মঙ্গলবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » other important » সিলেটে মাঠে নিষ্ক্রিয় হলেও বিরোধে ‘তুমুল চাঙা’ বিএনপি!



সিলেটে মাঠে নিষ্ক্রিয় হলেও বিরোধে ‘তুমুল চাঙা’ বিএনপি!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
24.08.2021

নিউজ ডেস্ক: শুধু কেন্দ্র নয়, তৃণমূলেও সাংগঠনিক তৎপরতা নেই বিএনপির। তারই বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে সিলেটে। সেখানকার বেশির ভাগ নেতাকর্মীই এখন নিষ্ক্রিয়। দু’একজন যারা তৎপর রয়েছেন, তারাও কেউ কাউকে দেখতে পারেন না। বিরোধের মাধ্যমে ‘চাঙা’ রেখেছেন দল। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিবাদের ফসলস্বরূপ দলের অঙ্গসংগঠনের মধ্যে বর্তমানে সেখানে চলছে পদত্যাগের হিড়িক।

বিশিষ্টজনদের ভাষ্য, এটাই বিএনপির আসল রূপ। অনৈক্য-কোন্দলে এভাবেই তারা দলছুট। এ কারণেই তো তাদের ভাগ্যের উন্নতি হয় না। আর হবেই বা কিভাবে? দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তো জঙ্গিদের মদদ দিয়ে ‘জঙ্গিমাতা’ আর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজের ‘আখের গোছাতে’ গিয়ে হয়েছেন ‘দুর্নীতির বরপুত্র’। এ কারণে মানুষ তাদের বিগত অনুষ্ঠিত সবগুলো নির্বাচনে ব্যালট-ইভিএমে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যমতে, সিলেট বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে অন্তঃকোন্দল থাকলেও সম্প্রতি তা প্রকাশ্য হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে। আর তারপরই নবগঠিত কমিটির ১১ নেতা ও মহানগর তাঁতী দলের তিন নেতা পদত্যাগ করেছেন। আরও অনেক নেতা পদত্যাগ করবেন বলে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। এমন পরিস্থিতি মাঠের রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় দল বিএনপিকে আবারও এনেছে আলোচনায়। বর্তমানে তাদের পদত্যাগের হিড়িকই যেন উত্তাপ ছড়াচ্ছে সিলেটের রাজনীতির মাঠে।

এ বিষয়ে বাংলানিউজ ব্যাংকের অনুসন্ধান চলাকালে কথা হয় সিলেট বিএনপির জেলা ও মহানগর কমিটির একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে। অধিকাংশরাই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি হননি। বরং পদত্যাগের ঘটনায় তারা বিব্রত বলে জানান এই প্রতিবেদককে।

তবে কথা বলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুর রকিব তুহিন। তার ভাষ্য, নতুন কমিটিতে যোগ্য ও ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। নিষ্ক্রিয় ও অযোগ্যদের দিয়ে একটি পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি তাদের হতাশ করেছে। তাই এই পদত্যাগের হিড়িক।

একই সুর বিএনপির সহযোগী সংগঠন তাঁতী দলের মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল গফফারের কথাতেও। তিনি বলেন, যে দলে মূল্যায়ন নাই, গণতন্ত্রের আভাস নাই, সেখানে রাজনীতি করে যাওয়া কঠিন। তাই পদত্যাগ করেছি।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক বলেন, দলে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। একটি গোষ্ঠী কেন্দ্রের শীর্ষ নেতাদের ভুল বুঝিয়ে নিজেদের পছন্দের লোকদের নিয়ে পকেট কমিটি গঠন করছে। এতে একদিকে যেমন পরীক্ষিত নেতাদের মধ্যে বঞ্চিত হওয়ার বেদনায় হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে, ঘটছে পদত্যাগের ঘটনাও। অপরদিকে সামগ্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দল।

রাজনৈতিক বিজ্ঞজনদের মন্তব্য, সিলেটের এই পদত্যাগের ঘটনায় বিএনপির ‘থলের বিড়াল’ বেরিয়ে এসেছে। মূলত এটাই তাদের স্বচ্ছ প্রতিচ্ছবি। এটাই তারা। দ্বন্দ্ব-অনৈক্যে জর্জরিত ও মাঠের রাজনীতিতে ব্যর্থ এই রাজনৈতিক দলের মধ্যে যে ‘অসুস্থ রাজনীতি’র চর্চা চলমান, তা শুধু অদ্বিতীয়ভাবে এই বার্তাই দেয়, ‘পাপের ফসল’ হিসেবে অচিরেই জাদুঘরের রাজনৈতিক দলে পরিণত হতে যাচ্ছে বিএনপি। আর এটা কেবল কথার কথা নয়, ধ্রুব সত্য।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি