বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » বিএনপি-জামায়াতের সম্পর্ক নষ্ট করাই ড. কামালের মূল লক্ষ্য!



বিএনপি-জামায়াতের সম্পর্ক নষ্ট করাই ড. কামালের মূল লক্ষ্য!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
27.08.2021

ডেস্ক রিপোর্ট: আগামী নির্বাচন সামনে রেখে আবারও নতুন কোনো রাজনৈতিক মোর্চা হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘আমার দল (গণফোরাম) যাতে রাজনীতিতে কার্যকরভাবে কিছু করতে পারে, সে চেষ্টা তো আছেই। আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যেটা আছে, সেটাও বিবেচনা করতে হবে। এর চেয়ে বেটার (রাজনৈতিক মোর্চা বা প্ল্যাটফর্ম) কিছু যদি করা যায়, সেটাও বিবেচনা করতে হবে। তবেই যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামীকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট থেকে বাদ দেওয়া ছাড়া নতুন জোটে সবাইকে নিয়ে আসা কঠিন। ড. কামালের এমন কথাকে বিএনপি-জামায়াতের সম্পর্কে ফাটল ধরানোর প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন দল দুইটির কয়েকজন সিনিয়র নেতা।

জানা গেছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর ড. কামালের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়। বিএনপি এবং গণফোরামসহ কয়েকটি দল মিলে এই জোট গঠন করে। কিন্তু এই জোটের কারণে জামায়াতে ইসলামীর সাথে সম্পর্ক খারাপ হয় বিএনপির। ফলে মাঠের রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়ে। দেশের রাজনীতিতে কামাল হোসেন জামায়াতবিরোধী বলে পরিচিত। ফলে বিএনপি ড. কামালের সাথে জোট করায় নাখোশ হন জামায়াতের নেতারা। এরপর নির্বাচনী প্রচারে জামায়াতের অংশগ্রহণ কমে যায়। যার প্রভাব পড়ে ভোটে। নির্বাচনে বিশাল পরাজয় বরণ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

সূত্র জানায়, একাদশ সংসদ নির্বাচনে হারের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে দায়ী করেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কারণ তারেকের নির্দেশেই ড. কামালের সাথে জোট গঠন করেন ফখরুল। তারা ভেবেছিল, ড. কামালের সাথে জোট করলে বিদেশের সাহায্য পাবে বিএনপি। কিন্ত সেই উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়। বরং ডা. কামালের জন্য জামায়াতের মত পরীক্ষিত বন্ধুর সাথে দূরত্ব তৈরি হয়। নির্বাচনে হারার পর বিএনপির অনেক নেতাই ড. কামালের সাথে জোটের বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন। তারা বলেন, ডা. কামাল সরকারের প্রতিনিধি। বিএনপিকে নির্বাচনে নিতেই তিনি জোট করেছিলেন। নেতাদের সমালোচনার মুখে ডা. কামালের সাথে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয় বিএনপির। আবারও জামায়াতের সাথে সম্পর্ক ভালো হতে থাকে। কিন্তু দলের মধ্যে একটি পক্ষ এখনও ডা. কামালের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে চলছেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ডা. কামালের উদ্দেশ্য আমরা জানি। উনি প্রকাশ্যেই শেখ মুজিবের প্রশংসা করেন। গত নির্বাচনে তার সাথে জোটে যাওয়া বিএনপির সবচেয়ে বড় ভুল ছিলো। আমরা দেখতে পাচ্ছি, সামনের নির্বাচন নিয়ে আবারও তৎপর হয়েছেন ডা. কামাল। জামায়াত নিয়ে তার বক্তব্য উদ্দেশ্যপূর্ণ। জামায়াত আমাদের দীর্ঘদিনের সঙ্গী। তারা প্রমাণিত বন্ধু। ফলে জামায়াতকে নিয়ে তার মন্তব্যের উদ্দেশ্য সহজেই বোঝা যায়। গত নির্বাচনে ম্যাডাম জেলে ছিলেন, ফলে জোট গঠনে যে ভুল হয়েছিলে এবার তা হবে না। ম্যাডাম মুক্তি না পেলেও বাসায় থেকে দলের খোঁজ রাখছেন। এবার আর ড. কামাল বিএনপিকে ভুল বুঝিয়ে ক্ষতি করতে পারবেন না।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ডা. কামালের সাথে জোট করা কিংবা তাকে বাদ দিয়ে জামায়াতকে নিয়ে নির্বাচন করা–বিএনপির জন্য এক কঠিন সিদ্ধান্ত। জামায়াতকে বাদ দিলে মাঠে বড় শক্তি ক্ষয় হবে দলটির, ফলে আন্দোলনে সরকারের সাথে কুলাতে পারবে না বিএনপি। আবার তাদের সাথে নিলে বিদেশে সমর্থন পাবে না বিএনপি। কারণ জামায়াত চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের দল। উভয় সংকটে পড়া বিএনপি ভবিষ্যতে কি করবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

 

 



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি