বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » খালেদা জিয়ার পার্সোনাল বিষয়ে নাক গলাবে না বিএনপি



খালেদা জিয়ার পার্সোনাল বিষয়ে নাক গলাবে না বিএনপি


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
24.08.2021

নিউজ ডেস্ক : ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’ দুর্নীতি মামলার অপরাধী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আইন অনুসারে বর্তমানে গুলশানের ফিরোজা বাসায় অবরুদ্ধ আছেন। খালেদা জিয়ার দুর্নীতির অপরাধের দণ্ডিত হওয়ার সাড়ে তিন বছর পার হলো। অপরদিকে পহেলা সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। সিনিয়র নেতারা ঘটা করে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করতে চাইলেও খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে কথা বলতে নারাজ তারা। উপরন্তু তার মুক্তির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করার কথা ভাবলেও দলীয় নীতিনির্ধারকরা হঠাৎ বোল পাল্টিয়েছেন। তারা বিষয়টিকে ‘পারিবারিক’ সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছেন।

এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এটা তো বেগম জিয়ার পার্সোনাল বিষয়, দলের কোনও নয়। এছাড়া তার চিকিৎসা, তার শারীরিক অবস্থার বিষয়টি একান্তই পারিবারিক। এটা তো রাজনৈতিক বিষয় হতে পারে না, দলেরও সিদ্ধান্ত হতে পারে না। তার পরিবার যেভাবে ভালো মনে করবে, সেভাবে করবে।’

একইসুরে কথা বললেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ও মুক্তি নিয়ে তার পরিবারের বিশেষ আবেদনের বিষয়টি দলীয় কোনও বিষয় নয়। এটা তার শারীরিক ব্যাপার, রাজনৈতিক বিষয় নয়। সাড়ে তিন বছর ধরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে আমাদের দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয় না। ফলে তার স্বাস্থ্যের অবস্থা কী জানি না। পরিবারের সদস্যরা বিশেষ আবেদন চান, তারাই বলতে পারবেন তার স্বাস্থ্যের অবস্থা। এটা সম্পূর্ণ তার পরিবার ও বেগম জিয়ার ব্যাপার।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘দল যখন ব্যর্থ হয়েছে তার মুক্তির জন্য, তখন পরিবার এগিয়ে আসছে জীবন রক্ষার্থে।’

বিএনপির আরেকটি মহল বলছে, দলীয় চেয়ারপারসনের মুক্তির বিষয়ে নেতাকর্মীরা আন্তরিক। কিন্তু কোনোভাবেই কিছু হচ্ছে না। কারণ সরিষাতেই ভূত। বিএনপির অনেক জ্যেষ্ঠ নেতাই চান না খালেদা জিয়ার মুক্তি হোক। এ কারণে তারা তার খোঁজ-খবরও রাখেন না। এমন আচরণ অন্তত তাদের থেকে আশা করা যায় না। কারণ তাদের দেখেই নবীনরা শিখবে। তারা যদি এমনটা করে, তবে নবীনরাও একই পথে হাঁটবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পাপ কখনো বাপকেও ছাড়ে না। যার প্রমাণ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে বিএনপি। দুর্নীতির দায়ে তাদের দলীয় চেয়ারপারসন কারাভ্যন্তরে। দেশছাড়া হয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও। যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বেই গলদ, তাদের নেতাকর্মীরাও কখনো ভালো হতে পারেন না। কারণ নিমগাছের নিচে যতই চিনি ঢালুন না কেন, নিম কাঠ বা ফল-কোনটাই মিষ্টি হবে না। এটাই ধ্রুবসত্য।

রাজনীতি সচেতনরা বলছেন, বিএনপির দলীয় চেয়ারপারসন কারাগারে অথচ দলের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। বিষয়টি রহস্যজনক। এ থেকে এতটুকু অনুমান করা যায়, তার দলের নেতাকর্মীদের কাছে তিনি কতোটা অপ্রিয়। একারণেই সবাই নীরব ভূমিকায় রয়েছেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি