বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১



নড়বড়ে বিএনপি এখন কোনদিকে হাঁটবে?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
02.09.2021

নিউজ ডেস্ক: চার দশক পার করা বিএনপির নেতা-কর্মীদের অনেকে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের নানা হিসাব-নিকাশে দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। সরকার দলের রাজনৈতিক কৌশলের কাছে বারবার পরাজিত দলটি আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিবে নাকি আন্দোলনে মনোযোগী হবে। জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে গোপনে সম্পর্ক বজায় রাখবে না প্রকাশ্যে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নীতি কী হবে। রাজনৈতিক দল হিসেবে কোন নীতিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখবে। এমন গুরুত্বপূর্ণ অনেকগুলো বিষয় এখনো স্পষ্ট নয় বিএনপির রাজনৈতিক নীতি-কৌশলে।

এছাড়া দল পুনর্গঠন, নেতৃত্বসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। প্রশ্ন উঠেছে, সমস্যায় জর্জরিত দলটি এখন কোনদিকে হাঁটবেন?

পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি এখন অনেকটা দিশাহীন অবস্থার মধ্যে আছে। রাজনীতিতে বিএনপি এখন বিশেষ ভূমিকায় নেই। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের দিকটি এখনো স্পষ্ট নয়। কাটেনি দলের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাও। এর মধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে এই নির্বাচন হওয়ার কথা। তখন বিএনপির বয়স হবে ৪৫বছরেরও বেশি। কিন্তু ওই নির্বাচনের জন্য বিএনপি কতটা প্রস্তুত?এই প্রশ্ন দলটির নেতা-কর্মীদেরই।

বহুদিন ধরে বিএনপিতে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের কাজ চলছে। পাশাপাশি ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলেরও পুনর্গঠন চলছে। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় এই পুনর্গঠন হচ্ছে, তা দলকে সংগঠিত করার পরিবর্তে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে বলে মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের অনেকে অভিযোগ তুলছেন। যার সর্বশেষ দৃষ্টান্ত গত আগস্ট মাসে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহস্বেচ্ছাসেবা-বিষয়ক সম্পাদক সামসুজ্জামানসহ সিলেটে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের দেড় শতাধিক নেতার পদত্যাগ। স্বেচ্ছাসেবক দলের সিলেটে জেলা ও মহানগর কমিটিতে ‘ত্যাগীরা মূল্যায়ন না পাওয়ার’ অভিযোগ তুলে এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটে।

বিএনপির সূত্র জানায়, দলে শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনায় গঠিত একাধিক প্রতিনিধিদল এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় যুক্ত। তারা এলাকায় গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে কমিটি করছে। কিন্তু এই পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ-অসন্তোষ চরম।

নির্বাচন নাকি আন্দোলন কোন পথের ছক কষছে বিএনপি। বাংলা নিউজ ব্যাংক বিএনপি সূত্রগুোর সাথে কথা বলে জানতে পেরেছে, এখন পর্যন্ত দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের কাছেও এ তথ্য অজানা।

দলের সাংগঠনিক বিষয়ে ভালো খোঁজ রাখেন উচ্চপর্যায়ের এমন এক নেতার পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, বর্তমানে মাঠপর্যায়ে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর যে কমিটি দেওয়া হচ্ছে, তাতে তার মনে হয়েছে এর লক্ষ্য নির্বাচন, আন্দোলন নয়।

কিন্তু বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলা নিউজ ব্যাংককে বলেছেন, এখন নিশ্চিতভাবে আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার আন্দোলন। এর লক্ষ্য পক্ষপাতহীন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করা।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত আছে বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীন আর কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার। কিন্তু এ লক্ষ্যে আন্দোলন এবং নির্বাচন কোনোটিরই প্রস্তুতি নেই বিএনপিতে। এমনকি গত তিনটি নির্বাচনের বিষয়ে দলের এমন কোনো গবেষণা বা পর্যালোচনা নেই, যার নিরিখে আগামীতে আন্দোলন বা নির্বাচনে সফল হওয়ার মতো কৌশল নিতে পারে। তাই আগামী সংসদ নির্বাচনে সরকারি দল কী ধরনের কৌশল নিতে পারে, তা-ও আন্দাজ করতে পারছেন না বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি এখন একটা গোলকধাঁধার মধ্যে আছে। তারা আত্নবিশ্বাস হারিয়ে ফেলায় দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যাই কাটিয়ে উঠতে পারছেন না। যার ফলে পদে পদে বঞ্চনার শিকার হচ্ছে দলটি। আর এ সবকিছুর মূল কারণ হিসেবে তারা দেখছেন- যোগ্য নেতৃত্বের অভাবকে। সঠিক নিদের্শনার অভাবে নেতাকর্মীরা বুঝতে পারছে না- বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কোনদিকে হাঁটা উচিত তাদের।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি