মঙ্গলবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » তারেককে মাসোয়ারা দিতেই দুর্নীতি করতে বাধ্য হয়েছিলাম: মির্জা আব্বাস



তারেককে মাসোয়ারা দিতেই দুর্নীতি করতে বাধ্য হয়েছিলাম: মির্জা আব্বাস


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
25.08.2021

নিউজ ডেস্ক: দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সরকারের ২০০ কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে অনুসন্ধানে নামতেই তারেক রহমানকে গালাগাল শুরু করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। অনুশোচনায় মনমরা হয়ে বসে আসেন তিনি।

মির্জা আব্বাসের শাহজানপুরের বাসার একটি সুত্র থেকে জানা যায়, ‘দুদক তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামার ঘোষণা দেবার পর থেকই দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি। অনুশোচনায় বারবার তারেক রহমানকে গালাগাল করছেন। বলছেন- তারেককে মাসোয়ারা দিতেই দুর্নীতি করতে বাধ্য হয়েছিলাম। এখন শেষ জীবনে এসে কোর্টের বারান্দায় এদিক ওদিক দৌড়াতে হবে। ও তো লন্ডনে আয়েশি জীবন যাপন করছে।’

জানা যায়, ঢাকার সাবেক সাংসদ মির্জা আব্বাস ২০০১-২০০৬ সময়ে বিএনপি সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালযয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তখন তারেক রহমানের হাওয়া ভবনে নিয়মিত মাসোয়ারা দিতে হতো অনেক মন্ত্রীদের। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন মির্জা আব্বাস।

সে সময় কর্মরত গণপূর্তের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বাংলা নিউজ ব্যাংককে বলেন, বিএনপি জোট সরকারের আমলে আমাদের মন্ত্রণালয়ের অবস্থা খুব খারাপ ছিল। এক কথায় বলতে গেলে- দুর্নীতির আখড়া। সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা নিয়মিত চাঁদা নিতে আসতো। তারেক রহমানের হাওয়া ভবনে পাঠাতে হতো মোটা অংকের টাকা। এছাড়া গিয়াস উদ্দিন আল মামুন সাহেবদের বিভিন্ন আবদার রাখতে হতো মন্ত্রী মহদোয়কে।

তিনি আরো জানান, বাজেট বরাদ্দ থেকে সবাইকে দিয়ে-থুয়ে মন্ত্রীর জন্য তেমন কিছুই থাকতো না। তাই বিভিন্ন সময় সরকারি জমির কাগজ পত্র এদিক সেদিক করে অবমুক্ত করা হলেও হতে পারে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রাক্তন পূর্তমন্ত্রী মির্জা আব্বাস দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে খিলগাঁও মৌজায় রেলওয়ের ৩১ শতাংশ জমি অবৈধভাবে নিজ নামে অবমুক্ত ও নামজারী করেন। একই মৌজাভুক্ত বিভিন্ন দাগ খতিয়ানে আরও ১৫০ কাঠা জমি দুর্নীতির মাধ্যমে ক্রয় এবং খিলগাঁও পুনর্বাসন এলাকার পার্কের জায়গায় প্লট তৈরি করে নিজ নামে/বেনামে বরাদ্দ নিয়ে ২০০ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ করেন মির্জা আব্বাস।

এ ছাড়াও গুলশান বনানী এলাকায় ৫০ থেকে ৬০ কাঠা জমি আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

উল্লেখ্যিত অভিযোগের ভিত্তিতে সাবেক পূর্তমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানায় সংস্থার উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) আরিফ সাদেক। তিনি জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ের দেড়শ’ কাঠা জমি নামে- বেনামে ক্রয় দেখিয়ে আত্মসাৎ করেন। এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহারসহ আরও কিছু দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ২০ কোটি ৭৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মির্জা আব্বাস ও তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাসের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। সংস্থাটির পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে শাহজাহানপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এটি এখন তদন্তাধীন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি