রবিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১



আমীর খসরুর কথায় বিভ্রান্ত বিএনপি


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
02.08.2021

নিউজ ডেস্ক : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি সংক্রান্ত এক অনলাইন মিটিংএ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। আমীর খসরু বলেন, আমাদের সিনিয়র নেতারা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে নাকি শেখ হাসিনাকে খুশি করবে সেই সিদ্ধান্ত আগে নিতে হবে। আমীর খসরুর এমন মন্তব্যের পর দলীয় রোষানলে পড়েছেন তিনি। দলের সংকটে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোয় আমীর খসরুর অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দলটির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

রবিবার (১ আগস্ট) ফেসবুকে একটি জুম মিটিংএ বেগম জিয়ার মুক্তি নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের দ্বিধান্বিত অবস্থান ও দলের সিদ্ধান্তহীনতাকে দায়ী করে আমীর খসরুর এমন বক্তব্যে দলের অভ্যন্তরে সমালোচনা শুরু হয়।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে ভবিষ্যতে সচেতন হয়ে বক্তব্য দেয়ায় পরামর্শ দিয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, চলমান রাজনৈতিক পরিক্রমায় বিএনপি কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতা কিছুটা দলীয় কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি করেছে। এছাড়া করোনা ভাইরাসের একটা প্রভাব রয়েছে। যার কারণে বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলনও পিছিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া আইনি প্রক্রিয়াতেও সমন্বয়হীনতা রয়েছে সামান্য। আমরা আদালতকে উপযুক্ত যুক্তি প্রদর্শন করে কনভিন্স করতে পারছি না। যার কারণে ম্যাডামের মুক্তিতে সময় লাগছে।

তিনি আরো বলেন, তবে ক্ষমতাসীন সরকারকে খুশি করে বেগম জিয়ার মুক্তি আদায় কখনই বিএনপির লক্ষ্য হতে পারে না। ক্ষমতাসীনদের কাছে বিএনপির রাজনীতি বন্দী নেই। বিএনপির রাজনীতিকে নিজেরাই গৃহবন্দী করেছি। আমাদের ভয়, ভীতি, দুর্বলতা ও লেজুড়বৃত্তির কারণে নেত্রী ও দলের এই দুরবস্থা। বিএনপির শত্রু ক্ষমতাসীনরা নন, বরং অভ্যন্তরীণ কোন্দলই বিএনপির বড় শত্রু।

বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে দলটির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, আমীর খসরু বেফাঁস কথা বলেন বড় বেশি। আমরা কাউকে খুশি করতে চাই না, আমরা আইনি প্রক্রিয়াতেই বেগম জিয়াকে মুক্ত করবো। এজন্য আদালত ও রাজপথে বিএনপির সরব উপস্থিতি প্রয়োজন। কিন্তু আমরা সেটি না করে দোষারোপ ও প্রলাপ করছি। বিভ্রান্তিমূলক কথা বলার জন্য তার অবস্থান নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠে দলে। কাজের কাজ না করে অযৌক্তিক কথা বললেই রাজনীতিবিদ হওয়া যায় না। ভবিষ্যতে আমীর খসরুকে আরো সাবধান হয়ে কথা বলা উচিত।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি