মঙ্গলবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » নুরুল হক নুরের ধর্ম-ব্যবসা এবং ভণ্ডামির রাজনীতি!



নুরুল হক নুরের ধর্ম-ব্যবসা এবং ভণ্ডামির রাজনীতি!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
19.08.2021

ডেস্ক রিপোর্ট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) এবং ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের সমন্বয়ক নুরুল হক নুর বিভিন্ন সময় বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন। মুখে জনগণের অধিকার আদায়ের রাজনীতির কথা বললেও নুরুল হক এবং তার সংগঠনের বিভিন্ন কাজ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। একই বিষয়ে বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে নিজেকে একজন বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত করাতে সক্ষম হয়েছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি নুর। হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর মৃত্যুর পর এক ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে আবারও বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মারা যান হেফাজত ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী। বাবুনগরী দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম নগরের বেসরকারি হাসপাতাল সিএসসিআরে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অসুস্থতাজনিত কারণে জুনায়েদ বাবুনগরীর মৃত্যু হয়েছে। অথচ ডাকসু ভিপি নুর তার স্ট্যাটাসে বলেছেন, ‘বাবু নগরী হুজুরের মৃত্যুর দায় সরকার এড়াতে পারে না। মোদি বিরোধী আন্দোলনে গোয়েন্দা সংস্থার পরিকল্পনায় ছাত্রলীগ,যুবলীগের তান্ডবের দায় চাপিয়ে হেফাজতের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার,সরকার কর্তৃক অব্যাহত অমানবিক চাপ ও গোয়েন্দা সংস্থার হুমকি-ধমকিতে মানসিক চাপে অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন। ’

We want people to stand by us: ex-DUCSU VP Nur

জুনায়েদ বাবুনগরীর স্বাভাবিক মৃত্যুর পরও সরকারকে দায়ী করেছেন নুরুল হক নুর। অথচ হেফাজত ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর নুরুল হক নুর এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে কোরআন শরীফকে উদ্ধৃত করে বলেছিলেন, ‘প্রত্যক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আল্লামা শাহ আহমদ শাফী হুজুরের মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করা কি শিরক নয়? অথচ সরকারের একদল দালাল তাই করে যাচ্ছে। ’

জানা গেছে, ২০২০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মারা যান আল্লামা আহমদ শফী। যেই মৃত্যুকে স্বাভাবিক হিসেবে দাবি করেছিলেন নুরুল হক নুর, সেই আল্লামা শফীর মৃত্যুকে কিন্তু অস্বাভাবিক উল্লেখ করেছেন তার সন্তানরা। এরপর হেফাজতের সাবেক প্রচার সম্পাদক এবং শফীপুত্র আনাস মাদানী তার বাবার মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে বাবা হত্যার বিচার চেয়েছিলেন। সেইসাথে কারা কারা সেই হত্যাকাণ্ডে জড়িত তাদের নামও বলেছিলেন। আনাস মাদানী আল্লামা শফীর মৃত্যুর জন্য হেফাজতের সদ্যপ্রয়াত আমির জুনায়েদ বাবুনগরী, হেফাজতের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক এবং দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক ও হেফাজত নেতাকে দায়ী করেছেন। এছাড়া, আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে নির্যাতন ও মানসিক নিপীড়ন চালিয়ে হত্যার অভিযোগ করে এর বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে ২০২০ সালের ২৫ ডিসেম্বর বিবৃতি দেন দেশের ৩১৩ আলেম। যে মৃত্যুকে নুরুল হক নুর স্বাভাবিক দাবি করছেন এবং এর জন্য বিচার দাবিকারীদের সরকারের দালাল হিসেবে অভিহিত করছেন সেই আল্লামা শফীর মৃত্যুকে হাজার হাজার ব্যক্তি অস্বাভাবিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তাহলে হেফাজতের দুই শীর্ষ নেতার মৃত্যুর পর নুরের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যের কারণ কী? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অল্প বয়সে খ্যাতি পেয়ে নুরের মাথায় সমস্যা হয়েছে। কখন কী বলে তার মনে থাকে না। এছাড়াও বাংলাদেশের মানুষের ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতির ইতিহাস বহু পুরনো। স্বৈরাচার এরশাদ এবং বিএনপি-জামায়াত দেশের মানুষের ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে রাজনীতিতে নোংরামীর যে চর্চা শুরু করেছিলেন নুরুল হক নুর তারই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন। কিন্তু এভাবে করে দীর্ঘদিন রাজনীতি করা যায় না। বিশ্লেষকরা জানান, আল্লামা শফী এবং বাবুনগরীর মৃত্যু নিয়ে নুরের দুইরকম বক্তব্যই প্রমাণ করে তিনি একজন ভণ্ড এবং ধর্ম ব্যবসায়ী। বাংলাদেশের মানুষ ধর্ম ব্যবসায়ীদের এবং মৌলবাদীদের অনেক আগেই প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে নুরের এসব ভণ্ডামি তার নিজের জন্যই ক্ষতির কারণ হবে। শিগগিরই বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ এবং শান্তিপ্রিয় মানুষ তাকে ছুড়ে ফেলে দেবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি