বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১



জিয়ার মরণোত্তর বিচার করতে হবে


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
26.08.2021

১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সম্পৃক্ততায় দায়ে জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। বুধবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর বেগম নুরজাহান মেমোরিয়াল গার্লস হাই স্কুল মাঠে শোক দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তারা এ দাবি জানান। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আদাবর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মান্নান।

এতে আরও বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, সংসদ সদস্য সাদেক খান, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এস এ মান্নান কচিসহ মহানগর ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।

সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশ্যে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, তারেক রহমান জড়িতই যদি না থাকে, তাহলে আপনাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন দেশ থেকে পালিয়ে দেশের বাইরে রয়েছেন কেন? আসুক না, এসে আইনের মোকাবিলা করেন। সাহস থাকলে এসে প্রমাণ করেন ২১ আগস্ট হত্যার সঙ্গে জড়িত না।

জাহাঙ্গীর কবির নানক আরও বলেন, সেদিন কারা হামলা চালিয়েছিল? মির্জা ফখরুল সাহেব জবাব দেন। সে জবাব দিতে হবে আপনাদের জাতির কাছে। গ্রেনেড হামলা হয়েছে, তারপর আহতদের চিকিৎসায় বাধা দিয়েছেন আপনারা, গ্রেনেড হামলায় যারা নিহত হয়েছে তাদের লাশ গুম করতে চেয়েছিলেন আপনারা।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, গ্রেনেড হামলার পর সংসদ অধিবেশনে আপনাদের চেয়ারপারসন বক্তৃতা করলেন, বললেন শেখ হাসিনা না-কি ভ্যানিটি ব্যাগে করে বোমা নিয়ে গেছেন, এর চেয়ে লজ্জার আর কি আছে? আজ সবকিছু খোলাসা হয়ে গেছে, পরিষ্কার হয়ে গেছে মানুষের কাছে- কীভাবে হত্যার নীল নকশা হয়েছিল। কারা কারা জড়িত ছিল।

তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাহস থাকে তো আসুন না, আর সে সময় খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী কেন পলাতক? একমাত্র কারণ হলো যে গ্রেনেড হামলায় জড়িত ছিল, নীল নকশা করেছে তার সব বেরিয়ে এসেছে।

বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে যারা কলকাটি নেড়েছে তাদের মুখোশ এখনো উন্মোচিত হয়নি বলে উল্লেখ করেন জাহাঙ্গীর কবির নানক।

তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৭৫ সালে ৩ নভেম্বর জেলখানায় চার জাতীয় নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। হত্যাকারীদের দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ কে করে দিয়েছিল? কে হত্যাকারীদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়েছিল? এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমান সরাসরি জড়িত। এই হত্যাকাণ্ডের দায়ে তাকে মরণোত্তর বিচার হতেই হবে। মরণোত্তর বিচার করতেই হবে। এর দাবি আমরা জানাচ্ছি।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানকে ফিরিয়ে আনার জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশন তৈরি করতে চেয়েছিল মোশতাক জিয়া। একটি নির্বাচিত সরকারকে জোর করে বন্দুকের বেয়োনেটের মাথায় ক্ষমতাচ্যুত করা হলো।

বিএনপি মহাসচিবের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকে এবং আপনারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকে এদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে দিয়েছেন। আর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। মির্জা ফখরুল সাহেব আপনারা ভুল পথে হাঁটছেন। ভুল পথে হাঁটার কারণে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

নানক বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশে ফিরে বলেছিলেন, আমি বাবা হত্যার বিচার চাইতে এসেছি। তার সেই আহ্বানে জাতীয় জাগরণ সৃষ্টি হলো। তখন আবার নতুন করে হত্যার ষড়যন্ত্র শুরু হলো। তারেক রহমান হাওয়া ভবনে বসে সে সময়ের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর আর খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভার সদস্য পিন্টু সাহেবরা সিদ্ধান্ত নিল শেখ হাসিনাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে হবে। আর সেই পরিকল্পনায় গ্রেনেড হামলা হলো।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গনের কোমলমতি ছাত্রদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া যায় না। জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশুদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারেন না। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে। ইনশাআল্লাহ অচিরেই যখন করোনা নিয়ন্ত্রণে আসবে তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও খুলে দেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডে জিয়াউর রহমান সরাসরি জড়িত। তাই জিয়াউর রহমানের মরনোত্তর বিচার করতেই হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি