মঙ্গলবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১



বিএনপিতে শুরু হয়েছে কচ্ছপ নীতি, বিব্রত তৃণমূল


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
22.08.2021

বিএনপির তৃণমূল

নিউজ ডেস্ক : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানের আগেই মুক্ত করতে চায় তৃণমূলের সদস্যরা। এমন বাস্তবতায় রাজপথে আন্দোলন করে দলীয় প্রধানকে মুক্ত করতে চায় তারা। কিন্তু দল গোছানোর অভিযোগে আপাতত ‘শক্ত’ আন্দোলনে যেতে চাচ্ছে না বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। এ নিয়ে বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে দলের অভ্যন্তরে।

বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে এখনই সব শক্তি ‘ক্ষয়’ করতে চায় না বিএনপির সিনিয়র নেতারা। দেড় বছর ধরে মহামারি চলছে, থেমে থেমে চলা লকডাউন সবে মাত্র শেষ হলো। এ কারণে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা রাজপথে আন্দোলনের জন্য মুখিয়ে থাকলেও বিএনপি আপাতত সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ আর মানববন্ধনেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায়। আপাতত রাজপথে জোরালো কোন কর্মসূচীও দিবে না দলটি।

দলের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, বিএনপির আন্দোলনের মূল হাতিয়ার যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। এই সব অঙ্গসংগঠনের কমিটি এখনো পূর্ণাঙ্গ হয়নি। এদিকে ঢাকা মহানগর বিএনপিও প্রস্তুত নয়। এই চার সংগঠন রাজপথে না থাকলে আন্দোলনে গতি আসবে না। তাদের মতে, আন্দোলন চাঙ্গা করতে দ্রুত সকল অঙ্গ সংগঠনগুলোর কমিটি দিতে হবে। এছাড়া বিএনপির সব সাংগঠনিক জেলাগুলোও গুছিয়ে ফেলতে হবে। বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কমিটি হওয়ার পর ধাপে ধাপে আন্দোলনের তীব্রতা বাড়াতে হবে।

জানা যায়, বেগম জিয়ার জামিন আবেদন নাকচ হয়ে যাওয়ার দিন রাতে সর্বশেষ বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আপাতত ‘শক্ত’ কোনো কর্মসূচিতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সর্বশেষ আইনি লড়াই চালানোর পাশাপাশি রাজপথে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ কর্মসূচিতেই থাকার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে এর মধ্যে দলকে গোছানোরও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। নতুন বছরের প্রথম দিকে আরও কিছু দিন ‘ধীর’ গতিতে চলবে বিএনপি। এ কারণে চরম ক্ষুব্ধ মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। বেগম খালেদা জিয়ার জন্য রাজপথের ‘শক্ত’ কর্মসূচি না থাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়ছে তৃণমূল। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বদলও চাচ্ছেন তারা।

এদিকে, আন্দোলনে বিএনপির সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দলের ভিতর থেকে খোদ নেতা-কর্মীরাই। এ প্রসঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, আমাদের ‘ডু অর ডাই’ কর্মসূচিতে যেতে হবে। কিন্তু সেটা হচ্ছে না। এতে কেন্দ্রের গাফিলতিই প্রকাশ্যে আসছে। নিজেদের কচ্ছপের মতো লাগছে। আর যোগ্য লোকদের হাতে নেতৃত্ব নেই বলে আজ করুণ বাস্তবতার সম্মুখীন হচ্ছে দল। দিনে বিএনপি রাতে আওয়ামী লীগ করলে এদেশের গণতন্ত্রের নেত্রীর মুক্তি মিলবে না। আপস নয় সংগ্রামই আমাদের বেছে নিতে হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি