মঙ্গলবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » বঙ্গবন্ধুকে ‘শ্রদ্ধেয় নেতা’ বলায় তারেকের রোষানলে ফখরুল!



বঙ্গবন্ধুকে ‘শ্রদ্ধেয় নেতা’ বলায় তারেকের রোষানলে ফখরুল!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
28.08.2021

নিউজ ডেস্ক: সত্য কিংবা আগুন কোনটাই কখনও চাপা থাকে না। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূয়সী প্রশংসা করলেন। আর এ খবর লন্ডনে পলাতক ফেরারি আসামি ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কানে পৌঁছতেই তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। বলেছেন, এর ফল ফখরুলকে ভোগ করতে হবে।

দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্যমতে, ২৮ আগস্ট (শনিবার) রাজধানীতে দলের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির তৃতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি ও দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বঙ্গবন্ধুকে ‘শ্রদ্ধেয় নেতা’ বলে সম্বোধনের পর থেকেই দলের অভ্যন্তরে বইছে সমালোচনার ঝড়। বিএনপি নেতৃবৃন্দের অধিকাংশের প্রশ্ন, তবে কি ফখরুল সরকারের অনুকম্পা পেতেই এমনটি করছেন?

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, ফখরুলের এমন বক্তব্যে রহস্যের গন্ধ পাওয়া যায়। কারণ, তিনি দলে ‘খালেদা পন্থী’ হওয়ায় তারেকের নেতৃত্বে খুব একটা সুবিধা করতে পারছেন না। তাকে নানাভাবে খুশি করার চেষ্টা করলেও তারেক আস্থা রাখছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর উপর। শোনা যাচ্ছে, পরবর্তী জাতীয় কাউন্সিলে ফখরুলকে হটিয়ে তাকেই মহাসচিব করবেন তারেক। এসমস্ত আলামত দেখে ও খালেদা জিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনা করে তিনি এখন বঙ্গবন্ধু বন্দনায় মেতেছেন। তবে এতে ক্ষতি বৈ লাভ হবে না। কারণ, আওয়ামী লীগে তার কোনদিনই ঠাঁই হবে না। উপরন্তু দল ও তারেকের কাছে তিনি তার পূর্ণ গ্রহণযোগ্যতা হারাবেন। এতে তার আম ও ছালা উভয়ই যাবে।

মির্জা ফখরুলের এমন ‘বঙ্গবন্ধু বন্দনা’ দেখে যারপরনাই ক্ষুব্ধ তারেক রহমান। লন্ডনের কিংস্টনভিত্তিক সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রচণ্ডভাবে রেগে আছেন ফখরুলের উপর। বলেছেন, তিনি এর শেষ দেখে ছাড়বেন। হতে পারে তিনি পদচ্যুতও হওয়ার পাশাপাশি দলের সদস্যপদও হারাবেন।

বাংলানিউজ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কথা বলতে যোগাযোগ করা হয় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, আমি যা-ই করিনা কেন তাতেই দোষ। বঙ্গবন্ধু নিঃসন্দেহে শ্রদ্ধেয় নেতা। আর তাকে সম্মান জানানোটা যদি আমার অপরাধ হয়, তবে আমি অপরাধী। এর জন্য যদি আমাকে কোন শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়, আমি তা সানন্দে গ্রহণে প্রস্তুত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সত্য কখনো লুকানো যায় না। একদিন না একদিন তা প্রকাশিত হবেই। মির্জা ফখরুলের ক্ষেত্রেও তেমনটা হয়েছে। তিনি বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধেয় নেতা বলেছেন। আর তাতেই পিত্তি জ্বলে যাচ্ছে তারেক রহমানের। কারণ, অপ্রিয় সত্য তিনি কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। মেনে নিতে পারছেন না ফখরুলের এই ওদ্ধত্যকে। বলছেন এর কঠোর বিচার করবেন তিনি। প্রয়োজনে দল থেকে তাকে বেরও করে দেবেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি