মাহি বি চৌধুরীর যে রাজনৈতিক উত্থান ২০০১ সালে হয়েছিল সেই ধারায় আর এগোতে পারেনি।

২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে যে অর্থ পাচার এবং দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে সেই অভিযোগের তদন্ত ঢিমেতালে চলছে। রাজনীতিতে মাহি বি চৌধুরীর যে উত্থান সেই উত্থান যেন হঠাৎ আলোর ঝলকানি মত। এখন গত আড়াই বছরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তিনি নেই বললেই চলে। জাতীয় সংসদেও তিনি ভূমিকাহীন। সরকারের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে কিন্তু তার বিরুদ্ধেও ব্যাপক অর্থ আত্মসাৎ এবং দুর্নীতির অভিযোগ। সেই দুর্নীতির অভিযোগ তাকে রাজনীতিতে এক বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবেই উপস্থাপিত করেছে। আর সেখান থেকেই তিনি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন কিনা কে জানে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি