রবিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » খালেদার আক্ষেপ, কুলাঙ্গার তারেকের জন্যই আজ এই দশা!



খালেদার আক্ষেপ, কুলাঙ্গার তারেকের জন্যই আজ এই দশা!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
31.07.2021

ডেস্ক রিপোর্ট: করোনা ভাইরাস থেকে সুস্থ হওয়ার পর গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় নিঃসঙ্গ দিন কাটাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় প্রকাশ্য রাজনীতিতে সক্রিয় হতে পারছেন না তিনি। কিন্তু ঘরোয়াভাবে দলের কিছু কর্মকাণ্ড করতে চাইলেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং সন্তান তারেক রহমানের জন্য তাও করতে পারছেন না। তার এই নিঃসঙ্গ অবস্থার জন্য সমস্ত দায় তারেক রহমানের, ঘরোয়া আলোচনায় এমনটাই বলেছেন খালেদা জিয়া। খালেদার ঘনিষ্ঠ এক বিএনপি নেতা জানান, তারেককে কুলাঙ্গার বলেও গালি দিয়েছেন খালেদা জিয়া।

গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর ২৭ এপ্রিল তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এক মাসেরও বেশি সময় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর বাসায় ফিরে আসলেও কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারছেন না। জানা গেছে, দুর্নীতির মামলায় জেলে যাওয়ার পর তারেক রহমান দলের সব দায়িত্ব হাতে নেন। এরপর খালেদার জেলে থাকার সুযোগে দলের সব কমিটিতে নিজের অনুসারীদের বসিয়ে বিএনপিতে একক রাজত্ব কায়েম করেছেন তারেক। এরপর সরকার বিশেষ বিবেচনায় দণ্ড স্থগিত করে বাসায় থাকার অনুমতি দিলেও তারেকের বাধার কারণে বিএনপির কোন কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারছেন না খালেদা।

সূত্র জানায়, বাসায় একা বসে থাকতে থাকতে হতাশা ঘিরে ধরেছে খালেদাকে। একসময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, বড় বড় মন্ত্রী-নেতারা তার কথায় ওঠবস করতো, হাজার হাজার মানুষ তার নামে স্লোগান দিত, কিন্তু এখন পাশে কেউ নেই — এসব কথা ভেবে বিষণ্ণ হয়ে পড়ছেন খালেদা জিয়া।

একসময় খালেদা জিয়ার সাথে রাজনীতি করা বিএনপির এক সিনিয়র নেতা নাম না প্রকাশ করার স্বার্থে বলেন, আমি কিছুদিন আগে ম্যাডামকে দেখতে গিয়েছিলাম। ম্যাডাম তারেক রহমানের উপর ক্ষুব্ধ। তার আজকের এই খারাপ অবস্থার জন্য তারেককে দায়ী করে ম্যাডাম বলেছেন, তারেককে যদি একটু লাগাম ধরতে পারতাম তাহলে আজকের এই খারাপ দশায় পড়তে হত না। ছিলার প্রধানমন্ত্রী, এখন গৃহবন্দী হয়ে পচে মরছি। সব দোষ ওই কুলাঙ্গারটার। তার যত অপকর্মের জন্য এখন আমাকে সাজা পেতে হচ্ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমি তিন চার দিন আগে ম্যাডামের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তাকে বেশ হতাশ, বিষণ্ণ মনে হচ্ছিল। একসময় দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি ছিলেন, এখন একদম নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করছেন– এই বিষয়টি তাকে পীড়া দিচ্ছে। আমার মনে হয় তারেক সাহেবের ভাবা উচিৎ, ম্যাডাম শুধু বিএনপির চেয়ারপারসন নান, তিনি তার মা-ও বটে। একজন মায়ের মঙ্গলের জন্য সন্তান হিসেবে তার কিছু দায়িত্ব আছে। তাকে হয় বিদেশে পাঠানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া উচিৎ, নয়ত বাসায় বসেই দলের কিছু কাজে যুক্ত করা উচিৎ। এরকম নিঃসঙ্গ পড়ে থাকলে বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারেক রহমান তার দায় এড়াতে পারবেন না।

 

 



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি