মঙ্গলবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » আইপি টিভির মাধ্যমে ‘স্বার্থ হাসিলে’ মরিয়া জামায়াত-শিবির!



আইপি টিভির মাধ্যমে ‘স্বার্থ হাসিলে’ মরিয়া জামায়াত-শিবির!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
14.08.2021

নিউজ ডেস্ক: দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে আইপি টেলিভিশন। অনুমোদনহীন এসব টিভির সঠিক সংখ্যা কত, তা কারো জানা নেই। সংশ্লিষ্ট টিভির নামে তাই ইউটিউবে চ্যানেল খুলে যে কেউই নিজেকে পরিচিত করছেন টেলিভিশনের মালিক হিসেবে। ব্যক্তি ও রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের পাশাপাশি বাড়ছে চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের ঘটনা। খবর নিয়ে জানা গেছে, বাজারে নামে-বেনামে প্রচলিত আইপি টিভিগুলোর একটি বৃহৎ অংশ বিতর্কিত রাজনৈতিক সংগঠন জামায়াতে ইসলামী ও তার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের দ্বারা পরিচালিত। তাদের অদ্বিতীয় উদ্দেশ্য হচ্ছে, সরকারের বিরুদ্ধাচরণ করা।

বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, মূলধারার গণমাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে না পেরে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা এখন ঠাঁই নিয়েছে আইপি টিভিতে। তারা দেশের যত্রতত্র সরকারি অনুমোদন ছাড়াই রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থের জন্য গণমাধ্যমের নামে খুলে বসেছেন ‘গুজব সেল’। আর সেখান থেকেই দেশবিরোধী চক্রের অর্থায়নে তারা নিজস্ব ‘পেইড এজেন্ট’ দ্বারা চালিয়ে যাচ্ছেন সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার। তাদের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে মূল ধারার আইপি টিভিগুলো। নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এখনই এসব কথিত টিভির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না পারলে সমাজে গণমাধ্যম সম্পর্কে ভুল বার্তা যাবে। সবাই বিশ্বাস করতে শুরু করবে, সব গণমাধ্যমই এমন।

বাংলানিউজ ব্যাংকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, আইপি টিভি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান সভাপতির নাম মুহাম্মদ আতাউল্লাহ খান। যিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি ‘কর্নেল’ ফারুক রহমানের দল ফ্রিডম পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি এক সময় ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতেও সম্পৃক্ত ছিলেন। এখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে খোলস বদলে বনে গেছেন ‘জনতার টিভি’ নামের আইপি টিভি।

তার বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফে হওয়ায় এই প্রতিবেদক যোগাযোগ করে মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহর সঙ্গে। তিনি বলেন, তাদের পরিবারটি আওয়ামী ঘরানার নয়। জামায়াত-শিবিরের সাংস্কৃতিক সংগঠন পাঞ্জেরী শিল্পগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় পরিচালক ছিলেন আতাউল্লাহ খান। তাদের পরিবারটি বিতর্কিত। বঙ্গবন্ধুর খুনি মেজর ডালিমের সঙ্গেও তাদের পারিবারিক সখ্যতা ছিল।

আতাউল্লাহর মতো আরেকজন হলেন চট্টগ্রামের মোহাম্মদ হাছান। একসময়ের এই টেম্পোচালককে চট্টগ্রামের বড় অংশের মানুষই চেনেন অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরীকে হত্যাকারীদের একজন হিসেবে। গোপাল কৃষ্ণ মুহুরীর অপরাধ ছিলো তিনি তার কলেজে ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিলেন। সে কারণে ২০০১ সালের ১৬ নভেম্বর তাকে নগরীর জামালখানের বাসায় কুপিয়ে নৃশংসভাবে খুন করে হাছানসহ সঙ্গীয় শিবির ক্যাডাররা। এর আগে ১৯৯৯ সালের ১১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের সদরঘাটের ডিলাইট রেস্তোরাঁ থেকে কাটা রাইফেল ও গুলিসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন হাছান। বর্তমানে তিনি ‘চট্টলা ২৪’ নামের একটি আইপি টিভির মালিক।

চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসীন কলেজে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে রয়েছে একাধিক মামলা। এছাড়া নগরীর পাঁচলাইশ, চান্দগাঁওসহ বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে রয়েছে চাঁদাবাজি, জমি দখলের মামলা ও অভিযোগ। বলছি নুর মোস্তফা টিনুর কথা। যার পুরো পরিবারই জামায়াত-শিবির ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টিনুর বড় ভাই মোহাম্মদ সেলিম জামায়াতে ইসলামীর রোকন পর্যায়ের একজন নেতা। আর ছোট ভাই নুর মুহাম্মদ শিপু চট্টগ্রামের চকবাজার থানা ছাত্রদলের সভাপতি। অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একাধিক মামলায় অভিযুক্ত টিনুর রয়েছে ‘সিটিজি ক্রাইম’ নামে একটি আইপি টিভি। যেটাকে তিনি হাতিয়ার করে চালিয়ে যাচ্ছেন নিজের অনৈতিক ও এজেণ্ডা মোতাবেক দলীয় কর্মকাণ্ড।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা আইপি টিভির নামে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের যে খেলা খেলছেন, তা এখনই থামানো উচিত। নতুবা মূলধারার গণমাধ্যমের সাংবাদিকতা একদিকে যেমন প্রশ্নবিদ্ধ হবে, অপরদিকে মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলবে গণমাধ্যমের উপর থেকে। তাই সরকারের পাশাপাশি আমাদেরকে সদা সতর্ক থাকতে হবে, যাতে স্বাধীনতাবিরোধীরা কোনভাবেই তাদের উদ্দেশ্য সাধন করতে না পারে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি