মঙ্গলবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১



রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের শেষ কোথায়?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
25.08.2021

নিউজ ডেস্ক : মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতিত ও বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বহির্বিশ্বে মানবতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বাংলাদেশ। পরবর্তীতে রোহিঙ্গাদের ফেরাতে সকল ধরনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। কিন্তু মিয়ানমারের অপকৌশল ও নানামুখী ষড়যন্ত্রের কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বারবার থমকে যাচ্ছে। এদিকে আটকেপড়া রোহিঙ্গারা জড়িয়ে পড়ছেন নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো হয়ে উঠছে অপরাধের কেন্দ্রস্থল। এতে অভ্যন্তরীণসহ আঞ্চলিক নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বলছে, রোহিঙ্গারা দেশে আসার পর থেকেই কক্সবাজার অঞ্চলে বাড়তে শুরু করে অপরাধের সংখ্যা। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় দিন দিন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়ছে। গত তিন বছরে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে ৫ শতাধিক মামলা হয়েছে। তার মধ্যে বেশির ভাগই খুন, ডাকাতি, মাদক ও মানবপাচার। এছাড়া রয়েছে ধর্ষণ, অস্ত্র, মারামারি ও অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মামলা।

প্রশাসন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, রোহিঙ্গারা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ক্যাম্পে কয়েকটি গ্রুপ মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত। তারা মিয়ানমার থেকে সরাসরি ইয়াবার চালান এনে ক্যাম্পে মজুত রাখে। ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় অপরাধীদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো। ফলে অপরাধ দমনে সেখানে যখন তখন অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে। এ সুযোগে ক্যাম্পে ঘটছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। এছাড়া ক্যাম্পগুলো পাহাড় সংলগ্ন হওয়ায় দু-একটি ডাকাত দলের অপরাধও বেড়েছে। ফলে ক্যাম্প এখন অপরাধীদের জন্য নিরাপদ স্থানে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ইয়াবা মজুত ও লেনদেনের জন্য ক্যাম্পগুলো ব্যবহার করছে।

এছাড়া রোহিঙ্গারা যে শুধু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে বাংলাদেশের ক্ষতি করছে, তা নয়। টেকনাফ অঞ্চলের পাহাড় কেটে সাবাড় করে নিজেদের বাসস্থান বানাচ্ছে তারা। কক্সবাজারের ৬ হাজার ৮০০ একর বনভূমিতে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে রোহিঙ্গাদের উপস্থিতি বাংলাদেশের বাস্তুতন্ত্রকে প্রভাবিত করছে। চলতি দশক (২০২১-২০৩০) জাতিসংঘের বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার দশক। ঘোষণার উদ্দেশ্য ছিল, বিশ্বব্যাপী বাস্তুতন্ত্রের জন্য ক্ষতি প্রতিরোধ করা ও অবনমিত বাস্তুতন্ত্রকে তার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনাসহ এ সম্পর্কে দেশে দেশে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। অথচ জাতিসংঘ এমন ঘোষণা দিয়েও রোহিঙ্গা ইস্যুতে তারা কোনো কথা বলছে না।

প্রথমে মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিলেও বর্তমানে এটি বাংলাদেশের বোঝা হিসেবে রূপ নিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ‘মাঝারি’ দারিদ্র্য আয়সীমা অনুযায়ী এক ব্যক্তির পেছনে প্রতিদিন যদি ৩ দশমিক ১ মার্কিন ডলার খরচের হিসাব করা হয় এবং বর্তমানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা ১০ লাখ হলে, বছরে তাদের পেছনে খরচ হবে ন্যূনতম প্রায় নয় হাজার কোটি টাকা। এটা কোনোমতেই সহজ কোনো বিষয় নয়। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববাসীর কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। উচিত হবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্ববাসীকে এগিয়ে আসা। নতুবা বাংলাদেশের জলবায়ু, অর্থনীতি বাস্তুসংস্থানের ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তা কাটিয়ে ওঠা দুষ্কর হয়ে যাবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি