বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১



দলের দুঃসময়ে গা ঢাকা দিয়েছেন ফালু!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
04.08.2021

নিউজ ডেস্ক: মোসাদ্দেক আলী ফালুর কোনো খোঁজ নেই বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কাছে। এমনকি নির্বাহী আদেশে মুক্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কোনো খোঁজ নেননি তিনি। তার ঘনিষ্ঠরা বলছেন, তিনি দেশের বাইরে আছেন। যে কারণে মুক্তির আগে-পরে বিএনপি নেত্রীর আশেপাশে দেখা যায়নি তাকে। তবে বিদেশে থেকে টেলিফোনে খোঁজ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও ফালু তেমনটা করেছেন বলে জানেন না খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠরা।

এনিয়ে দলের নেতাদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে। তাদের প্রশ্ন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় থাকতে সব ধরনের ব্যবসায়িক সুবিধা নেওয়া মোসাদ্দেক আলী ফালু দলের দুঃসময়ে কোথায় আছেন? দল ক্ষমতায় থাকতে যিনি সব সময় বেগম জিয়ার ছায়াসঙ্গী ছিলেন, এখন তার টিকিটির দেখাও মিলবে না? দলের প্রতি কি তার কোনো দায়িত্ব নেই? অথচ দলীয় ক্ষমতাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার করেছেন। টিভি চ্যানেলের মালিক হয়েছেন। এখন সহায়-সম্পদ রক্ষায় তিনি যেভাবে দূরে দূরে থাকছেন, তা স্বার্থপরতার দৃষ্টান্ত হয়ে রইছে।

নির্বাহী আদেশে কারাগার থেকে মুক্তি পেলেও বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত বা যোগাযোগের বিষয়ে বিধি নিষেধ রয়েছে। করোনার সংক্রমণ এড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত। তবে এরমধ্যেই কেউ কেউ খালেদা জিয়ার সার্বিক খোঁজখবর রাখছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু মুক্তি পাওয়ার তিনমাস পার হলেও খোঁজ নেই একসময়ের প্রভাবশালী নেতা ও খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ মোসাদ্দেক আলী ফালুর।

শুধু তাই নয়, দুর্নীতির মামলায় দুইবছরেরও বেশি সময় সাজাভোগ করে খালেদা জিয়ার মুক্তি মেলায় আপাতত স্বস্তি ফিরেছে নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে। তবে একসময়ের জিয়া পরিবারে ঘনিষ্ঠতার কারণে প্রভাবশালী হয়ে ওঠা ফালু এ নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চুপ। তার কোনো প্রতিক্রিয়া বা বিএনপি প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগের কোনো তথ্য নেই কারো কাছে।

গত মার্চের শেষ দিকে খালেদা জিয়া মুক্তির আগে পরে কোথাও দেখা যায়নি মোসাদ্দেক আলী ফালুকে। যে কারণেই বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে এই প্রশ্নটি চলে আসছে। যদিও কয়েকবছর ধরেই তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। সবশেষ তাকে প্রকাশ্যে দেখা গেছে, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহ দেশে আসার পর। তখন অবশ্য তাকে জিয়া পরিবারের পাশেই দেখা গেছে।

ঢাকার একটি সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘যখন দল ক্ষমতায় ছিলো তখন এদের (ফালু) মতো অনেকেই নানা সুবিধা নিয়েছেন। পদপদবী না থাকলেও দেখা গেছে তাদের প্রভাব ছিলো। কিন্তু এখন তাদের কারো দেখা নেই। দলের উচিত হবে এমন যারা আছে তাদের চিহ্নিত করে রাখা।’

এই মুহূর্তে মোসাদ্দেক আলী ফালু কোথায় আছেন এই তথ্যও সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারছেন না কেউ। তবে তা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ আছে এমন একজন জানান, শারীরিকভাবে অসুস্থতার কারণে তিনি বিদেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন। থাইল্যান্ড বা সিঙ্গাপুর যে কোন একটি দেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন এমনটাই বেশি শোনা গেছে। সেখানে বসেই দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের খোঁজ রাখছেন। তবে কবে নাগাদ দেশে ফিরবেন তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।

চেয়ারপারসনের কার্যারলয় ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলেও কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা ঢাকাটাইমসকে বলেন, নির্ধারিত লোক ছাড়া কারো পক্ষে এখন ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ নেই। পরিবারের বাইরে, নির্ধারিত চিকিৎসক ও তিনি যাদের যাওয়ার অনুমতি দেন তারাই বাসায় যেতে পারেন। টেলিফোনে কে যোগাযোগ করেন তাতো বলা সম্ভব না।’

জানা গেছে, বাসায় থাকলেও প্রতিনিয়িত লন্ডনে থাকা ছেলে, পুত্রবধু ও নাতনিদের সঙ্গে কথা বলেন খালেদা জিয়া।

এদিকে তার একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে হওয়া মামলার পর বিপুল পরিমাণ জব্দ করা হয়েছে। যা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার। কারণ এমন বৈরী পরিস্থিতির কারণে ব্যবসায়ীকভাবেও সুবিধায় নেই ফালু।

বিএনপি নেতারা বলছেন, পরিস্থিতি বুঝে আগেভাবেই বিএনপির রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন মোসাদ্দেক আলী ফালু। কাউন্সিলের পর ভাইস চেয়ারম্যানের পদ দেয়ার কয়েকঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগও করেছেন তিনি। পদে না থাকলেও জিয়াউর রহমানের দল ও জিয়া পরিবারের সঙ্গে সবসময় থাকার কথা জানালেও প্রকৃতপক্ষে তার কোনো নিদর্শন রাখেননি এই ব্যবসায়ী রাজনীতিক। কারণ দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে মুক্তির তিনমাস পার হলেও এখনো তার পক্ষ থেকে কোনো খোঁজখবর নেয়ার তথ্যও তাদের কাছে নেই।

অথচ বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে দলীয় চেয়ারপারসনের আশেপাশে ছায়ার মতো থাকতেন ফালু। প্রতিবছর ওমরা করতে গেলে খালেদার জিয়ার সঙ্গে তিনি থাকতেন। সরকার বা দলের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সবধরনের সভাতেও দেখা যেতো তাকে। যে কারণে চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে দলের ভেতরে বাইরে আলাদা প্রভাব ছিল তার।

হঠাৎ করেই ২০০৪ সালে ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন মোসাদ্দেক আলী ফালু। সে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে বিএনপিকে। এখনো সেই অপবাদ শুনতে হচ্ছে দলটিকে। পরবর্তিতে অবশ্য মঈন-ফখরুদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হওয়ায় আর নির্বাচন করা হয়নি তার।

আলোচনা ছিলো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন ফালু। ঢাকা-১২ (তেজগাঁও-রমনা ও শেরেবাংলা নগরের একাংশ) আসন থেকে বিএনপির থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করবেন এমন গুঞ্জন থাকলেও তিনি শেষ পর্যয়ন্ত মনোনয়নপত্রও সংগ্রহ করেননি।

বিএনপির আগের কমিটিতে খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মোসাদ্দেক আলী। রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিতি আছে তার। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সমিতি অ্যাটকোর সভাপতি ছিলেন। সিকিউরিটিজ, আবাসন, অ্যাগ্রো, আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায় জড়িত এই ব্যবসায়ী এনটিভির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি