বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১



তারেকের কাছে যেতে বাধা পাওয়ায় ক্ষুব্ধ রুমিন ফারহানা!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
04.09.2021

ডেস্ক রিপোর্ট: লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে যাওয়া আসার সময় বাধার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন দলটির সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, সাত–আট বছর ধরে নিয়মিত লন্ডনে যাই। যাওয়ার সময় ঢাকায় এবং লন্ডন থেকে ফেরার সময় কয়েকজন লোক আমাকে হেনস্তা করে। কিন্তু আমি একজন সংসদ সদস্য হলেও সেই বিষয়ের কোন প্রতিকার পাইনি। রুমিনের প্রশ্ন, তার নেতার কাছে যাতায়াতে কেন তাকে বাধা দেওয়া হবে?

শনিবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দেওয়া বক্তব্যে এই অভিযোগ করেন রুমিন ফারহানা।

রুমিন ফারহানা বলেন, সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘জনস্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বাধানিষেধ সাপেক্ষে বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধ চলাফেরা, ইহার যেকোনো স্থানে বসবাস ও বসতি স্থাপন এবং বাংলাদেশ ত্যাগ ও বাংলাদেশে পুনঃপ্রবেশ করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে।’

সংরক্ষিত মহিলা আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকে তারেক রহমানের সাথে নানা বিষয়ে কথা বলা, দলের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে পরিকল্পনার জন্য আমাকে নিয়মিত লন্ডনে যেতে হয়। আমার দুর্ভাগ্য, সাত-আট বছর ধরে যতবারই আমি লন্ডনে যাওয়ার চেষ্টা করেছি ততবারই বাধার শিকার হয়েছি। কিন্তু আমি জানি না কারা তারেক রহমানের সাথে দেখা করতে বাধা দেয়। একজন সংসদ সদস্য হয়ে আমি সরকারের কাছে জানতে চাই তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাতে আমাকে কে বাধা দেয়।’

সূত্র জানায়, বিএনপিতে আরও সিনিয়র এবং গুরুত্বপূর্ণ নারী নেত্রী থাকার পরেও রুমিন ফারহানা সংসদ সদস্য হয়েছেন শুধুমাত্র তারেক রহমানের সৌজন্যে। সংরক্ষিত মহিলা আসনের জন্য যখন বিএনপির কাছে নাম চাওয়া হয়েছিল তখন সবাই ভেবেছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস কিংবা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদকে এগিয়ে রেখেছিলেন সবাই। কিন্তু কোন এক অজ্ঞাত কারণে হটাৎ জানা যায় তাদের দুইজনের তুলনায় অনভিজ্ঞ হলেও রুমিন ফারহানাই হচ্ছেন বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য। পরে জানা যায় তারেকের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই এর কারণ।

বিএনপির লন্ডন সূত্র জানায়, নিয়মিত লন্ডনে গিয়ে তারেকের সাথে একান্তে বিভিন্ন হোটেলে সময় কাটানোর পুরস্কার হিসেবে সংসদ সদস্য হয়েছেন রুমিন। এখনও মাঝে মাঝে আসেন তারেক রহমানের সাথে দেখা করতে। রুমিন সংসদ সদস্য হওয়ায় ক্ষুব্ধ হন শামা ওবায়েদ। ফলে বিভিন্ন সময় তিনি রুমিনকে লন্ডনে যাওয়ার পথে বাধার সৃষ্টি করেন। ওদিকে তারেক রহমানের বউও বিষয়টি জানেন। তাই মাঝে মাঝে লন্ডনেও রুমিনকে তারেকের সাথে দেখা করতে বাধা দেন তিনি। এসব বিষয় জানলেও ইচ্ছাকৃত গোপন রেখেছেন রুমিন ফারহানা।

বিএনপি নেত্রী আফরোজা আব্বাস বলেন, আমরা এতদিন রাজনীতি করেও এমপি হতে পারলাম না। আবার কেউ এত দ্রুত এমপি হয়ে গেল। এসব নিয়ে কথা বলতেও ভালো লাগে না। কিন্তু কেউ যখন নাম ফুটানোর জন্য অদ্ভুত অভিযোগ করে তখন না বলেও উপায় থাকে না। সবাই জানে সে লন্ডনে কই যায়, কি করে। আর তাকে কে বাধা দেয় সেসবও দলের ভেতরের লোকরা জানে। এসব নিয়ে অযথা নাটকের মানে দেখি না।

 

 

 



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি