বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » জিয়ার লাশের পেছনে ছুটছে বিএনপি, সময় ঘনিয়ে আসছে খালেদার জেলে যাবার



জিয়ার লাশের পেছনে ছুটছে বিএনপি, সময় ঘনিয়ে আসছে খালেদার জেলে যাবার


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
29.08.2021

নিউজ ডেস্ক: ‘চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের লাশ যে নেই, তা খালেদা জিয়াসহ বিএনপির নেতারাও ভালো করে জানেন’ সম্প্রতি এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর থেকেই সমালোচনায় মুখোর বিএনপি ভুলে গেছেন তাদের দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের কথা। তার জেলে যাবার সময় ঘনিয়ে আসলেও জিয়ার লাশের পেছনেই ছুটছে তারা।

আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার তৃতীয় দফা জামিনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা প্রয়োগ করে সরকার বিশেষ বিবেচনায় তাকে জামিন দিয়েছেন। এই জামিনের মেয়াদ বাড়বে কি বাড়বে না এ নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নানারকম আলাপ-আলোচনা চললেও গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকারকে হটানোর পরিকল্পনা করছে দলটি। সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যেতে চেষ্টা করছে দল গোছাতে। অথচ খালেদার মুক্তি বা জামিনের জন্য নেই কোনো তোড়জোড়।

জানা যায়, ইতিমধ্যে বেগম খালেদা জিয়ার ১১টি মামলা আগামী অক্টোবরে শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার ভুয়া জন্মদিন এবং যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেয়ার অভিযোগে মামলা দুটির শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। আরও জানা যায়, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৪টি মামলাই আস্তে আস্তে সচল হচ্ছে। যা নিয়ে শঙ্কিত জিয়া পরিবারের সদস্যরাও।

এ রকম বাস্তবতায় সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত হয়তো বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ আর বৃদ্ধি করা হবে না।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, দুর্নীতির দুটি মামলায় খালেদা জিয়া মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত।

এ দিকে হঠাৎ করে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। শুক্রবার (২৭ আগস্ট) বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, ‘চন্দ্রিমা উদ্যানে কী কারণে মাতম করেন? কাঠের বাক্সের মধ্যে জিয়াউর রহমানের লাশ ছিল সেটা প্রমাণ করেন? চট্টগ্রাম থেকে যে কাঠের বাক্সটি এসেছিল সেই বাক্স খুলে তার স্ত্রী খালেদা জিয়াকেও দেখানো হয়নি।’

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে একমাত্র জীবিত আছেন মেজর মোজাফফর। এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছিলেন, তিনি জিয়াউর রহমানের লাশ চিনতে না পারলেও অনুমান করে নিয়ে গিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এর আগেও জিয়ার লাশ নিয়ে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হয়েছে। জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী হলেও তিনি দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা। তার মরদেহ নিয়ে এমন অস্বস্তিকর বিতর্কের অবসান সকলের কাম্য। এক্ষেত্রে কবর থেকে দেহাবশেষ নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষাই এখন একমাত্র সমাধান। আর সরকারই এ উদ্যোগ নিতে পারে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি