মঙ্গলবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » বিএনপি এখন ‌‘ব্রিফিং অ্যান্ড নিউজ পার্টি’



বিএনপি এখন ‌‘ব্রিফিং অ্যান্ড নিউজ পার্টি’


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
14.08.2021

নিউজ ডেস্ক: অধিকার আদায়ে রাজপথের আন্দোলন বাদ দিয়ে শুধু স্থায়ী কমিটির বৈঠক আর সংবাদ সম্মেলনে আটকে আছে বিএনপির রাজনীতি। আর অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সঠিক নেতৃত্বের অভাবে নির্বাচনগুলোতে চরমভাবে ভোট-বঞ্চিত হচ্ছে প্রার্থীরা। যদিও ব্যর্থতা এড়াতে কেবল সরকারের ওপরই দায় চাপিয়ে পার পেতে চাইছেন বিএনপি নেতারা। আর মাঠ পর্যায়ে কোনো সক্রিয় কর্মসূচি না থাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে দূরত্ব বাড়ছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের। হরহামেশাই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন দলটির ত্যাগী ও তৃণমূলের নেতারা। তারাই বলছে- দল নিয়ে হাসিঠাট্টা করছে মানুষ। প্রেস বিফ্রিং ছাড়া কর্মসূচী না থাকায় বিএনপি এখন ‘ব্রিফিং অ্যান্ড নিউজ পার্টি’তে পরিণত হয়েছে।

বাংলা নিউজ ব্যাংকের কাছে দলটির এক ভাইস চেয়ারম্যান প্রশ্ন রাখেন- আজকে কি বিএনপি আছে বলে মনে হয়? ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট, জাতীয় প্রেসক্লাব, ডিআরইউ ছাড়া বিএনপিকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়?

তিনি বলেন, লোকজন এখন বিএনপিকে নিয়ে হাসিঠাট্টা করে। আওয়ামী লীগের লোকজন বলেন, বিএনপি মানে ‘ব্রিফিং অ্যান্ড নিউজ পার্টি’। দলটি ব্রিফিংয়ের ভেতরে ঢুকে গেছে, ওখান থেকে বের করা যাচ্ছে না। যারা ত্যাগী, যারা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের মূল্যায়ন নেই দলে।

তিনি আরও বলেন, ৬০০ সদস্যের কমিটি করে বিএনপি শুধু নেতা তৈরি করেছে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। দলের মনোনয়ন না হয় বিক্রি হলো, সেটা আলাদা জিনিস। ব্যক্তি আনুগত্য নয়, যোগ্যতা ও যার যেটি পাওনা সেটি দিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করলে আগামী দিনে বিএনপি আবারও সুসংঠিত দলে পরিণত হবে। অন্যথায় বিএনপির ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জান কোরবান করে যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন তাদের মূল্যায়ন করা হয় না। মাঠে কি করলেন, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা কি আছে, নেতৃত্বের প্রতি আপনার কি আনুগত্য আছে সেগুলো বিএনপিতে বিচার করা হচ্ছে না, বিচার করা হচ্ছে টাকা। টাকা দিলেই এখন বিএনপিতে বড় বড় পদ পাওয়া যায়। এছাড়া পরিবারতন্ত্র চর্চা চরম আকার ধারণ করেছে। যারা অতীতে এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন বা দলের দায়িত্বশীল পদে রয়েছেন তারা তাদের স্ত্রী, সন্তান, পুত্রবধূদের অতি মূল্যায়ন করতে গিয়ে প্রকৃত অর্থে ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করছেন।

তিনি বলেন, সারাদেশে দল সেভাবে নেতাকর্মী সৃষ্টি করতে পারেনি শীর্ষ নেতারা। চট্টগ্রামে দু’জনের খামখেয়ালি মেনে নিয়ে নেতাকর্মীদের দল করতে হয়। কুমিল্লায় এক ‘স্যার’ আছেন যার একারই লাগে তিনটি আসন। সেখানে নেতাকর্মী সৃষ্টি হবে কীভাবে? দল সিলেট বিভাগে সাইফুর রহমানের মতো নেতৃত্ব আর তৈরি করতে পারেনি। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে তাবিথ আউয়াল এবং ইশরাক হোসেনদের মতো জুনিয়ররা সভামঞ্চে জায়গা করে নিচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি রাজনৈতিক দলের রাজপথে উপস্থিতি না থাকলে সে দল ধীরে ধীরে জনবিছিন্ন হয়ে যায়। সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অভাবেই মূলত ব্যর্থ দলটি। অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য নেতাদের পদ দিয়েছে দলের হাইকমান্ড। এর ফলে পদবঞ্চিতরা বিএনপিকে পরিত্যাগ করেছেন অথবা সরে গিয়েছেন। হাইব্রিডদের অত্যাচারে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতারা হারিয়ে যাচ্ছেন। এসব কারণে প্রতিটি পদক্ষেপে বিএনপির পরাজয় ঘটছে। আর লন্ডনে পলাতক তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির অবস্থার উন্নতি হওয়া সম্ভন না।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি