মঙ্গলবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » বিএনপির নাইকো দুর্নীতি যেভাবে রাষ্ট্রকে কলঙ্কিত করেছিলো



বিএনপির নাইকো দুর্নীতি যেভাবে রাষ্ট্রকে কলঙ্কিত করেছিলো


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
06.09.2021

নিউজ ডেস্ক: বিএনপি নামটি উচ্চারিত হলেই চোখের সামনে অদৃশ্যভাবে ভেসে ওঠে দলটির শাসনামলের দুর্নীতি, জঙ্গি-সন্ত্রাস তৎপরতা ও নারকীয় হত্যাযজ্ঞের চিত্র। নিজেদের আখের গোছানোর লোভে সেসময় বিএনপি নেতারা নির্মোহভাবে লুটতরাজ করেছেন দেশের বিভিন্ন খাত থেকে। দুর্নীতির টাকায় দেশ-বিদেশে গড়েছেন অঢেল সম্পত্তির পাহাড়। সেই দুঃশাসনকালের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হলো নাইকো দুর্নীতি কেলেঙ্কারি। যা আজও মানুষের মুখে ঘুরে ফিরে।

বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ ও দায়িত্বশীল একটি সূত্র মারফত জানা গেছে, দুর্নীতি এবং বিএনপি একে অপরের সমার্থক শব্দ। তারা তাদের শাসনামলে দেশ ও দশের কথা না ভেবে শুধু ভেবেছেন নিজেদের কথা। আর এ কারণে ঘটেছে বড় বড় দুর্নীতির ঘটনা। তেমনই এক দুর্নীতির নাম নাইকো কেলেঙ্কারি। ২০১১ সালের ২৩ জুন কানাডার একটি আদালত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তার সরকারের জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসাইনের দুর্নীতি মামলার বিষয়ে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ পেয়েছিল। মোশাররফ কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকো’কে অনৈতিকভাবে সুবিধা দেয়ার বিনিময়ে একটি দামি গাড়ি উপহার পেয়েছিল। যার আর্থিক মূল্য ছিল কানাডিয়ান ডলারে ১,৯০,৯৮৪ ডলার। এর পাশাপাশি নাইকো আরো ৫ হাজার কানাডিয়ান ডলার ঘুষ দিয়েছিল মোশাররফকে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের জন্য। মূলত নাইকো মোশাররফ হোসাইনকে ঘুষ দিয়েছিল যাতে তারা বাংলাদেশ থেকে তাদের ঠিক করা দামে গ্যাস কেনার পাশাপাশি তা যথেচ্ছা বিক্রি করতে পারে। একইসঙ্গে গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণের কারণে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত জরিমানা যেন আরো কমানো হয়।

এ ঘটনায় ২০১৭ সালের ২৪ আগস্ট বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট রিট পিটিশনের (পিটিশন নাম্বার: ৫৬৭৩) রায় দেন। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেন পুলিশ, এফবিআই এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের সমস্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, ২০০৩-০৬ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রীত্বকালীন সময়ে নাইকোর কাছ থেকে বড় ধরনের ঘুষ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছিল অনৈতিকভাবে তাদের সুবিধা দেয়ার নামে।

বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আদেশের লক্ষণীয় বিষয় হলো, নাইকো একেবারে নির্লজ্জভাবে ঘুষ দিয়েছিল। নাইকোর এজেন্ট কাশিম শরীফকে ৪ মিলিয়ন ডলার দিয়েছিল এবং ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভুঁইয়ার মাধ্যমে ৫ লাখ ডলার দিয়েছিল। আর নাইকো তাদেরকে পরামর্শক হিসেবে এইসব টাকা দিয়েছিল যা তৎকালীন সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্তাদের প্রদান করতে এবং তাদের সাথে যারা যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিলেন তাদেরকে দিতে।

রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেন পুলিশ এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই’র তথ্যপ্রমাণ মতে, নাইকো তাদের বাংলাদেশী এজেন্টদেরকে সুইস ব্যাংকের মাধ্যমে প্রথমে বার্বাডোজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কাশিম শরিফ এবং সেলিম ভুঁইয়ার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকাগুলো দেন। পরে ওই টাকা চলে যায় তারেকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের অ্যাকাউন্টে।

এ বিষয়ে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি কখনোই জনমানুষের দল ছিলো না। থাকলে তারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির নামে নাইকো কেলেঙ্কারির মত এমন বড় বড় দুর্নীতি করতো না। আসলে তাদের নেতাকর্মীরা ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন, মানুষের সেবা নয় বরং নিজের আখের গোছানোর ধান্দায়। মূল কথা হচ্ছে, তারা রাজনীতিটাকে ব্যবসা ভাবেন, এ কারণেই বিএনপি নেতারা দুর্নীতি করে যান অবলীলায়, অকুণ্ঠচিত্তে। যার সাম্প্রতিক উদাহরণও বিদ্যমান। দলটির চেয়ারপারসন প্রমাণিত দুর্নীতি মামলায় ২৫ মাস কারাভোগ শেষে সরকারের মহানুভবতায় সাময়িক মুক্তি পেয়ে বর্তমানে গুলশানের বাসায় আছেন। এ থেকে সহজেই অনুমেয়, দুর্নীতি বিএনপির রন্ধ্রে রন্ধ্রে-শিরায় শিরায়।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি