মঙ্গলবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১



বিএনপি-জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জঙ্গি প্রশিক্ষণ


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
05.09.2021

নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে মরিয়া বিএনপি-জামায়াত জোট আগামী সংসদ নির্বাচনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোকে ভোট ব্যাংক হিসেবে পেতে চেয়েছিল। তাই তাদের অবৈধভাবে নাগরিকত্ব দেবার গোপন মিশন হাতে নিয়েছিল এই জোট। সে মিশন ভেস্তে যাবার পর জামায়াতের অর্থায়নে পরিচালিত এনজিওগুলোর মাধ্যমে কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়ার ক্যাম্পগুলো থেকে বাছাইকৃত রোহিঙ্গাদের দেওয়া হচ্ছে জঙ্গি প্রশিক্ষণ।

বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে বাংলা নিউজ ব্যাংক জানতে পেরেছে, এসব ক্যাম্প এখন জঙ্গিদের নিরাপদ ঘাঁটি। দুর্গম অরণ্যে গড়ে তোলা হয়েছে প্রশিক্ষণকেন্দ্র। ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জঙ্গিদের সংগঠিত করে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে রোহিঙ্গা জঙ্গি সংগঠনগুলো। যাদের অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে জামায়াতে ইসলাম। তাদের অর্থয়ানে পরিচালিত দেশি-বিদেশি এনজিওর মাধ্যমে জঙ্গিদের সহযোগিতা করছে তারা।

এর আগে রোহিঙ্গা শিবিরে জঙ্গিদের অর্থ সহায়তার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় জামায়াতের মুসলিম এইড, মুক্তিসহ ৭-৮টি এনজিওর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। তারপরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি এড়িয়ে পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে জঙ্গিরা। তাদের সহায়তায় দিন দিন আরো শক্তিশালী হচ্ছে জঙ্গিরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, টেকনাফ-উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর ম্যানেজমেন্ট বা মাঝির দায়িত্বে থাকা অধিকাংশ রোহিঙ্গাই জঙ্গিনেতা। নিষিদ্ধ রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও), আরাকান মুভমেন্ট, আরাকান পিপলস ফ্রিডম পার্টি, আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (এআরএনও), হরকাতুল জিহাদসহ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন এখন প্রশাসনের দৃষ্টি এড়িয়ে গ্রুপ হয়ে কাজ করছে। যাদের পেছনে রয়েছে বিএনপি-জামায়াতের মতো বড় রাজনৈতিক শক্তি।

জামায়াতের বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে জানা যায়, আফগানিস্তানে তালেবানে বিজয়ে অনুপ্রাণিত জামায়াতে ইসলাম তাদের মতো একটি শক্তিশালী দল গঠন করতে চাইছে। শক্তিশালী নিজস্ব বাহিনী থাকলে ক্ষমতায় যাওয়া সহজ হবে ভেবে তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে বেছে নিয়েছে। সরকারের জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় রাজধানী এবং জেলা-উপজেলা শহরে সুবিধা করতে না পেরে রোহিঙ্গা জঙ্গিনেতাদের কাজে লাগাচ্ছে।

আরও জানা যায়, কক্সবাজার সদরের ঝিলংজার মহুরীপাড়ায় ইমাম মুসলিম ইসলামিক সেন্টার, শহরতলীর কলাতলী আদর্শ শিক্ষা নিকেতন, দক্ষিণ মহুরীপাড়া আদর্শ শিক্ষা নিকেতন, ঈদগাঁও মারুফ মাদরাসাসহ জেলা শহর ও পার্শ্ববর্তী পার্বত্য অঞ্চলে অন্তত ১৪-১৫টি মাদরাসা পরিচালিত হচ্ছে জঙ্গিদের অর্থে। যার পেছনে রয়েছে বিএনপি-জামায়াত।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান জানিয়েছেন, সীমিত লোকজন দিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করছে পুলিশ। রোহিঙ্গা ক্যাম্প অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকা। এখানে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নজরদারি রয়েছে- তাই পুলিশ সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া ক্যাম্পে অভিযান চালায় না। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা এ সুযোগ নিতে পারে।

তিনি আরো জানান, রোহিঙ্গাদের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তাদের কাছেও রয়েছে। ক্যাম্পগুলোতে এখন নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে কতিপয় প্রভাবশালী নেতার পৃষ্ঠপোষকতায় এসব রোহিঙ্গা জঙ্গি অপরাধ করেও বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, রোহিঙ্গা জঙ্গিগোষ্ঠী দ্বারা পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঢাল হিসেবে সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে আছেন এসব নেতারা।

উল্লেখ্য, এসব রোহিঙ্গা জঙ্গি সংগঠন ও জামায়াত-বিএনপি মিলে ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রামু, কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও টেকনাফের ১৯ বৌদ্ধ বিহার, মন্দির ও দুই শতাধিক বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছিল। ওই ঘটনায় ২৫টি মামলায় ২৫০০ জনকে আসামি করে মামলা হয়।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি