বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১



যোগ্য নারী নেতৃত্বে কোটা পূরণ হচ্ছে না বিএনপির


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
25.08.2021

নিউজ ডেস্ক: ‘কোথায় থেকে আসবে আরও ১৫ শতাংশ যোগ্য নারী নেত্রী! বেশিরভাগই তো রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে যার যার সংসার নিয়ে ব্যস্ত। আর যারা আছেন তারা বড় বড় নেতাদের বিছানায় গিয়ে সেবা করেন। তাদের যোগ্যতা এটুকুই। রাজনৈতিক যোগ্যতা খুঁজতে গেলে তো নেত্রী পাওয়া যাবে না; পাওয়া অন্য কিছু। স্বজনপ্রীতি, পছন্দের নারী পদপ্রর্থীদের পদ দেওয়া যায় তাতে দল সাংগঠনিক হয় না উল্টো নষ্টামি বাড়ে।’ এভাবেই বিএনপির সাংগঠনিক জেলা ও মহানগরের সকল কমিটিতে আরও ১৫ শতাংশ মহিলা সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার আদেশের সমালোচনা করেন দলটির কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব।

বাংলা নিউজ ব্যাংকে তিনি আরও বলেন, ‘দলের প্রতি আনুগত্য, সক্রিয় ভূমিকা, বয়স, যোগ্যতা, দল ও সমাজে গ্রহণযোগ্যতার বিষয় বিবেচনা করে মহিলা সদস্যদের নাম প্রস্তাব করতে বলা হয়েছে। এসব দেখতে গেলে তো মহিলা সদস্যই পাওয়া যাবে না। আর এখন তো অনেক মহিলা নেত্রীরাই দলের সাথে নেই। তারা দল থেকে কিছু পায় না। যার যার জীবন-জীবিকা নিয়ে ব্যস্ত। জেলা শহরগুলোর অবস্থা আরও ভয়াবহ বর্তমানে সেখানে নারীদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে।’

গত শনিবার (২১ আগস্ট) সব ধরনের কমিটিতে আরও ১৫ শতাংশ মহিলা সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কেন্দ্র থেকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে তৃণমূলে।

বিএনপির সাংগঠনিক জেলা ও মহানগর শাখার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক/ আহ্বায়ক-সদস্য সচিব বরাবর পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত মোতাবেক দলের গঠনতন্ত্রের বিধান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলা ও মহানগর কমিটিতে আরও ১৫ শতাংশ মহিলা সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জেলা ও মহানগর কমিটি অথবা আহ্বায়ক কমিটির সভা করে বর্তমান সংখ্যার ১৫ শতাংশ মহিলা সদস্যের নামের তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রস্তাবকৃত মহিলা সদস্যদের দলে আনুগত্য, সক্রিয় ভূমিকা, বয়স, যোগ্যতা, দল ও সমাজে গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে ওই চিঠিতে।

এই চিঠি পাঠানোর পর কেন্দ্রীয় নারী নেত্রীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও জেলা ও মহানগরের তৃণমূল কমিটিগুলোতে চলছে সমালোচনা। জানা গেছে, হন্য হয়ে মহিলা সদস্য খুঁজেও পাচ্ছে না তৃণমূল নেতারা। কেন্দ্রীয় কমিটিতেও মহিলা সদস্যদের হাহাকার।

ওয়ান ইলেভেনের সময় নির্বাচন কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন করে রাজনৈতিক দলে ৩৩ শতাংশ নারী পদ পূরণের বিধান অন্তর্ভুক্ত করে। দল নিবন্ধন পাওয়ার অন্যতম শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়- ২০২০ সালের মধ্যে দলের সব পর্যায়ের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী পদ পূরণ করতে হবে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন টিকিয়ে রাখতে হলে সব পর্যায়ের কমিটিতে এখন ৩৩ শতাংশ নারী রাখা বাধ্যতামূলক, যদিও তা বাস্তবায়নের জন্য সময় বাড়ানো হচ্ছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির ১৯ পদের মধ্যে এই মুহূর্তে নারী সদস্য মাত্র দু’জন। ২০১৬ সালে কমিটি ঘোষণার সময় এই পদে খালেদা জিয়া ছাড়া আর কোনো নারী ছিলেন না। দুই বছর আগে বেগম সেলিমা রহমানকে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করায় এই মুহূর্তে এখানে নারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই জনে। অথচ নির্বাচন কমিশনের শর্ত অনুযায়ী, ১৯ সদস্য বিশিষ্ট স্থায়ী কমিটিতে কমপক্ষে ছয় জন নারী থাকতে হবে।

চেয়ারপারসনের ৭৩ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদে নারী মাত্র ছয় জন। জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে ভাইস চেয়ারম্যান পদ ৩৫টি। কমিটি ঘোষণার সময় এই পদে নারী ছিলেন মাত্র দু’জন- মিসেস রাবেয়া চৌধুরী ও বেগম সেলিমা রহমান। সেলিমা রহমানকে গত বছর স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার পর এই মুহূর্তে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নারী সদস্য মাত্র এক জন। অর্থাৎ শতাংশের বিচারে বিএনপির ভাইসচেয়ারম্যান পদে নারী রয়েছে তিন শতাংশের কম।

বিএনপিতে মহাসচিব ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদ ছাড়াও সাতটি যুগ্ম মহাসচিব পদ রয়েছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ এই পদগুলোতে কোনো নারী সদস্যকেই রাখেনি বিএনপি।

অবশ্য বিএনপির ১০টি সাংগঠনিক সম্পাদক পদের মধ্যে দুইটি পদে দু’জন নারীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বরিশাল এলাকার জন্য বিলকিছ জাহান শিরিন ও ফরিদপুরে শামা ওবায়েদ সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এখানেও শতাংশের হারে নারী রয়েছেন মাত্র ২০ শতাংশ, যা আরপিও’র ৩৩ শতাংশ থেকে যথেষ্ট দূরে।

বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদ পাঁচটি। এর একটিতেও নেই নারী সদস্য। অবশ্য সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাতটি পদের মধ্যে তিনটিতে অ্যাডভোকেট ফাহিমা মুন্নী, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও বেবি নাজনীন। এছাড়া সম্পাদকমণ্ডলীর ৪৪টি পদের মধ্যে নারী রয়েছেন মাত্র তিন জন।

এ ছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে সহসম্পাদক পদে এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদে বেশ কয়েকজন নারী থাকলেও শতাংশ হারে তা তিন-চার শতাংশের বেশি না। শুধু নির্বাহী কমিটি নয়, বিভিন্ন সময় গঠিত সাময়িক (টেম্পোরারি) কমিটিতে একজন নারীকেও রাখা হয় না দলটিতে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি